ইসলামের বাস্তব কাহিনী (৩১) দুগ্ধপোষ্য শিশুর সত্যবানী ঘোষণা



📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর 
কাহিনী নং- ৩১ 

দুগ্ধপোষ্য শিশুর সত্যবানী ঘোষণা—
হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) একবার সাহাবায়ে কিরামের সমাবেশে তশরীফ রেখেছিলেন। এমন সময় এক বিধর্মী মহিলা তার দুমাস বয়স্ক দুগ্ধ পোষ্য শিশুকে কোলে নিয়ে সেই দিক দিয়ে যাচ্ছিল। শিশুটি যখন হুযূরকে দেখলেন তখন একেবারে সুস্পষ্ট কণ্ঠে বলে উঠলেন: "হে আল্লাহর রসূল হে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানিত মখলুক! আপনার প্রতি সালাম"।

মা তার দু'মাস বয়স্ক শিশুকে কথা বলতে দেখে বিস্মিত হয়ে গেল এবং শিশুকে জিজ্ঞেস করলো, বেটা তোকে এ কথা কে শিখিয়ে দিয়েছে? আর ইনি যে আল্লাহর রসুল তা তোকে কে বলে দিয়েছে? শিশু এবার মাকে সম্বোধন করে বলতে লাগলো, হে মা। এ কথা আমাকে সেই আল্লাহ শিখিয়েছেন, যিনি সকল মানুষকে এ ধরণের কথা বলার শক্তি দিয়েছেন এবং এ দেখুন আমার মাথার উপর জিব্রাইল দাঁড়িয়ে আছেন, যিনি আমাকে বলছেন যে ইনি আল্লাহর রসূল। মা এ অলৌকিক ঘটনা দেখে সংগে সংগে কালেমা পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেল। মাওলানা রুমী (রহমতুল্লাহে আলাইহি) মছনবী শরীফে লিখেছেন, হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) শিশুকে লক্ষ্য করে জিজ্ঞেস করলেন। তোমার নাম কি? তখন শিশুটি বললো: "ইয়া রসুলল্লাহ! এক মুষ্ঠি মাটির তৈরী এ বান্দার নাম আমার মায়ের কাছে আবদে উয্যা কিন্তু আল্লাহর কাছে আবদুল আযিয। (নাযহাতুল মাজালিস ৭২ পৃঃ ২জিঃ)

সবক: দু এক মাসের শিশুও হুযূরকে চিনে ও মান্য করে এবং নিজের মাকেও জান্নাতে নিয়ে যায়। কিন্তু আফসোস! ঐসব বয়স্ক বদবখতের জন্য যারা হুযূরকে চিনলো না ও মান্যও করলো না, স্বীয় গুমরাহী ও বেআদবী দ্বারা নিজেও ডুবলো এবং অন্যদেরকেও ডুবালো।
----------------------

Comments