Posts

Showing posts from November, 2024

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (৪০) আসমানের কান্না

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ৪০  আসমানের কান্না— মদীনা মনোয়ারায় এক বার দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। বৃষ্টি মোটেই হচ্ছিলনা। জনসাধারন উম্মুল মোমেনীন হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রাদিআল্লাহু আনহা) এর খেদমতে ফরিয়াদ নিয়ে হাজির হলো। হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রাদিআল্লাহু আনহা) ফরমালেন, হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর রওজা পাকের ছাদে একটি ছিদ্র করে দাও, যেন আসমান ও রওজা পাকের মাঝখানে কোন কিছু আড়াল হয়ে না থাকে।  পরামর্শ মুতাবেক লোকেরা তাই করলো। তখন এমন বৃষ্টি হলো যে ক্ষেতসমূহ শষ্য শ্যামল হয়ে গেল, পশু পাখী মোটা তাজা হয়ে গেল। মুহাদ্দেসীনে কিরাম বলেন যে, আসমান যখন নুরানী কবর দেখলো, তখন কেঁদে দিয়েছিল। (মিশকাত শরীফ ৫২৭ পৃঃ) সবক: আমাদের হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর ফয়েজ বেছালের পরও যথাযত জারী আছে। হুযুরের রওজা পাক জেয়ারতের দ্বারা প্রত্যেকের চক্ষু অশ্রু ভারাক্রান্ত হয়ে যায়, আল্লাহ থেকে কিছু পাওয়ার জন্য হুযুরের উসীলা প্রয়োজন। -------------------

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (৩৯) রওজা মুবারক থেকে আযানের আওয়াজ

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ৩৯  রওজা মুবারক থেকে আযানের আওয়াজ— যে সময় ইয়াজিদ বাহিনী মদীনা মনোয়ারা আক্রমন করেছিল, সে সময় তিন দিন মসজিদে নববীতে আযান হতে পারেনি। হযরত সাঈদ বিন মুসাইব (রাদিআল্লাহু আনহু) এ তিন দিন মসজিদে নববীতে ছিলেন। তিনি বলেন, নামাযের ওয়াক্ত কখন হতো তা জানার কোন সুযোগ আমার ছিল না। তবে যখন নামাযের সময় হতো তখন রওজা মুবারক থেকে আযানের মৃদু আওয়াজ ভেসে আসতো। (মিশকাত শরীফ ৫৩৭ পৃঃ) সবক : আমাদের হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) রওজা মুবারকে জীবিত আছেন, যারা (মাযাল্লা) বলে যে হুযুর মরে মাটির সাথে মিশে গেছেন, তারা বড় জাহেল ও রসূলের সাথে বেয়াদবীকারী। -------------------------

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (৩৮) রওজা মুবারক থেকে আওয়াজ

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ৩৮  রওজা মুবারক থেকে আওয়াজ— হযরত আলী (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেন, হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর দাফনের তিন দিন পর এক বেদুইন রওজা মুবারকে হাজির হয়ে রওজাার সামনে পতিত হয়ে রওজা শরীফের মাটি স্বীয় মাথায় দিতে লাগলো এবং বলতে লাগলো, ইয়া রসুলল্লাহ! আপনি যা কিছু বলেছেন, তা আমরা শুনেছি। আপনার মুখে আমরা যারা নিজেদের নফসের প্রতি জুলুম করে আপনার সমীপে হাজির হয়। অতএব হে আল্লাহ রসূল! আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি এবং এখন গুনাহ মাফের জন্য আপনার সমীপে হাজির হয়েছি। বেদুইন এ কথা বলার সাথে সাথে রওজা মুবারক থেকে আওয়াজ আসলো, যাও, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। (হুজাতুল্লাহে আলাল আলামীন ৭৭৭ পৃঃ) সবক: আমাদের হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর রহমতের দরবার বেছাল শরীফের পরও যথারীতি চালু রয়েছে। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) স্বীয় বেছালের পরও গুনাহগারদের জন্য নাজাতের উসীলা এবং ফয়েজ ও বরকতের উৎস হিসেবে বিদ্যমান। এখনও আমরা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর মুখাপেক্ষী...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (৩৭) হুযুর (স.) এর গোসল মুবারক

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ৩৭  হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর গোসল মুবারক— হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর গোসল মুবারকের সময় সাহাবায়ে কিরাম চিন্তা করতে লাগলেন এবং পরস্পর আলোচনা করতে লাগলেন যে, যেভাবে অন্য লোকদের কাপড় খুলে গোসল দেয়া হয়, হুযূরকে কি সেভাবে কাপড় মুবারক খুলে গোসল দেয়া হবে, নাকি কাপড়সহ গোসল দেয়া হবে। এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। হঠাৎ সবের উপর ঘুমের আবির্ভাব হলো এবং সবের মাথা বুকের উপর ঝুকে পড়লো। অতপর সবার কানে একটি আওয়াজ আসলো, কোন একজন বলছিল, তোমরা জাননা? ইনি কে? সাবধান! ইনি আল্লাহর রসুল। ওনার কাপড় খুলবে না, ওনাকে কাপড় সমেত গোসল দাও। অতঃপর সবার চোখ খুলে গেল এবং হুযূরকে কাপড় সমেত গোসল দেয়া হলো। (মওয়াহেবে লদুনিয়া ৩৭৮ পৃঃ ২ জিঃ) সবক: আমাদের হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর শান সবার থেকে আলাদা ও বৈশিষ্ট্যময়। তাঁর অনুরূপ কোন ব্যক্তি হতে পারে না। তাঁর জিন্দেগী, বেছাল শরীফ, গোসল শরীফ, তাঁর রওজা মুবারকের শান, মোট কথা তাঁর প্রতিটি বিষয় বৈশিষ্ট্যময়। কোন ব্যক্তি কোন বিষয়...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (৩৬) শাহী সংবর্ধনা

