Posts

Showing posts from May, 2024

এখলাস (১৫) নেক আমলের দৃষ্টান্ত— তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (১৫)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) নেক আমলের দৃষ্টান্ত— আবু বকর ওয়াছেতী রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নেক আমল কাঁচ সদৃশ। কাঁচ সামান্যতম অসতর্কতার কারণেই ভাঙ্গিয়া যায় কিন্তু দ্বিতীয়বার জোড়া দেওয়া যায় না। তদ্রুপ নেক আমলও রিয়া এবং আত্মগর্ব দ্বারা বিনষ্ট হইয়া যায়। সুতরাং তাহা প্রতিদানের যোগ্য থাকে না। উপদেশ : আমলের মধ্যে রিয়ার আশংকা জন্মিলে যথাসাধ্য উহাকে দূর করিবার চেস্টা করিবে। কিন্তু চেষ্টা করা সত্ত্বেও যদি রিয়া দূর না হয়, তাহা হইলেও কিন্তু আমল ছাড়িবে না বরং আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করিতে থাকিবে। হয়তবা আল্লাহ পাক অন্য আমলে এখলাস দান করিবেন। একটি ঘটনা— জনৈক ব্যক্তি মুসাফির খানা নির্মাণ করিল। কিন্তু তাহা কবুল হইবে কিনা এই সম্বন্ধে তাহার অন্তরে সন্দেহ ছিল। অর্থাৎ স্বীয় এখলাসে সন্দেহ ছিল। অন্য একজন লোক তাহাকে স্বপ্ন যোগে বলিল, মনে কর যদি তোমার এই আমল এখলাস থেকে খালিও হয়, তবুও এই সেবা মূলক কাজের ফলে তোমার জন্য মুসলমানদের দোয়া সমূহ অবশ্যই এখলাসপূর্ন এবং গ্রহণযোগ্য। এই কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি খুশী ও আনন্দিত হইল। পরবর্তী পর্ব মৃত্যু ও উহার ভয়...

এখলাস (১৪) রিয়াকারের চারটি নাম– তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (১৪)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) রিয়াকারের চারটি নাম— কোন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে জিজ্ঞাসা করিল, কিয়ামতের দিন কোন্ কর্মের কারণে মুক্তি মিলিবে? হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর দিলেন : আল্লাহর সাথে ধোকাবাজি করিও না। সে পুনরায় আরয করিল, আল্লাহর সাথে ধোকাবাজি করার অর্থ কি? অতঃপর হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর দিলেন : “আল্লাহর নির্দেশ শুধুমাত্র তাঁহারই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন কর, অন্যের উদ্দ্যেশ্যে নয়। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাহারো উদ্দেশ্যে আমল করার নামই আল্লাহর সাথে ধোকাবাজি করা। (আরো বলিলেন) রিয়া থেকে বাঁচিয়া থাক। কেননা রিয়া তো শিরক। রিয়াকারকে কিয়ামতের দিন চারটি নামে ডাকা হইবে, যথা- (১) হে কাফির! (২) হে ফাজির (পাপী)! (৩) হে গাফের (ধোকাবাজ)! (৪) হে খাছের! আর বলা হইবে- তোর আমল তো বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে। তোর প্রতিদান তো বাতিল হইয়া গিয়াছে। আজ তোর উপকার আসতে পারে এমন কোন কিছু নাই। হে ধোকাবাজ ! তোর আমলের বিনিময় তাহার কাছ থেকে আদায় কর, যাহার উদ্দেশ্যে তুই আমল করি...

