Posts

Showing posts from April, 2024

ত্যাগ ও তিতিক্ষা

  📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ) ✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ) ৬ষ্ঠ মজলিস-১ ত্যাগ ও তিতিক্ষা  শুক্রবার ৫ই শওয়াল ৭০৭ হিজরী। কদমবুসির ঐশ্বর্য লাভ করলাম। ত্যাগ ও তিতিক্ষা সম্বন্ধে আলোচনা চলছিলো। এ সম্বন্ধে তিনি প্রচণ্ড আত্মযুদ্ধরত এক ত্যাগী দরবেশের ঘটনা বর্ণনা করলেন। দরবেশ বেশীর ভাগ সময় অনাহারে থাকায় তার পেট পিঠের সঙ্গে লেগে গিয়েছিলো। তাকে দেখলে মনে হতো এক কংকালবৎ অবয়বের মধ্য হতে নূর (ঐশী আলোক) ঠিকরে বেরুচ্ছে। রাস্তা দিয়ে চলার সময় একদিন তাঁর সঙ্গে আমার বন্ধু টিপুর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। তিনি তাঁকে কিছু অর্থ প্রদান করতে চাইলে তিনি বললেন, "হে খাজা আজ আমি ভরপেট কাঠাল খেয়েছি। আজকের রুজীর জন্য যে শক্তির প্রয়োজন তা অর্জিত হয়েছে। অতএব মাফ করুন। আজ আর আমার কোন প্রয়োজন নেই। তাঁর এ দৃঢ়তাপূর্ণ বক্তব্যের মধ্যে আমার বন্ধু দেখতে পেলেন তাঁর মনের দৃঢ়তা, ধৈর্য, শক্তিমত্তা ও স্থিরতা এবং আল্লাহ তায়ালার প্রতি তাওয়াক্কুলের উচ্চতা। এরপর হযরত খাজা যিকরুল্লাহ বিল খায়ের অন্য একটি ঘটনা বর্ণনা করলেন। এক বুজুর্গ ছিলেন তাঁর নাম ছিলো শায়খ আলী। একদিন তিনি পা লম্বা করে বস...

সালাতে মা'কুস বা প্রতিবিম্বের নামাজ

Image
📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ) ✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ) পঞ্চম মজলিস- ৩ সালাতে মা'কুস বা প্রতিবিম্বের নামাজ পরবর্তী আলোচনা ছিলো মাশায়েখগণের আনুগত্যের ব্যাপারে। হযরত শায়খ আবু সাঈদ আবুল খায়ের কুদ্দিসা সিররুহুল আজীজ সম্বন্ধে, হযরত খাজা বললেন যে তিনি বলছেন, "আমি এ সলুকের পথে যা কিছু অর্জন করেছি তার সবই রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রদর্শিত সালাতের (নামাজের) আনুগত্যের মাধ্যমে। আমি প্রত্যেক নামাজ তাঁর প্রদর্শিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদায় করি। আমি এ সালাতের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি তিনি সালাতে মা'কুস প্রতিবিম্বের নামাজ পাঠ করতেন এবং তাঁর অনুসরণ করেই আমি তা পাঠ করে থাকি। এ নামাজ পড়তে গেলে নফস্ আমার বিরুদ্ধাচারণ করতো কিন্তু আমি আমার পাও হাতের কনুইয়ের সঙ্গে বেধে নিতাম তখন তার আর কিছু করার থাকতো না। এ ঘটনা শেষ করে হযরত খাজা আমার দিকে লক্ষ্য করে বললেন, যাঁরা এ পথে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন তাঁরা সবচেয়ে উত্তম বন্দেগী দ্বারাই তা লাভ করেছেন। নফসকে কাবু রাখার জন্য নফসের সঙ্গে যুদ্ধ করেই পথ অতিক্রম করতে হয়। [মা'কুছ সালাত দু ...