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ৩৬  শাহী সংবর্ধনা— হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর বেছাল শরীফের সময় জিব্রাইল আমীন উপস্থিত হলেন এবং আরয করতে লাগলেন, ইয়া রসুলল্লাহ! আজ আসমানসমূহে আপনার সংবর্ধনার প্রস্তুতি চলছে। আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের দারোগা হযরত মালেককে এ বলে নির্দেশ দিয়েছেন-মালেক! আমার হাবীবের রূহ মুবারক আসমানে তশরীফ আনতেছে। এ উপলক্ষে আজ দোযখের আগুন নিভায়ে দাও। জান্নাতের হুরদেরকে বললেন, তোমরা নিজেদের সাজসজ্জা কর এবং সমস্ত ফিরিশতাগণকে নির্দেশ দিলেন, মুস্তাফা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর রূহ মুবারকের সম্মানের জন্য সবাই কাতার বন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে যাও। আর আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন আপনার খেদমতে হাজির হয়ে আপনাকে এ সুখবর প্রদান করি যে, যতক্ষণ আপনি ও আপনার উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবেন না, ততক্ষণ সমস্ত নবী ও ওনাদের উম্মতগণের জন্য জান্নাত নিষিদ্ধ থাকবে এবং কাল কিয়ামতে আল্লাহ তাআলা আপনার উসীলায় আপনার উম্মতের উপর বখশীশ ও ক্ষমার এমন বারিধারা বর্ষন করবেন যে এতে আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন। (মুদারেজুন নবুয়াত ২৫৪ পৃঃ ...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (৩৫) হুযুর (স.) ও মালাকুল মউত

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ৩৫  হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ও মালাকুল মউত— হুযূর সরওয়ারে আলম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর যখন রেছাল শরীফের সময় হলো, তখন মৃত্যুর ফিরিশতা হযরত জিব্রাইলকে সাথে নিয়ে হাজির হলো। হযরত জিব্রাইল আমীন আরয করলেন, ইয়া রসুলল্লাহ! মৃত্যুর ফিরিশতা এসেছে এবং আপনার অনুমতি প্রার্থনা করছে। হুযূর, সে আজ পর্যন্ত কোন সময় কারো থেকে অনুমতি নেয়নি এবং আপনার পরেও কারো থেকে অনুমতি নেবে না। আরও বললেন, হুযূর! আপনি অনুমতি দিলে, সে স্বীয় কর্তব্য পালন করতে পারে।  হুযূর। ফরমালেন, মৃত্যুর ফিরিশতাকে সামনে আসতে বল। অতঃপর মৃত্যুর ফিরিশতা সামনে এগিয়ে এলেন এবং আরয করলেন, ইয়া রসুলল্লাহ! আল্লাহ তাআলা আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন এবং আমাকে এটা বলে দিয়েছেন যে আপনার প্রতিটি নির্দেশ যেন পালন করি এবং আপনি যা বলবেন, তাই করবো। অতএব আপনি যদি বলেন, তাহলে রূহ কবজ করবো অন্যথায় ফিরে যাব। হযরত জিব্রাইল আরয করলেন, হুযূর! আল্লাহ তাআলা আপনার বেছাল কাম্য করছেন। তখন হুযূর মৃত্যুর ফিরিশতাকে বললেন, হে মালাকুল মউত! তোমাকে ...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (৩৪) নেক আক্বীদাবান গাধা

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ৩৪  নেক আক্বীদাবান গাধা— খায়বর যুদ্ধ জয়ের পর হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে আসছিলেন। পথে তাঁর খেদমতে এক গাধা উপস্থিত হয়ে আরয করতে লাগলো, হুযূর! আমার আবেদনটি মেহেরবাণী করে শুনে যান। রহমতে আলম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এ অসহায় পশুর নিবেদন শুনার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন এবং ফরমালেন, কি বলতে চাও, বল।  গাধা বললো, হুযূর আমার নাম ইয়াযিদ বিন শাহাব। আমার পূর্ব পুরুষের বংশে আল্লাহ তাআলা ষাটটি গাধা পয়দা করেছিল। ও গুলোর উপর আল্লাহর নবীগণ আরোহন করেছেন। হুযূর, আমার আন্তরিক বাসনা হলো আপনিও যেন আমার উপর আরোহন করেন, ইয়া রসুলল্লাহ! আমি এ কথা বলার হকদারও বটে। কেননা আমার বংশের মধ্যে এখন আমি ছাড়া আর কেউ নেই এবং আল্লাহর রসুলের মধ্যেও এখন আপনি ছাড়া আর কেউ নেই। হুযূর গাধার এ মনোবাসনা শুনে ফরমালেন, ঠিক আছে, আমি তোমাকে আমার বাহন হিসেবে গ্রহণ করলাম এবং তোমার নামের পরিবর্তন করে ইয়াফুর রাখলাম। (হুজ্জাতুল্লাহে আলাল আলামীন ৪৬০ পৃঃ) সবক : একটি গাধাও হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (৩৩) নেকড়ে বাঘের সাক্ষ্য

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ৩৩  নেকড়ে বাঘের সাক্ষ্য— মদীনা মনোয়ারার কোন এক পাহাড়ী এলাকায় এক রাখাল ছাগল চড়াতে ছিল। হঠাৎ একটি নেকড়ে বাঘ এসে ছাগলের পালের ভিতর ঢুকে একটি ছাগল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। রাখাল ধাওয়া করে বাঘ থেকে ছাগলটি উদ্ধার করলো। বাঘ যখন দেখলো যে ওর শিকারটা কেড়ে নিয়ে নিল, তখন এক টিলার উপর উঠে সুস্পস্ট ভাষায় বলতে লাগলো, ওহে রাখাল! আল্লাহ আমাকে রিজিক দিয়েছিল কিন্তু আফসোস! তুমি তা আমার থেকে ছিনিয়ে নিলে। রাখাল বাঘকে কথা বলতে দেখে বিস্মিত হয়ে বললো আশ্চার্য ব্যাপার! বাঘও কথা বলে! বাঘ পুনরায় বললো, এর থেকে অধিক আশ্চর্যের বিষয় হলো যে মদীনা শরীফে এমন এক মহান ব্যক্তি রয়েছেন যিনি তোমাদেরকে যা কিছু হয়েছে এবং যা কিছু হবে মোট কথা আগে পরের সব বিষয়ের খবর দেন কিন্তু তোমরা উনার প্রতি ঈমান আননা। রাখাল লোকটি ইহুদী ছিল। বাঘের মুখে এ সাক্ষ্য শুনে খুবই প্রভাবিত হলো এবং হুযূরের বারগাহে হাজির হয়ে মুসলমান হয়ে গেল (মিশকাত শরীফ ৫৩৩ পৃঃ)। সবক : একটি পশুও জানে ও মানে যে, হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বিগত ও ভবিষ্যতের বিষয় জানে...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (৩২) রাতের চোর