এখলাস (১৩) তিনটি বিষয় ধ্বংসের কারণ— তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (১৩)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) তিনটি বিষয় ধ্বংসের কারণ— যখন আল্লাহ তা'আলা কোন বান্দাকে ধ্বংস করিতে ইচ্ছা করেন, তখন তাহার মধ্যে তিনটি অবস্থার সৃষ্টি করেন। যেমন– (১) তাহাকে ইল্‌ম দান করেন, কিন্তু তদনুযায়ী আমলের তাওফীক প্রদান করেন না। (২) নেককারদের সংস্পর্শে থাকার সুযোগ দান করেন, কিন্তু তাহাদের মর্যাদা অনুধাবন শক্তি এবং তাহাদের সম্মান অন্তর থেকে ছিনাইয়া নেন। (৩) নেক কাজ করার সুযোগ দেন কিন্তু এখলাস থেকে বঞ্চিত রাখেন। আর ইহা বদনিয়ত এবং আত্মার অপবিত্রতার ফলেই হইয়া থাকে। অন্যথায় যদি নিয়ত ঠিক হয়, তাহা হইলে ইল্‌ম থেকে ফায়দা এবং আমলের মধ্যে এখলাস, বুযুর্গের মর্যাদা ও সম্মানের অনুধাবন অবশ্যই হইবে। পরবর্তী পর্ব রিয়াকারের চারটি নাম

এখলাস (১২) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কথা- তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (১২)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কথা— কোন এক বুযুর্গ কাহারো নিকট চিঠি লেখার সময় তিনটি কথা অবশ্যই লিখিতেন- (১) যে ব্যক্তি আখেরাতের উদ্দেশ্যে আমল করে, আল্লাহ তা'আলা তাহার দুনিয়াবী কাজ সমাধা করিয়া দেন। (২) যে ব্যক্তি নিজের এবং আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক করিয়া লয়। (অর্থাৎ আল্লাহর সাথে তাহার সম্পর্ক এখলাস পূর্ণ) তাহা হইলে আল্লাহ তা'আলা তাহার এবং মানুষের মধ্যকার সম্পর্কও ঠিক করিয়া দেন। (৩) যে ব্যক্তি স্বীয় আভ্যন্তরীণ অবস্থা ঠিক করিয়া লয় আল্লাহ তাহার বাহ্যিক অবস্থা ঠিক করিয়া দেন। পরবর্তী পর্ব তিনটি বিষয় ধ্বংসের কারণ

এখলাস (১১) নেককারের পরিচয়- তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (১১)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) নেককারের পরিচয়— হযরত শাকীক বিন ইব্রাহীম যাহিদকে কেহ জিজ্ঞাসা করিল যে, মানুষ আমাকে নেককার বলে, এখন আমি কিভাবে বুঝিব যে, আমি নেককার না বদকার? তিনি উত্তর দিলেন, তিনটি গুণের দ্বারা বুঝিতে পারিবে- (১) নিজের আভ্যন্তরীণ অবস্থা বুযুর্গদের কাছে বর্ণনা কর। যদি তাহারা তাহা পছন্দ করেন, তবেই তুমি নেককার অন্যথায় বদকার। (২) স্বীয় অন্তরের সামনে পার্থিবতা পেশ কর। যদি সে পার্থিবতাকে দূরে ঠেলিয়া দেয় তাহা হইলে তুমি নিজেকে নেককার জানিবে অন্যথায় বদকার জানিবে। (৩) নিজের সামনে মৃত্যুকে উপস্থিত কর। যদি অন্তর ইহার উপর সন্তুষ্ট থাকে আর আনন্দ পায় তবেই নিজেকে নেককার মনে করিবে, অন্যথায় নহে। যদি কেহ এই তিনটি গুণ লাভ করিতে পারে, তবে তাহার জন্য উচিত সে যেন আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে এবং স্বীয় অক্ষমতা প্রকাশ করে। যাহাতে তাহার আমলে রিয়ার সঞ্চার না হয়। আর রিয়া সমস্ত আমলকেই ধ্বংস করিয়া দেয়। পরবর্তী পর্ব তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কথা