কারামত - (আনা সাগরের পানি ছোট্ট পাত্রে চলে আসার রহস্য)

Image
📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ) ✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ) পঞ্চম মজলিস- ২ কারামত- আনা সাগরের পানি ছোট্ট পাত্রে চলে আসার রহস্য কারামত শব্দের সাধারণ অর্থ হচ্ছে মাহাত্ম্য, অসাধরণ শক্তি কিন্তু তাসাওউফের পরিভাষায় ঐশীশক্তি, যা ঐশীউন্মাদনায় মত্ত বীর সালেকের পুরস্কার যাকে মা'রেফাতের নিগূঢ়পরিভাষায় (قوت الكن) 'কুওয়াতুল বুন' বলা হয় অর্থাৎ 'কুন' শক্তির অধিকার প্রাপ্তি। মূলতঃ এ কুন শক্তি স্রষ্টার নিজস্ব ব্যাপার যদ্বারা তিনি সমস্ত সৃষ্টি জগত ও তার মধ্যস্থিত সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন। আসলে এটা ইচ্ছা ও আদেশের বহিঃপ্রকাশ। সালেক (শিক্ষার্থী) যখন ফানাফিল্লাহর মাকামে ঐশীউন্মাদনার জগতে মত্ততার স্বভাব হতে শান্ত হয়ে বাকা বিল্লাহতে স্থানান্তরিত হয় তখন তাকে বেলায়েত (আধ্যাত্মিক রাজত্বের শাসন ভার) প্রদান করা হয় এবং এ রাজত্ব পরিচালনার জন্য তাকে প্রদান করা হয় (قوت الكن) কুওয়াতুল কুন শক্তি। 'কুন' শব্দের অর্থ হচ্ছে হও। এ শক্তি দ্বারা যে কোন বিষয়, বস্তু ও প্রাণীকে আদেশ করা মাত্র তা কার্যকর হয়। এ বিষয়টাকে বুঝার জন্য আমরা যে কোন একটা কারামতের ঘটনাকে সম্মু...

প্রতিদিন এক হাজার বার কোরআন খতম করার রহস্য

Image
📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ) ✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ) পঞ্চম মজলিস- ১ প্রতিদিন এক হাজার বার কোরআন খতম করার রহস্য শুক্রবার ১৩ই রমজানুল মোবারক ৭০৭ হিজরী। এ দিন আমার পৌছতে দেরী হওয়ায় হযরত খাজা জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার এ বিলম্বের কারণ কি?" আমি কদমবুসি করে বললাম, আমি হাফেজ মওলানা জহিরুদ্দিনের ইমামতিতে তারাবির নামাজ পড়ি। ইমাম সাহেব প্রত্যেক রাতে ৩ সিপারা কোরান তারাবীর নামাজে পাঠ করেন। আমি ভেবেছি ১০ দিন সময় পেলে তারাবীর নামাজে এক খতম কোরান পড়ার ছওয়াব লাভ করতে পারতাম। হযরত খাজা আমার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে আমাকে অনুমতি দান করলেন। তিনি এ সম্বন্ধে একটি ঘটনার উল্লেখ করে বললেন, "একদিন মজলিসে হযরত খাজা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, এখানে এমন কেউ কি আছে যে দু'রাকাত নামাজের মধ্যে সম্পূর্ণ রাত অতিবাহিত করতে পারে এবং এক রাকাতের মধ্যে সম্পূর্ণ কোরান খতম করতে পারে।" তাঁর কথায় কেউ সাড়া দিলো না। অগত্যা তিনি নিজেই নামাজে দন্ডায়মান হলেন এবং প্রথম রাকাতের মধ্যেই সম্পূর্ণ কোরান খতম করলেন। দ্বিতীয় রাকাত সূরা ইখলা...

প্রকৃত পীর মুরীদের আমলের দিকে খেয়াল রাখেন

Image
📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ) ✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ) চতুর্থ মজলিস প্রকৃত পীর মুরীদের আমলের দিকে খেয়াল রাখেন শুক্রবার ২২শে শাবান ৭০৭ হিজরী। কদম বুসির ঐশ্বর্য লাভ করলাম। হযরত খাজা আমাকে প্রশ্ন করলেন, তোমাকে যে ছয় রাকাত নামাজ এশার পরে পড়তে বলা হয়েছিলো তা নিয়মিত পড় কি না? আরজ করলাম (বললাম), আপনার আদেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন যথার্থভাবে করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এরপর আয়্যামে বেজের রোজার কথা জিজ্ঞেস করলে বললাম রোজাও নিয়মিতভাবে করে যাচ্ছি। এরপর চাশতের নামাজ সম্বন্ধে জানতে চাইলে বললাম এ নির্দেশও পালন করে চলছি। এরপর বললেন ৪ রাকাত সালাতুস্ সায়াদাত নিয়মিত পাঠ করবে। আমি সম্মতি জানিয়ে কদমবুসি করলাম।      -আল হামদু লিল্লাহ আলা জালেক পরবর্তী পর্ব প্রতিদিন এক হাজার বার কোরআন খতম করার রহস্য

সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ ব্যাক্তিত্বও থাকে

Image
📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ) ✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ) তৃতীয় মজলিস সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ ব্যাক্তিত্বও থাকে শুক্রবার ১৫ই শাবান ৭০৭ হিজরী। জুমা'র নামাজের পর মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হলো। আমি অধম আমার শায়খকে কদমবুসি করে ভাগ্যবান হলাম। এ সময় এক কম্বলাবৃত ফকীর দরবারে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ বসলো, তারপর চলে গেলো। এ দৃশ্যটি মজলিসের সকলেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করলে হযরত খাজা বললেন, অনেক দরবার আছে যেখানে অপরিচিত খুব কম লোকই প্রবেশের  সুযোগ পায়। এ সম্বন্ধে তিনি হযরত বাহাউদ্দিন যাকারিয়া মুলতানী (রহঃ)-এর দরবারের কথা উল্লেখ করে বললেন যে তাঁর দরবারে অপরিচিত খুব কম লোকই প্রবেশের সুযোগ পেত। কিন্তু আমার শায়খ হযরত খাজা ফরিদুদ্দিন মাসুদ গঞ্জেশকর রহমতুল্লাহি আলাইহির দরবার ছিলো ভিন্ন ধরনের। তাঁর দরবারে সব রকমের মানুষ ও দরবেশ প্রবেশ করতে পারতো। কারও জন্যই কোন বাধা নিষেধ ছিলো না। আমাদের একটা কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছু বিশেষ লোকও থাকে। এ সম্বন্ধে তিনি হযরত যাকারিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহির একটা ঘটনার বর্ণনায় বললেন, একবার তিনি এক হাঙ্গামার সময় সফরে ছিলেন। পথ...

প্রকৃত সাধক তার উপযুক্ত মুরীদকেই সাজ্জাদানশীল করেন

Image
📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ) ✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ) দ্বিতীয় মজলিস প্রকৃত সাধক তার উপযুক্ত মুরীদকেই সাজ্জাদানশীল করেন শুক্রবার ৮ই শাবান ৭০৭ হিজরী। হজরত খাজার চরণ চুম্বন করে ভাগ্যবান হলাম। মলিহ নামে আমার এক গোলাম ছিলো। আমি তাঁকে কৃতজ্ঞতার নজরানা হিসেবে হযরত খাজা যিকরুল্লাহ বিল খায়েরের সম্মুখে এনে আযাদ করলাম। হযরত খাজা অনেক দোয়া খায়ের করলেন। মুক্ত গোলাম এ সময় হযরত খাজার কদম বুসি করলো এবং তাঁর নিকট বায়াত গ্রহণ করলো। ওয়াল হামদু লিল্লাহ আলা জালিক। হযরত খাজা বললেন সলুকের এ পথে কৌলীন্যের কোন বিশেষ মূল্য ও দাসত্বের (গোলামী) জন্য কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। যে ব্যক্তি মুহাব্বাতের জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে তার কর্ম সমাধা হবে। গজনীতে এক বুজুর্গ ছিলেন। তার জীরক নামের এক গোলাম ছিলো। সে এ পথে সিদ্দিকের দরজা হাসিল করেছিলো। যখন বুজুর্গের ইন্তেকালের সময় ঘনিয়ে এলো তখন তার মুরীদগণ তার নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার ইন্তেকালের পর আপনার গদীনশীন হবে কে? উত্তরে তিনি তার জীরক নামের গোলামটির কথা বললেন যে জীরক আমার স্থলাভিষিক্ত হবে। সেই বুজুর্গের তিনজন পুত্র সন্তান ছ...