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ৩২  রাতের চোর— একবার হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) হযরত আবু হোরাইরা (রাদিআল্লাহু আনহু) কে সদকায়ে ফিতরের মালামাল হেফাজতের জন্য নিয়োজিত করেছিলেন। হযরত আবু হোরাইরা দিনরাত সেই মালের হেফাজত করতে লাগলেন। এক রাতে এক চোর এসে মাল চুরি করতেছিল। হযরত আবু হোরাইরা ওকে দেখে ফেলেন এবং ধরে ফেলেন এবং বলেন আমি তোকে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর খেদমতে হাজির করবো। চোর কাকুতি মিনতি করে বললো, আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে ছেড়ে দিন। আমার পরিবার পরিজন আছে। আমি খুবই অভাবী। একথা শুনে হয়রত আবু হোরাইরার দয়া হলো এবং ওকে ছেড়ে দিলেন। সকালে আবু হোরাইরা যখন বারগাহে রেসালতে হাজির হলেন, তখন হুযূর মুচকি হেসে বললেন, আবু হোরাইরা, তোমার রাতের কয়েদী (চোর) কি বললো? আবু হোরাইরা আরষ করলেন, হুযূর সে স্বীয় পরিবার পরিজন ও অভাব অনটনের কথা বলায় আমার দয়া হলো। তাই ছেড়ে দিয়েছি। হুযূর ফরমালেন, সে মিথ্যা বলেছে। সাবধান থেকো, আজ রাতও সে পুনরায় আসবে। হযরত আবু হোরাইরা বলেন, দ্বিতীয় রাতও আমি ওর অপেক্ষায় রইলাম। দেখতে দেখতে ঠিক...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (৩১) দুগ্ধপোষ্য শিশুর সত্যবানী ঘোষণা

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ৩১  দুগ্ধপোষ্য শিশুর সত্যবানী ঘোষণা— হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) একবার সাহাবায়ে কিরামের সমাবেশে তশরীফ রেখেছিলেন। এমন সময় এক বিধর্মী মহিলা তার দুমাস বয়স্ক দুগ্ধ পোষ্য শিশুকে কোলে নিয়ে সেই দিক দিয়ে যাচ্ছিল। শিশুটি যখন হুযূরকে দেখলেন তখন একেবারে সুস্পষ্ট কণ্ঠে বলে উঠলেন: "হে আল্লাহর রসূল হে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানিত মখলুক! আপনার প্রতি সালাম"। মা তার দু'মাস বয়স্ক শিশুকে কথা বলতে দেখে বিস্মিত হয়ে গেল এবং শিশুকে জিজ্ঞেস করলো, বেটা তোকে এ কথা কে শিখিয়ে দিয়েছে? আর ইনি যে আল্লাহর রসুল তা তোকে কে বলে দিয়েছে? শিশু এবার মাকে সম্বোধন করে বলতে লাগলো, হে মা। এ কথা আমাকে সেই আল্লাহ শিখিয়েছেন, যিনি সকল মানুষকে এ ধরণের কথা বলার শক্তি দিয়েছেন এবং এ দেখুন আমার মাথার উপর জিব্রাইল দাঁড়িয়ে আছেন, যিনি আমাকে বলছেন যে ইনি আল্লাহর রসূল। মা এ অলৌকিক ঘটনা দেখে সংগে সংগে কালেমা পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেল। মাওলানা রুমী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) মছনবী শরীফে লিখেছেন, হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) শিশুকে ...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (৩০) এক বিধর্মিনীর ঘর

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ৩০  এক বিধর্মিনীর ঘর— হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের পর মক্কা মুয়াজ্জমার এক বিধর্মী মহিলার ঘরের দেয়ালে ঠেস দিয়ে তাঁর কোন এক খাদিমের সাথে কথা বলছিলেন। সেই বিধর্মী মহিলা যখন জানতে পারলো যে মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ওর ঘরের দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়েছেন, তখন সে হিংসা ও বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে ঘরের সব জানালা বন্ধ করে দিল, যেন সে হুযূরের কণ্ঠস্বর শুনতে না পায়। সেই মূহুর্তে জিব্রাঈল আমীন উপস্থিত হয়ে আরয করলেনঃ ইয়া রসুলল্লাহ! আল্লাহ তাআলা ফরমান, যদিওবা এ মহিলা অমুসলিম কিন্তু আপনার শানমান বড় মহৎ, অনেক উচ্চ। যেহেতু এ অমুসলিম মহিলার দেয়ালের সাথে আপনার পিঠ মুবারক লেগেছে, সেহেতু আমি চাই না যে এ গৃহিনী জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হোক। এ মহিলাতো স্বীয় ঘরের জানালাসমূহ বন্ধ করেছে কিন্তু আমি ওর অন্তরের জানালা খুলে দিয়েছি এবং এটা ওর দেয়ালে আপনার ঠেস দিয়ে দাঁড়ানোর বরকতেরই ফল। ইত্যবসরে সেই মহিলা অস্থির হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসলো এবং চিৎকার করে বললো আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লা...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (২৯) বনের হরিণী হুজুরকে চিনল

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ২৯  বনের হরিণী এক জংগলে এক হরিনী বাস করতো, ওর দুটি বাচ্ছা ছিল। একবার সে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়ে রাস্তার ধারে শিকারীর পাতানো জালে আটকে যায়। তখন সে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লো। ওর সুভাগ্য দেখুন, হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) সেই জংগল দিয়ে যাবার সময় ওর নজরে পড়লো। সে হুয়ূরকে দেখার সাথে সাথে ডাক দিয়ে উঠলো, ইয়া রসুলল্লাহ! আমার প্রতি দয়া করুন। হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ওর ডাক শুনে ওর কাছে গেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি সমস্যা? সে বললো, হুযূর আমি এ বেদুইনের জালে আটকে গেছি। আমার দুটি ছোট ছোট বাচ্ছা রয়েছে, এ পাহাড়ের কাছেই আছে। আপনি কিছুক্ষণের জন্য আমার জিম্মাদার হয়ে আমাকে ছেড়ে দিন যেন আমি শেষ বারের মত আমার বাচ্চাদেরকে দুধ পান করাতে পারি। হুযুর, আমি দুধ পান করায়ে ফিরে আসবো। হুযূর ফরমালেন, ঠিক আছে, আমি, জিম্মাদার হয়ে তোমাকে ছেড়ে দিলাম এবং তোমার জন্য এখানে অপেক্ষা করতেছি। তুমি বাচ্চাদের দুধ পান করায়ে তাড়াতাড়ি ফিরে এসো। শিকারী বেদুইনটি মুসলমান ছিল না। সে বলতে লাগলো, আমার শ...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (২৮) জান্নাতের উষ্ট্রী