এখলাস (১০) আমল কবুল হওয়ার জন্য চারটি শর্ত- তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (১০)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) আমল কবুল হওয়ার জন্য চারটি শর্ত— প্রতিটি আমল কবুল হওয়ার জন্য চারটি বিষয় অত্যন্ত জরুরী। যথা- (১) ইল্‌ম, (২) নিয়ত, (৩) ধৈর্য, (৪) এখলাস। (১) ইল্‌ম : ইল্‌ম ব্যতিরেকে আমল বিশুদ্ধ হওয়া অত্যন্ত কঠিন, বরং অসম্ভব। আর ঐ আমলই কবুল হয়, যাহা সহীহ শুদ্ধ হয়। (২) নিয়ত : নিয়ত ব্যতীত আমল প্রতিদান প্রাপ্তির যোগ্য হয় না, এই প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে বর্ণিত রহিয়াছে- “নিয়তানুপাতে আমলের প্রতিদান মিলে।” (৩) ধৈর্য : ধৈর্য এবং স্থিরতার সাথে প্রতিটি আমল করা। অথবা আমল করিতে গিয়া যে অস্থিরতার সম্মুখীন হয়, তাহাতে সন্তুষ্ট চিত্তে ধৈর্য ধারণ করা। (উল্লেখিত শর্তের প্রথম দুইটি আমলের পূর্বে পালনীয়, আর তৃতীয়টি আমলের মধ্যে পালনীয়) (৪) এখলাস : এখলাস ব্যতীত কোন আমল কবুল হয় না। পরবর্তী পর্ব নেককারের পরিচয়

এখলাস (৯) এখলাস রাখালের নিকট থেকে শিক্ষা কর- তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (৯)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) এখলাস রাখালের নিকট থেকে শিক্ষা কর— জনৈক বুযুর্গ বলেন যে, মানুষের জন্য রাখালের নিকট হইতে আদব এবং এখলাস -এর শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। কেহ জিজ্ঞাসা করিল কিভাবে শিক্ষা গ্রহণ করিবে? তিনি উত্তর দিলেন, রাখাল যখন ছাগল পালের নিকটে নামায আদায় করে, তখন তাহার আদৌ এই চিন্তা আসেনা যে, ছাগলগুলি আমার প্রশংসা করিবে। অনুরূপভাবে আমলকারীরও উচিত সে যেন (তাহার অন্তরকে) মানুষের প্রশংসা ও তিরস্কারের চাহিদা মুক্ত করিয়া আল্লাহর ইবাদত করে। পরবর্তী পর্ব আমল কবুল হওয়ার জন্য চারটি শর্ত

এখলাস (৮) তিনটি বিষয় আমলের জন্য দূর্গ স্বরূপ- তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (৮)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) তিনটি বিষয় আমলের জন্য দূর্গ স্বরূপ- (১) এইরূপ বিশ্বাস রাখা যে, আমলের তাওফীক আল্লাহর পক্ষ হইতে হয়। (যাহাতে গর্ব ও অহংকার না জন্মে) (২) প্রতিটি আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা। (যাহাতে প্রবৃত্তির চাহিদা বাধাপ্রাপ্ত হয়) (৩) আমলের প্রতিদান ও বিনিময় শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই চাওয়া। (যাহাতে অন্তর থেকে রিয়া এবং লোভ দূরীভূত হইয়া যায়) পরবর্তী পর্ব এখলাস রাখালের নিকট থেকে শিক্ষা কর

এখলাস (৭) রিয়াকার ব্যক্তির আলামত চারটি- তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (৭)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) রিয়াকার ব্যক্তির আলামত চারটি— (১) লোক চক্ষুর অন্তরালে সৎকাজে অবহেলা করে। (২) মানুষের সামনে পূর্ণ উদ্যম ও আগ্রহের সাথে আমল করে। (৩) যে কাজে মানুষ প্রশংসা করে সে কাজ বেশী বেশী করে। (৪) যে কাজে তাহাকে মন্দ বলা হয় সে কাজ অতি অল্প করে। পরবর্তী পর্ব তিনটি বিষয় আমলের জন্য দূর্গ স্বরূপ