নফসকে পরিশুদ্ধ করতে চারটি বিষয় জরুরী

Image
📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ) ✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ) প্রথম মজলিস- ৬ নফসকে পরিশুদ্ধ করতে চারটি বিষয় জরুরী- পরবর্তী আলোচনা শুরু হলো নফসের পবিত্রতা সম্বন্ধে। হযরত খাজা নিজাম-উদ্দীন (রহঃ) বললেন, শিক্ষার্থীর বা সালেকের চারটি জিনিস দ্বারা শক্তি অর্জিত হয়- (১) কম কথা বলা, (২) কম আহার করা, (৩) কম ঘুমানো, (৪) লোকের সাথে কম মেলা মেশা করা। পরবর্তী প্রসঙ্গ ছিলো যুদ্ধ, জেহাদ ও ইজতিহাদ সম্বন্ধে। এ বিষয়ে তিনি কবিতার এ লাইন দু'টি বলে কথা শেষ করলেন। উচ্চারণ: গার চে ঈযিদ দাহাদ হেদায়েতে দ্বীন বান্দাহরা ইজতেহাদে বায়ীদ কারাদ নামায়ে কালে মহশর খাহী খোয়ায়েন্দ, হাম আযীযা সওয়াদ বায়ীদ কারাদ। অনুবাদ : দেয় যদি আল্লাহ দ্বীনের হেদায়েত- বান্দার উচিত, করা ইস্তেহাদ আমলনামা যা হবে পঠিত হাশরে তা তৈয়ার করা উচিত এই জগতে। পরবর্তী পর্ব  প্রকৃত সাধক তার উপযুক্ত মুরীদকেই সাজ্জাদানশীল করেন

সালেকের জন্য পীরের সাহ্নিধ্যেই উত্তম

Image
📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ) ✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ) প্রথম মজলিস- ৫ সালেকের জন্য পীরের সাহ্নিধ্যেই উত্তম- পরবর্তী ঘটনা ছিলো হযরত জোনায়েদ বোগদাদী (রহঃ)-এর সম্বন্ধে। তিনি একদিন তাঁর খানকা শরীফে বসেছিলেন। তার পরের দিনটি ছিলো ঈদের। ঐ রাতেই তাঁর খানকা শরীফে বিশেষ তিন ব্যক্তির আগমন ঘটলো। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন। তোমরা কালকে কোথায় ঈদের নামাজ পড়বে? তাদের মধ্যে একজন বললো খানা কাবাতে। দ্বিতীয়জন বললো মদিনার হেরেম শরীফে। তৃতীয় জন বললো, এই বাগদাদে আপনার সাথে। তিনি তার এ সুন্দর জবাব ও আদবের জন্য অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন এবং বললেন— ‎ازيدهم واعلمهم وافضلهم পরবর্তী পর্ব নফসকে পরিশুদ্ধ করতে চারটি বিষয় জরুরী-

বি-আদবের পরিণতি

Image
📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ) ✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ) প্রথম মজলিস- ৪ বি-আদবের পরিণতি-- পরবর্তী আলোচনা ছিলো মাশায়েখ ও আবদাল এবং তাদের মাকাম, অবস্থান, স্তর ও মর্যাদা সম্বন্ধে।  হযরত খাজা (নিজামুদ্দীন) বললেন, একবার হযরত গাউসুল আযম আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)-এর খানকার সম্মুখে অর্থাৎ প্রবেশ পথে দেখা গেলো এক লোক হাত পা ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এক লোক এ অবস্থা দেখে ভিতরে যেয়ে হযরত গউসুল আযমের এক লোকের নিকট এ অবস্থার কারণ জানতে চাইলো। তিনি বললেন যাকে দেখলে সে কোন সাধারণ লোক নয়। সে একজন আবদাল। পৃথিবীর চল্লিশজনের একজন। এ লোক একটু পূর্বে তার দুই সাথীসহ তিনজনে আকাশ দিয়ে উড়ে যাচ্ছিলো। তারা এ খানকার কাছাকাছি আসতেই দু'জন খানকার দু'পাশ দিয়ে চলে গেলো। আর এ 'আবদাল খানকার উপর দিয়ে যেতে চাইলে হাত পা ভেঙ্গে নীচে পড়ে গেলো। যেহেতু তার মধ্যে আদবের অভাব ছিলো সেহেতু তার এ দুর্দশা। হযরত গাউসুল আযমের নিকট তার সম্বন্ধে ক্ষমার সুপারিশ জানানো হলে তিনি বললেন, বে-আদবের কিছু শাস্তি হওয়া উচিত। পরবর্তী পর্ব সালেকের জন্য পীরের সাহ্নিধ্যেই উত্তম-