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ২৮  জান্নাতের উষ্ট্রী— হযরত মওলা আলী (রাদি আল্লাহু আনহু) কোন একদিন বাহির থেকে ঘরে আসলে, হযরত ফাতিমা (রাদি আল্লাহু আনহু) বললেন, আমি এ সূতাগুলো কেটেছি। আপনি এগুলো বাজারে নিয়ে বিক্রি করে আটা কিনে আনুন, যেন হাসান-হোসাইনকে রুটি বানিয়ে খাওয়াতে পারি। হযরত আলী (রাদিআল্লাহু আনহু) সূতা বাজারে নিয়ে গেলেন এবং ছয় টাকায় বিক্রি করলেন। অতঃপর সেই টাকা দিয়ে কিছু ক্রয় করার মনস্থ করলেন। ইত্যবসরে এক ভিক্ষুক হাঁক দিল, (যে আল্লাহকে উত্তম কর্জ প্রদান করে) হযরত আলী (রাদি আল্লাহু আনহু) সেই টাকা সেই ভিক্ষুককে দিয়ে দিলেন। এর কিছুক্ষণ পর এক বেদুইন আসলো, ওর কাছে এক বড় মোটা তাজা উষ্ট্রী ছিল। সে বললো, হে আলী, এ উষ্ট্রীটি ক্রয় করবেন। হযরত আলী (র.) বললেন, আমার কাছে টাকা পয়সা নেই। বেদুইন বললো বাকীতে নিয়ে নাও-এ বলে উষ্ট্রীর রশি ওনার হাতে দিয়ে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর অপর আর একজন বেদুইন উপস্থিত হয়ে বললো, হে আলী, এ উষ্ট্রী বিক্রি করবেন? হযরত আলী বললেন, নিয়ে নাও। নগদ তিনশ নিন-এ বলে তিনশ দিয়ে বেদুইন উষ্ট্রীটি নিয়ে চলে গেল। এরপর হযরত আলী (রাদ...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (২৭) কবুতরের বাচ্ছা

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ২৭  কবুতরের বাচ্ছা— এক বেদুইন তার কাপড়ের আস্তিত্বের ভিতরে কিছু লুকায়ে হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর খেদমতে হাজির হলো এবং বললো, হে মুহাম্মদ! যদি তুমি বলতে পার যে আমার আস্তিনের ভিতরে কি আছে, তাহলে আমি স্বীকার করবো যে তুমি সত্যিকার নবী।  হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ফরমালেন, সত্যিই তুমি ঈমান আনবে? সে বললো হ্যাঁ, ঠিক! আমি ঈমান আনবো। হুযূর ফরমালেন, তাহলে, শুন, তুমি এক জংগল দিয়ে যাচ্ছিলে, পথের ধারে এক গাছ দেখলে, যেখানে কবুতরের বাসা ছিল। সেই বাসায় কবুতরের দুটি বাচ্ছা ছিল। তুমি বাচ্ছা দুটি ধরে যখন নিয়ে আসতে ছিলে, তখন স্ত্রী কবুতরটি তা দেখে তোমার উপর ঝাপিয়ে পড়ছিল তখন তুমি সেটাকেও ধরে ফেলেছ। এ মূহুর্তে সেই স্ত্রী কবুতর ও বাচ্ছাদ্বয় তোমার কাছে তোমার কাপড়ের আস্তিনের ভিতর লুকায়িত আছে। বেদুইন একথা শুনে বিস্মিত হয়ে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘোষনা করলো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয় আপনি আল্লাহর রসূল (জামেউল মুজিজাত ২১ পৃঃ)। সবক: আমাদের হু...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (২৬) বন্দী চাচা

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ২৬  বন্দী চাচা— বদরের যুদ্ধে আল্লাহ তাআলা যখন মুসলমানগণকে জয়যুক্ত করলেন এবং কাফিরদেরকে পরাভূত করলেন, তখন মুসলমানগণের হাতে যারা বন্দী হয়েছিল, তাদের মধ্যে হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা হযরত আব্বাস (রাদিআল্লাহ আনহু) ছিলেন। বন্দীদের থেকে যখন মুক্তিপণ দাবী করা হলো, তখন হযরত আব্বাস বললেন, হে মুহাম্মদ আমিতো গরীব, আমার কাছে তো কিছুই নেই। তুমি যখন আমাকে মক্কায় ত্যাগ করে চলে এসেছিলে তখন বংশের সবার থেকে আমি গরীব ছিলাম। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ফরমালেন, তা ঠিক, তবে আপনি যখন কাফিরদের সাথে বদরের যুদ্ধে আসার মনস্থ করলেন, তখন আপনি চাচী-উন্মে ফজলকে গোপন ভাবে যে স্বর্ণের পাতগুলো দিয়ে এসেছেন, সেটা গোপন করছেন কেন? হযরত আব্বাস (রাদি আল্লাহ আনহু) এ কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেলেন এবং হুযুরের এ অদৃশ্য জ্ঞান দেখে মুসলমান হয়ে গেলেন। (দলায়েলে নবুয়াত ১৭১ পৃঃ ২ জিঃ) সবক: আমাদের হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে কোন বিষয় গোপন নেই। আল্লাহ তাআলা হুযূরকে প্রত্যেক কিছুর জ্ঞা...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (২৫) হারানো উষ্ট্রী