এখলাস (৬) আল্লাহর বিশেষ বান্দার পরিচয়- তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (৬)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) আল্লাহর বিশেষ বান্দার পরিচয়— কোন এক ব্যক্তি হযরত যুনুন মিসরী (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিল আল্লাহর প্রিয় তথা 'খাছ বান্দা'র পরিচয় কি?  তিনি উত্তর দিলেন- আল্লাহর খাছ বান্দার পরিচয় লাভের নিদর্শন চারটি- (১) আল্লাহর খাছ বান্দা আরাম আয়েশ বর্জন করে। (২) তাহার কাছে কম বেশী যাহা কিছু আছে, তাহা হইতে একাংশ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে। (৩) স্বীয় পার্থিব সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার উপর খুশী থাকে।  (৪) কেহ তাহার প্রশংসা করুক বা কেহ তাহাকে তিরস্কার করুক-উভয়ই তাহার দৃষ্টিতে সমান। পরবর্তী পর্ব রিয়াকার ব্যক্তির আলামত চারটি

এখলাস (৫) মুখলিস ব্যক্তি কে?- তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (৫)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) মুখলিস ব্যক্তি কে? কোন ব্যক্তি জনৈক বুযুর্গকে জিজ্ঞাসা করিল-মুখলিস ব্যক্তি কে? বুযুর্গ উত্তর দিলেন-মুখলিস ঐ ব্যক্তি, যে স্বীয় সৎকর্ম সমূহকে গোপন রাখে। যেমনি ভাবে সে স্বীয় অসৎ কর্ম সমূহকে গোপন করিয়া রাখে। অতঃপর জিজ্ঞাসা করিল-এখলাসের আলামত কি? উত্তর দিলেন- অন্যে তাহার প্রশংসা করুক ইহা সে পছন্দ করে না। পরবর্তী পর্ব আল্লাহর বিশেষ বান্দার পরিচয়

এখলাস (৪) আমল প্রকাশ হইয়া যাওয়ার ফলে দ্বিগুণ প্রতিদান- তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (৪)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) আমল প্রকাশ হইয়া যাওয়ার ফলে দ্বিগুণ প্রতিদান— কোন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে জিজ্ঞাসা করিল- আমি অত্যন্ত গোপন ভাবে কোন আমল করি কিন্তু মানুষ তাহা জানিয়া ফেলে। ইহাতে আমি আনন্দ অনুভব করি। তবে কি এইরূপ আমলে সওয়াব মিলিবে? (কেননা বাহ্যিক ভাবে তো ইহা এখলাসের পরিপন্থী) রাসূলুল্লাহু (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর দিলেনঃ দ্বিগুণ সওয়াব পাইবে। এক সওয়াব গোপন করার আর অপর সওয়াব প্রকাশ হইয়া যাওয়ার। ব্যাখা: গোপনে গোপনে আমল করা এখলাসের নিদর্শন। আর ইহাই উত্তম প্রতিদানের বুনিয়াদ। আমল প্রকাশিত হইয়া যাওয়ার ফলে অন্যান্যদের আমল করার সুযোগ মিলিয়া গেল। সুতরাং নিম্নলিখিত হাদীছের নীতির আলোকে অন্যান্যদের আমলের সওয়াবও সে পাইবে। এই প্রসঙ্গে সহীহ্ মুসলিম শরীফে বর্ণিত হইয়াছে- >“যে ব্যক্তি ইসলামে কোন উত্তম পদ্ধতির প্রচলন করে সে ইহার সওয়াব পায় এবং তাহার পরে যাহারা তদনুযায়ী আমল করে তাহাদের সওয়াবও সে পায়।” (মুসলিম) কিন্তু স্বীয় আমল মানুষের সামনে প্রকাশ হইয়া যাওয়ার আকাংক্ষা ...