ইন্তেকালের পরেই প্রকৃত সূফীর বিকাশ ঘঠে

Image
📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ) ✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ) প্রথম মজলিস- ২ ইন্তেকালের পরেই প্রকৃত সূফীর বিকাশ ঘঠে- এরপর বললেন, আল্লাহপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ সব সময়েই নিজেকে গোপন রাখে কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাঁর মহিমাকে প্রকাশ করে দেয়। খাজা আবুল হাসান নূরী নূরুল্লাহ মারকাদাহু মোনাজাতে বলতেন, “হে আল্লাহ আপনি এ শহরবাসীর দৃষ্টি হতে আমাকে গোপন রাখুন।" আল্লাহ তাঁর দোয়ার উত্তরে বলতেন, "হে আবুল হাসান সত্যকে কেউ গোপন করতে পারেনা এবং সত্য কখনও গোপন থাকতে পারে না।" হযরত খাজা এরপর বললেন, খাজা হামিদুদ্দিন সওয়ালী তখন খোতনাগুরে বাস করতেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, কিছু শায়খ আছেন যাদের মৃত্যুর পর সাধারণ মানুষ তাদেরকে ভুলে যায়, তাদের কথা স্মরণ করে না, আর কিছু শায়খ আছেন যাদের দেহত্যাগ বা মৃত্যুর পর তারা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠে, তাদের কারামতের কথা জন সমাজে বহুল ভাবে প্রচারিত হতে থাকে, তাদের রওজার পাশে দুঃখী মানুষদের ভীড় বাড়তে থাকে, এর কারণ কি?  উত্তরে তিনি বললেন, 'সারা দুনিয়াতে যারা নিজের উপযুক্ততা যাচাই না করেই নিজেকে বহুলভাবে প্রচার করার চেষ্টায় মত্ত থাকে ত...

সত্যিকার পীরের মুরীদ হতে মুত্তাকি হওয়া বাধ্যতামূলক

Image
📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ) ✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ) প্রথম মজলিস- ১ সত্যিকার পীরের মুরীদ হতে মুত্তাকি হওয়া বাধ্যতামূলক- রবিবার ৩রা শাবান ৭০৭ হিজরী। আমি অধম গোনাহগার খাকছার এ দিন হযরত খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহির পদপল্লবে আত্মসমর্পণ করে তরীকায়ে চিশতীয়া গ্রহণ করলাম। হযরত খাজা তাঁর করুণার দ্বার আমার জন্য উন্মুক্ত করে আমায় গ্রহণ করলেন। তিনি তার পবিত্র হাত দ্বারা "কুল্লাহ চাহার তর্কী" (চার খন্ডে কাপড়ে তৈরী চিশতীয়া তরিকার বিশেষ টুপি) পরিয়ে দিলেন আমার মাথায়। তিনি নির্দেশ দিলেন, প্রতিদিন যথা নিয়মে যথা সময়ে ফরজ, সুন্নত ও নফল নামাজ আদায় করবে। তৎসঙ্গে ইশরাক, চাস্ত ও আওয়াবিনের নামাজও পাঠ করবে। প্রতি চান্দ্রমাসের ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বেজের রোজা রাখবে। তিনি বললেন, মুত্তাকি ও তাইয়েব (তওবাকারী) একই কথা। মোত্তাকি হচ্ছে সে ব্যক্তি যে জীবনে কখনও গোনাহ করে নি। আর তায়েব (তওবাকারী) সে ব্যক্তি যে গোনাহ করেছে কিন্তু তওবা করে পাপমুক্ত হয়েছে। এ উভয়েই পাপমুক্ত বিধায় সমান মর্যাদার অধিকারী। হাদীস শরীফে আছে -- “যে গোনাহ হতে তওবা করে সে যেন ক...