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ২৫  হারানো উষ্ট্রী— তাবুকের যুদ্ধে হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর উষ্ট্রী হারিয়ে গিয়েছিল। এক মুনাফেক মুসলমানগণকে বললো, তোমাদের মুহাম্মদতো নবী দাবী করে এবং তোমাদেরকে আসমানের কথা শুনায়। অথচ তাঁর উষ্ট্রীর হদিস তাঁর কাছে নেই। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) যখন মুনাফেকের এ কথা শুনলেন, তখন ফরমালেন নিশ্চয়ই আমি নবী এবং আল্লাহ আমাকে অদৃশ্য জ্ঞান দান করেছেন। শুন, আমার উস্ত্রী অমুক জায়গায় দাঁড়ানো আছে। এক বৃক্ষের সাথে ওর নাকের রশি আটকে গেছে। যাও ওখান থেকে উষ্ট্রীটি নিয়ে এসো। নির্দেশমত সাহাবায়ে কিরাম গিয়ে দেখলেন যে, ঠিকই উষ্ট্রীটি সেই জায়গায় দাঁড়ানো ছিল এবং ওটার নাকের রশিটি এক বৃক্ষের সাথে আটকে গিয়েছিল। (যাদুল মুয়াবেস ৩ পৃঃ ৩ জিঃ হুজ্জাতুল্লাহে আলাল আলামীন ৫১০ পৃঃ) সবক: আমাদের হুযূরকে আল্লাহ তাআলা এতটুকু ইলমে গায়ব দান করেছেন যে, কোন বিষয় তাঁর কাছে লুকায়িত নেই। কিন্তু মুনাফেকরা তাঁর এ অদৃশ্য জ্ঞানকে অস্বীকার করে। -----------------------------

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (২৪) বায়তুল্লাহ শরীফের চাবি

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর  কাহিনী নং- ২৪  বায়তুল্লাহ শরীফের চাবি— হিজরতের আগে বায়তুল্লাহ শরীফের চাবি মক্কার কোরাইশ গোত্রের অধীনে ছিল। উসমান বিন তলহার কাছে এ চাবি থাকতো। সোমবার ও বৃহস্পতিবার বায়তুল্লাহ শরীফ খোলা রাখতো। একদিন হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এসে উসমান বিন তলহাকে দরজা খোলার জন্য বললেন, কিন্তু সে দরজা খুলতে অস্বীকার করলো। হুযূর ফরমালেন, হে উসমান, আজতো তুমি দরজা খুলতে অস্বীকার করছ, এমন এক দিন আসবে, তখন বায়তুল্লাহ শরীফের চাবি আমার কবজায় হবে, তখন আমি যাকে ইচ্ছে এ চাবি প্রদান করবো। উসমান বললো, সেই দিন কি কোরাইশ বংশের অস্তিত্ব থাকবে না? দেখা যাবে। অতঃপর হিজরতের পর যখন মক্কা বিজয় হলো এবং হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবায়ে কিরামের বিশাল বাহিনী নিয়ে বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ শরীফে তশরীফ নিয়ে গেলেন এবং চাবি রক্ষক উসমানকে ডেকে বললেন, চাবি আমাকে দিয়ে দাও। অগত্যা উসমানকে সেই চাবি দিয়ে দিতে হলো। হুযূর সেই চাবি হাতে নিয়ে উসমানকে লক্ষ্য করে বললেন, উসমান, লও, আমিও তোমাকে চাব...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (২৩) পাগলা উট

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর কাহিনী নং- ২৩  পাগলা উট— বনী নজারের বাগানে এক পাগলা উট কোথা হতে এসে আশ্রয় নিল। বাগানে যে কেউ গেলে, সেই উট ওকে কামড় দেয়ার জন্য দৌড়ে আসতো। লোকেরা বড় সমস্যায় পড়লো এবং হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর খেদমতে এসে সমস্ত ঘটনা আরয করলো। হুযূর ফরমালেন, চলো, আমি যাচ্ছি-এ বলে হুযূর সেই বাগানে তশরীফ নিয়ে গেলেন এবং সেই উটকে বললেন, এদিকে এসো। উট রসুলল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর নির্দেশ শুনা মাত্র দৌড়ে এসে হাজির হলো এবং হুযুরের কদম মোবারকের উপর মাথা রাখলো। হুযূর বললেন, এর নাফা (নাকের ভিতর যে রাশি পরানো হয়) নিয়ে এসো, নাফা আনা হলে হুযূর নিজেই নাফা পরায়ে এর মালিকের হাতে হস্তান্তর করলেন এবং উটটা মালিকের সাথে শান্তভাবে চলে গেল। অতঃপর হুযূর উপস্থিত সাহাবীগণকে ফরমালেন, কাফিরেরা ব্যতীত জমীন আসমানের অধিবাসী সবাই জানে যে আমি আল্লাহর রসূল। (হুজ্জাতুল্লাহে আলাল আলামীন ৪৫৮ পৃঃ)। সবক: আমাদের হুযুরের নির্দেশ জীব জন্তুর উপরও চলে। একমাত্র কাফিরেরা ব্যতীত সৃষ্টিকূলের প্রতিটি বস্তু আমাদের হুযূরের রেসালত ও সত্যবাদিত...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (২২) বৃক্ষরাজির উপর হুজুরের কর্তৃত্ব

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর কাহিনী নং- ২২  বৃক্ষরাজির উপর হুজুরের কর্তৃত্ব— একবার এক বেদুইন হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর খেদমতে এসে বললো, হে মুহাম্মদ! তুমি যদি আল্লাহর রসুল হও, তাহলে কোন একটা নমুনা দেখাও। হুযূর ফরমালেন, ঠিক আছে, দেখ, ঐ যে সামনে যে গাছটা খাঁড়া আছে, ওটার কাছে গিয়ে এতটুকু বল যে তোমাকে আল্লাহর রসূল ডাকছেন। কথামত সেই বেদুইন গাছটির কাছে গিয়ে বললো, তোমাকে আল্লাহর রসূল ডাকছেন। বৃক্ষটি এ কথা শুনে ডানে-বামে সামনে পিছে হেলিয়ে দুলিয়ে মাটি থেকে শিকড় আলগা করে চলতে চলতে হুযূরের খেদমতে হাজির হয়ে গেল এবং আরয করলো আস্সালামু আলাইকুম ইয়া রসূলুল্লাহ! বেদুইন লোকটি হুযূরকে বলতে লাগলো, আপনি গাছটিকে স্বীয় জায়গায় চলে যাবার জন্য বলল। অতএব হুযূর যখন ফরমালেন, যাও, ফিরে চলে যাও। বৃক্ষটি একথা শুনে পিছনের দিকে ঘুরে গেল এবং স্বীয় জায়গায় গিয়ে পুনরায় আগের মত খাঁড়া হয়ে গেল। বেদুইন লোকটি এ মুজিজা দেখে মুসলমান হয়ে গেল এবং হুযূরকে সিজদা করার অনুমতি চাইলো। হুযূর ফরমালেন সিজদা করা জাযেয় নেই। পুনরায় সে হুযূরের হাত পা মুবারকে চুমু দেয়ার অনুমত...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (২১) জমীনের উপর হুজুরের কর্তৃত্ব