এখলাস (৩) সাতটি বিষয় অপর সাতটি বিষয় ব্যতীত অর্থহীন -তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (৩)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) সাতটি বিষয় অপর সাতটি বিষয় ব্যতীত অর্থহীন — এক বুযুর্গের উক্তি- যে ব্যক্তি সাতটি বিষয়ের উপর আমল করে আর অপর সাতটি বিষয়ের উপর আমল করেনা তাহার আমল অর্থহীন। বিষয়গুলি হইলঃ (১) খোদাভীরুতার দাবী করে, কিন্তু পাপ কার্য থেকে বিরত থাকে না। তাহা হইলে তাহার দাবী মিথ্যা ও অর্থহীন। (২) আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদানের আশা রাখে। অথচ নেককাজ করেনা। (যদিও আল্লাহ তা'আলা নেক আমল ছাড়াও উত্তম প্রতিদান দিতে পারেন। কিন্তু তাঁহার সাধারণ নীতি হইল-উত্তম প্রতিদান নেক আমলকারীই পাইবে।) (৩) সৎকাজ করিবার অভিলাষ তো আছে, কিন্তু পাকা পোক্তা নিয়ত নাই। (৪) মেহনত ব্যতীত দোয়া। (অর্থাৎ যে ব্যক্তি শুধু দোয়া করিয়াই ক্ষান্ত হয়। নেককার হওয়ার জন্য মোটেই চেষ্টা করে না। সে ব্যক্তি বঞ্চিত থাকিবে।) যে ব্যক্তি চেষ্টা করে সে ব্যক্তিই তাওফীক প্রাপ্ত হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন- ”যাহারা আমার জন্য পরিশ্রম করে আমি অবশ্যই তাহাদিগকে স্বীয় সঠিক পথ প্রদর্শন করি।” (৫) স্বীয় অপরাধের জন্য লজ্জিত হওয়া ব্যতীত ক্ষমা প্রার্থনা করা। (অর্থাৎ মুখে মুখে তো ক্ষমা প্রার্থনা করে ...

এখলাস (২) রিয়াকারের উপমা- তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (২)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) রিয়াকারের উপমা– জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির উক্তি- রিয়াকার ঐ ব্যক্তির তুল্য, যে স্বীয় থলি পয়সার পরিবর্তে পাথর কণা দ্বারা পরিপূর্ণ করিল। আর ইহাতে মানুষ তাহাকে সম্পদশালী মনে করা ছাড়া সে আর অধিক কোন ফায়দা পাইবে না। কিন্তু থলিওয়ালা এইরূপ থলি দ্বারা কোন প্রয়োজন মিটাইতে পারিবেনা। তদ্রুপ রিয়াকারকেও দর্শক অবশ্যই নেককার ও খোদাভীরু বলিয়া মনে করিবে। কিন্তু আল্লাহর দরবারে তাহার আমল সমূহের বিনিময়ে কিছুই মিলিবে না। পরবর্তী পর্ব সাতটি বিষয় অপর সাতটি বিষয় ব্যতীত অর্থহীন

এখলাস (১) রিয়া ছোট-শিরক - তাম্বীহুল গাফেলীন

Image
এখলাস (১)  📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻ফকীহ আবুল লায়ছ সমরকন্দী (রহঃ) রিয়া ছোট-শিরক -  হযরত রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, “হে মানুষ! তোমাদের ব্যাপারে ছোট্ট শিরক সম্পর্কে আমার অত্যন্ত ভয় হয়।” সাহাবায়ে কেরাম (রাদিআল্লাহু আনহুম) জিজ্ঞাসা করিলেন, ছোট শিরক আবার কি? হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর দিলেন। “রিয়া” রিয়াকারদেরকে কিয়ামতের দিন বলা হইবে- যাহাদের উদ্দেশ্যে দুনিয়াতে আমল করিয়াছিলে, যদি তাহাদের নিকট হইতে নেওয়ার মত কিছু থাকে তবে তাহাদের কাছ থেকে স্বীয় আমলের বিনিময় আদায় কর। পরবর্তী পর্ব রিয়াকারের উপমা