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর কাহিনী নং- ২১  জমীনের উপর হুজুরের কর্তৃত্ব— হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) যখন হযরত ছিদ্দিকে আকবর (রাদিআল্লাহু আনহু)-কে সাথে নিয়ে মক্কা শরীফ থেকে হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হলেন, তখন মক্কার কোরাইশ ঘোষণা দিল যে, যে কেউ মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ও ওনার সাথী ছিদ্দিকে আকবর (রাদিআল্লাহু আনহু) কে গ্রেপ্তার করে আনতে পারবে, ওকে একশটি উট পুরস্কার দেয়া হবে। সোরাকা বিন জাশম এ ঘোষনা শুনা মাত্র তারদ্রুত গামী ঘোড়া নিয়ে বের হয়ে পড়লো। ঘোড়ার উপর বসে সে দম্ভভরে বললো আমার এ তেজী ঘোড়া মুহাম্মদ ও আবু বকরের পিছু নিবে এবং এক্ষুনি ওদের দুজনকে ধরে নিয়ে আসবো। এ বলে সে ঘোড়াকে দ্রুত হাকালো এবং অল্পসময়ের মধ্যে হুযুরের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। ছিদ্দিকে আকবর যখন দেখলো যে, সোরাকা ঘোড়া হাকিয়ে ওনাদের পিছু পিছু আসতেছে এবং প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, তখন তিনি হুযূরের কাছে আরয করলেন, ইয়া রসুলল্লাহ! সোরাকা আমাদেরকে দেখে ফেলছে, ঐ দেখুন, সে আমাদের পিছু পিছু আসতেছে। হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ফরমালেন, হে ছি...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (২০) সূর্যের উপর কর্তৃত্ব

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর কাহিনী নং- ২০  সূর্যের উপর কর্তৃত্ব— একদিন মকামে সুহবায় হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) জোহরের নামায আদায় করলেন। অতঃপর হযরত আলী (রাদিআল্লাহ আনহু)-কে কোন এক কাজের জন্য বাইরে পাঠালেন। হযরত আলী (রাদিআল্লাহু আনহু) ফিরে আসার আগে হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আসরের নামাযও পড়ে নিলেন। হযরত আলী যখন ফিরে আসলেন, তখন তাঁর কোলে পবিত্র মস্তক মুবারক রেখে হুযূর শুয়ে গেলেন, হযরত আলী কিন্তু তখনও আসরের নামায আদায় করেননি। এদিকে সূর্য ডুবন্ত অবস্থায় ছিল। হযরত আলী চিন্তা করতে লাগলেন যে, এদিকে রসূলে খোদা আরাম করছেন ওদিকে নামাযের ওয়াক্ত চলে যাচ্ছে। রসূলে খোদার আরামকে যদি প্রাধান্য দি, তাহলে নামাযের সময় চলে যায় আর নামায পড়তে চাইলে হুযূরের আরামের ব্যাঘাত হয়, কি করা যায়? শেষ পর্যন্ত মওলা আলী (রাদিআল্লাহু আনহু) এ সিদ্ধান্ত নিলেন যে নামায কাযা হোক কিন্তু হুযূরের ঘুমের ব্যাঘাত না হওয়া চায়। এ অবস্থায় সূর্য ডুবে গেল, আসরের ওয়াক্তও শেষ হয়ে আসলো। হুয়ুর জাগ্রত হয়ে হযরত আলীকে চিন্তাযুক্ত দেখে এর কারণ জানতে চাইলেন। হ...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (১৯) চাঁদের উপর কর্তৃত্ব

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর কাহিনী নং- ১৯  চাঁদের উপর কর্তৃত্ব— হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর শত্রুরা বিশেষ করে আবু জেহেল একবার হুযূরকে বললো, তুমি যদি সত্যই আল্লাহর রসুল হও, তাহলে আসমানের চাঁদকে দু' টুকরা করে দেখাও দেখি। হুযূর ফরমালেন, ঠিক আছে, এটাও করে দেখাচ্ছি। এ বলে তিনি যখন চাঁদের দিকে স্বীয় আঙ্গুল মুবারক দ্বারা ইশারা করলেন তখন চাঁদ দু'টুকরা হয়ে গেল। এটা দেখে আবু জেহেল আশ্চর্যন্বিত হয়ে গেল। কিন্তু বেঈমান তবুও এটা মেনে নিল না বরং হুযূরকে যাদুকর বলতে লাগলো, (বোখারী শরীফ ২৭১২ পৃঃ ২ জি )। সবক: আমাদের হুযুরের হুকুমত চাঁদের উপরও চলে। এত বড় ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সত্ত্বে বেঈমান লোকেরা হুযুরের এখতিয়ার ও কর্তৃত্বকে মানে না। -----------------------

সলামের বাস্তব কাহিনী (১৮) মেঘমালার উপর কর্তৃত্ব

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর কাহিনী নং- ১৮   মেঘমালার উপর কর্তৃত্ব— মদীনা মনোয়ারায় একবার বৃষ্টি না হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়ে ছিল। লোকেরা খুবই চিন্তিত হলো। এক জুমাবারে হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) যখন খুতবা দিচ্ছিলেন, এক বেদুইন দাঁড়িয়ে আরয করলো, ইয়া রসুলল্লাহ! ক্ষেত খামার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সন্তান-সন্ততি উপবাস থাকছে। আপনি দুআ করুন, যেন বৃষ্টি হয়। হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রিয় নুরানী হাত মুবারক উঠালেন (বর্ণনাকারীর বক্তব্য) আসমান তখন একেবারে পরিষ্কার ছিল। মেঘের কোন নাম নিশানা ছিল না।কিন্তু মদনী সরকারের হাত মুবারক উঠানো মাত্রই পাহাড়ের মত মেঘে ছেয়ে গেল। দেখতে দেখতে বৃষ্টি পড়তে লাগলো। হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তখনও মিম্বরে ছিলেন, ছাদ টপকিয়ে পানি পড়তে ছিল এবং হুযূরের দাঁড়ি মুবারক থেকে পানির ফোঁটা নিচে পড়তে ছিল। এ বৃষ্টি আর বন্ধ হয় না। পরবর্তী জুমার দিন হুযূর যখন খুতবা দিতে উঠলেন, তখন সেই বেদুইন, যে এর আগের জুমায় বৃষ্টি না হওয়ার কারণে কষ্টের কথা আরয করেছিল, দাঁড়িয়ে আরয করলো, ইয়...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (১৭) এক মরুযাত্রী কাফেলা

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর কাহিনী নং- ১৭  কাহিনী নং - ১৭  এক মরুযাত্রী কাফেলা— আরবের মরুভূমির মধ্যে দিয়ে এক বিরাট কাফেলা যাচ্ছিল, হঠাৎ ওদের পানি শেষ হয়ে যায়। সেই কাফেলায় বড়, ছোট, বৃদ্ধ, যুবক মহিলা সবাই ছিল। তৃষ্ণার তাড়নায় সবের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছিল। অনেক দূর পর্যন্ত পানির কোন নাম নিশানা ছিল না। ওদের কাছে এক ফোঁটা পানিও অবশিষ্ট ছিল না। এ অবস্থা দেখে মুত্যু ওদের সামনে নৃত্য করতে লাগলো। কিন্তু ওদের প্রতি বিশেষ রহমত হলো। হঠাৎ উভয় জাহানের সাহায্যকারী মুহাম্মদ মুস্তাফা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) ওদের সাহায্যার্থে তথায় পৌঁছে গেলেন। হুযূরকে দেখে সবার দেহে প্রাণ ফিরে আসলো। সবাই হুযুরের চারিদিকে সমবেত হয়ে গেল। হুযূর ওদেরকে সান্তনা দিলেন এবং ফরমালেন, সামনে যে টিলা আছে, এর পিছন দিয়ে এক কাল রং এর হাবশী গোলাম উষ্ট্রীর উপর আরোহন করে যাচ্ছে। ওর কাছে পানির একটি মোশক আছে। ওকে উষ্ট্রীসহ আমার কাছে নিয়ে এসো। নির্দেশ মত কয়েকজন টিলার ওপারে গিয়ে দেখলো যে বাস্তবিকই উষ্ট্রীই উপর আরোহন করে এক হাবশী যাচ্ছে। ওরা সেই হাবশীকে হুযুরের কাছে নিয়ে আ...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (১৬) সুরাইতে সমুদ্র

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর কাহিনী নং- ১৬ সুরাইতে সমুদ্র— হুদাইরিয়ার সন্ধির দিন সাহাবায়ে কিরামের পানি শেষ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি অযু ও পান করার জন্য এক ফোঁটা পানি অবশিষ্ট ছিল না। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এক সুরাই পানি ছিল। হুযূর যখন সেই সুরাই থেকে অযু করছিলেন, তখন সবাই হুযুরের পাশে সমবেত হলেন এবং ফরিয়াদ করলেন, ইয়া রাসুলল্লাহ! আমাদের কাছে তো এক ফোঁটা পানিও অবশিষ্ট নেই, আমরা অযুও করতে পারছিনা এবং তৃষ্ণাও নিবারণ করতে পারছি না। আমরা তৃষ্ণায় অস্থির হয়ে পড়েছি। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) একথা শুনে স্বীয় হাত মুবারক সুরাইতে ডুবালেন। লোকেরা দেখলেন যে হুযূরের হাত মুবারকের পাঁচ আঙ্গুল দিয়ে পাঁচটি ঝর্ণা প্রবাহিত হলো। সবাই সেই ঝর্না সমূহ থেকে পানি সংগ্রহ করতে লাগলেন এবং প্রত্যেকে ইচ্ছা মাফিক পানি পান করলেন এবং অযু করে নিলেন। হযরত জাবেরের কাছে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে তখন কত লোক ছিল? তিনি বললেন, ঐ সময় যদি এক লক্ষ লোকও হতো, পানির কমতি হতো না। তবে আমরা ঐ সময় পনের'শ ছিলাম। (মিশকাত শরীফ ৫২২পৃঃ) সবক: আমাদের হুযূরকে...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (১৫) হযরত জাবেরের ঘর ও এক হাজার মেহমান

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর কাহিনী নং- ১৫ হযরত জাবেরের ঘর ও এক হাজার মেহমান— হযরত জাবের (রাদিআল্লাহু আনহু) খন্দকের যুদ্ধে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) এর পবিত্র পেটের উপর পাথর বাঁধা দেখে ঘরে এসে বিবি সাহেবাকে বললেন, ঘরে এমন কিছু আছে যা রান্না করে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) কে খাওয়াতে পারি? বিবি সাহেবা বললেন, সামান্য আটা আছে এবং ছাগলের একটা ছোট বাছুর আছে, সেটা জবেহ করতে পারেন। হযরত জাবের বললেন, ঠিক আছে আমি ছাগলটা জবেহ করে দিয়ে যাচ্ছি, তুমি সেটা ভালমতে রান্না কর। আমি গিয়ে হুযূরকে নিয়ে আসতেছি। বিবি সাহেবা বললেন, দেখুন সেখানে অনেক লোক আছে, আপনি হুযূরকে চুপে চুপে বলবেন যেন সাথে দশের অধিক লোক নিয়ে না আসেন। সেমতে হযরত জাবের হুযুরের খেদমতে গিয়ে কানে কানে বললেন, হুযূর আমি সামান্য খাবারের আয়োজন করেছি, আমার সাথে চলুন এবং অনধিক দশজন আপনার সাথে নিতে পারেন। কিন্তু হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) পুরো বাহিনীকে সম্বোধন করে বললেন, চল সবাই আমার সাথে চল, জাবের খাবারের আয়োজন করেছে। অতঃপর হুযুর (সল্লল্লাহ...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (১৪) সাপের ডিম

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর কাহিনী নং- ১৪  সাপের ডিম— বিশিষ্ট সাহাবী হযরত হাবীব বিন ফদীক (রাদিআল্লাহু আনহু) কোন এক জায়গায় যাচ্ছিলেন। ঘটনাক্রমে উনার পা একটি বিষাক্ত সাপের ডিমের উপর পড়েছিল। এতে ডিমটি ফেটে যায় এবং এর বিষ ক্রিয়ায় হযরত হাবীব বিন ফদীক (রাদিআল্লাহু আনহু) এর চোখ একেবারে ঘোলা হয়ে যায় এবং দৃষ্টি শক্তি লোপ পায়। এ অবস্থা দেখে ওনার পিতা খুবই হতাশ হয়ে পড়লো এবং ওনাকে নিয়ে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) এর খেদমতে হাজির হলেন। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) সমস্ত ঘটনা শুনে ওনার চোখে থুথু দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ওনার চোখ পরিষ্কার হয়ে গেল এবং দৃষ্টি শক্তি ফিরে ফেলেন। ঘটনা বর্ণনাকারী বলেন, আমি স্বয়ং হযরত হাবীবকে দেখেছি। ঐ সময় তাঁর বয়স হয়েছিল আশি বছর এবং চোখ একেবারে ঘোলাটে হয়ে গিয়েছিল কিন্তু হযূরের থুথু মুবারকের বদৌলতে দৃষ্টি শক্তি এত প্রখর ছিল যে সুঁই এ সূতা গাঁথিতে পারতেন। (দালায়েলে নবুয়াত ১৬৫ পৃঃ) সবক : হুযূরকে যারা আমাদের মত মানুষ বলে, এ কাহিনী থেকে তাদের শিক্ষা গ্রহণ করা দরকার। হুযূরের থুথু মুবারক দ...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (১৩) ছাগল জীবিত হয়ে গেল

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর কাহিনী নং- ১৩  ছাগল জীবিত হয়ে গেল— আহযাবের যুদ্ধে হযরত জাবের (রাদিআল্লাহু আনহু) হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) কে দাওয়াত করলেন এবং একটি ছাগল জবেহ করলেন। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) সাহাবায়ে কিরামকে নিয়ে যখন ওনার ঘরে গেলেন, তখন তিনি খাবার এনে হুযূরের সামনে রাখলেন। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) দেখলেন যে খাবারের তুলনায় মেহমানের সংখ্যা অনেক বেশী। তখন হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) ফরমালেন, কয়েক জন করে এসে খানা খেয়ে যাও। এভাবে কয়েক জন করে সবাই খানা খেয়ে বের হয়ে গেলেন। হযরত জাবের (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেন, হুযুর আগ থেকে বলে দিয়েছিলেন যে কেউ যেন মাংসের হাড্ডি না ভাঙ্গে এবং এদিক সেদিক ফেলেও না দেয়। সবগুলো যেন এক জায়গায় রাখে। সবাই যখন খেয়ে নিলেন, তখন তিনি নির্দেশ দিলেন, ছোট বড় সব হাড্ডি একত্রিত করে ফেল। অতঃপর তিনি তাঁর পবিত্র হাত মুবারক ওগুলোর উপর রেখে কিছু পাঠ করলেন। হাত মুবারক তখনও হাড্ডির উপর ছিল এবং পবিত্র মুখে কিছু পড়তে ছিলেন,...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (১২) চুল মুবারকের কামালিয়াত

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর কাহিনী নং- ১২  চুল মুবারকের কামালিয়াত— হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) এর দু'টি পবিত্র চুল হযরত ছিদ্দিকে আকবর (রাদিআল্লাহু আনহু) পেয়ে ছিলেন। তিনি চুল দু'টি তাবারুক হিসেবে ঘরে নিয়ে এলেন এবং যথাযথ সম্মানের সাথে যত্নসহকারে ঘরের ভিতরে কোন এক জায়গায় রেখে দিলেন। কিছুক্ষণ পর ঘরের অভ্যন্তরে কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনতে পেলেন। ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখলেন, তখনও কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। কিন্তু কাউকে দেখা গেল না। হযরত ছিদ্দিকে আকবর (রাদি আল্লাহু আনহু) হুযুরের খেদমতে হাজির হয়ে সমস্ত ঘটনা আরয করলেন, হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) মুছকি হেসে বললেন,– "এরা ফিরিশতা, আমার চুল মুবারকের কাছে সমবেত হয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেছে"। (জামেউল মুজিজাত ৬২ পৃঃ) সবক: হুযুর সরওয়ারে আলম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) এর প্রতিটি চুল মুবারক কামালিয়াতের ভাণ্ডার। তাঁর চুল মুবারক সৃষ্টি কুলের জন্য দর্শনীয় ও বরকত লাভের নিদর্শন। যেসব লোকের চুল মুন্ডায়ে নাপিতেরা নালা নর্দমায় ফেলে দেয়, ওরা যদ...

ইসলামের বাস্তব কাহিনী (১১) খালিদ বিন অলিদ (রাদি.) এর টুপি

Image
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর কাহিনী নং- ১১ কাহিনী নং – ১১ হযরত খালিদ বিন অলিদ (রাদিআল্লাহু আনহু) এর টুপি— হযরত খালিদ বিন অলিদ (রাদিআল্লাহ আনহু) সায়ফুল্লাহ (আল্লাহর তলোয়ার) হিসেবে খ্যাত ছিলেন। তিনি যে কোন যুদ্ধে যাবার সময় স্বীয় টুপি নিশ্চয়ই মাথার উপর রাখতেন এবং সব সময় জয়ী হয়ে ফিরতেন। কোন সময় পরাজয়ের মুখ দেখেননি। একবার ইয়ারমুকের যুদ্ধে যখন যুদ্ধের ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, তখন তাঁর টুপিটা কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল। তিনি যুদ্ধ করা বাদ দিয়ে টুপি খুঁজতে লাগলেন। এদিকে শত্রুদের পক্ষ থেকে তীর পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছিল। সৈন্যরা মৃত্যু সন্নিকটে মনে করতে লাগলো। এ অবস্থায়ও হযরত খালিদ টুপির খোঁজে মগ্ন রইলেন। সৈন্যরা ওনাকে গিয়ে বললেন, জনাব টুপির চিন্তা বাদ দিন, যুদ্ধ শুরু করুন। হযরত খালিদ ওদের কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করলেন না। তিনি তাঁর অনুসন্ধান যথারীতি চালিয়ে গেলেন। শেষ পর্যন্ত টুপি পাওয়া গেল। তিনি খুবই আনন্দিত হয়ে সবাইকে তাঁর টুপি প্রাপ্তির কথা জানালেন এবং বললেন, প্রিয় ভাইয়েরা! এ টুপি আমার এত প্রিয় কেন জানেন? আমি আজ পর্যন্ত যত যুদ্ধে জয়ী হয়েছি সব এ টুপিরই বদৌ...