দাজ্জালের পরিচয়

Image
   ‘জাস্‌সা-সাহ’ নামক এক জন্তুর ঘটনা ও তামীম আদ দারী (রাঃ)-এর সাথে দাজ্জালের সাক্ষাত। ——————— সহিহ্ মুসলিমের হাদিসে আছে— আমির ইবনু শারাহীল শা’বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যাহহাক ইবনু কায়স এর বোন ‘ফাতিমাহ’ বিনতু কায়স (রঃ) কে প্রশ্ন করলেন।  যে সকল মহিলাগণ প্রথমে হিজরত করেছিলেন, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম।  তিনি (ইবনু শারাহীল) বলেন, আপনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) হতে যে হাদীস শুনেছেন, অন্যের দিকে সম্বোধন করা ছাড়া, এমন একটি হাদীস আপনি আমার কাছে পেশ করুন।  তিনি (ফাতিমাহ্) বললেন, তবে তুমি যদি শুনতে চাও, অবশ্যই আমি তা বর্ণনা করব।  সে (ইবনু শারাহীল) বললেন, হ্যাঁ, আপনি বর্ণনা করুন। তিনি (ফাতিমাহ) বললেন, আমি ইবনু মুগীরাকে বিয়ে করেছিলাম। তিনি কুরাইশী যুবকদের উত্তম ব্যক্তি ছিলেন। রসূলুল্লাহ  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)- এর সাথে প্রথম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেই তিনি শাহীদ হয়ে যান। আমি বিধবা হয়ে যাবার পর আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রঃ) আমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। রসূলুল্লাহ  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)  এ...
Image
হযরত আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু : আবু উবাইদা ৫৮৩ সালে বণিক আবদুল্লাহ ইবনুল জাররাহর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরাইশের বনু আল হারিস ইবনে ফিহর গোত্রের সদস্য ছিলেন। তাঁর পুরো নাম আমের ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল জাররাহ আল ফিহ্রি আল কোরাইশি। তবে তিনি আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ নামে ইতিহাসে সমধিক খ্যাত। তাঁর বাবার নাম আবদুল্লাহ ইবনুল জাররাহ। তাঁর মা-বাবা উভয়েই ছিলেন 'ফিহ্র' খান্দানের লোক। হজরত আবু উবাইদা (রাঃ)-এর পঞ্চম ঊর্ধ্বতন পুরুষ 'ফিহ্র'-এ গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশধারার সঙ্গে মিলিত হয়। ইসলাম গ্রহণের পূর্বেও তিনি অন্যতম অভিজাত কুরাইশ বলে গণ্য হতেন। তাঁর অমায়িকতা ও সাহসিকতার জন্য তিনি খ্যাত ছিলেন। তিনি ছিলেন উজ্জ্বল চেহারা, জ্যোতির্ময় ললাট, শীর্ণদেহ, দীর্ঘকায় ও কোমল কপালের অধিকারী৷ তাছাড়া তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, দারুন লজ্জাশীল৷ কিন্তু কোন বিষয় প্রকট আকার ধারণ করলে এবং ভয়ঙ্কর রূপ নিলে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়া নেকড়ের ন্যায় হয়ে যেতেন৷ তিনি সৌন্দর্যে ও উজ্জল্যে তরবারীর ফলার ন্যায় ছিলেন৷ তিক্ষ্ণতা ও প্রখরতার ক্ষে...

সালাতুত্ তাসবিহ্ নামাজ

সালাতুল তাসবিহ নামাজ হাদীস শরীফে ‘সালাতুত তাসবীহ’ নামাযের অনেক ফযীলত বর্ণিত আছে। এই নামায পড়লে পূর্বের গুনাহ বা পাপ মোচন হয় এবং অসীম সওয়ার পাওয়া যাবে। রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলি্ি ওয়াসাল্লাম) স্বীয় চাচা হযরত আব্বাস (রাদিআল্লাহু আনহু)-কে এই নামায শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে,- এই নামায পড়লে আল্লাহ আয-যাওয়াযাল আপনার আউয়াল আখেরের সগীরা-কবীরা জানা-অজানা সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন। তিনি বলেন, চাচা জান ! আপনি যদি পারেন, তবে দৈনিক একবার করে এই নামায পড়বেন। যদি দৈনিক না পারেন, তবে সপ্তাহে একবার পড়বেন। যদি সপ্তাহে না পারেন, তবে মাসে একবার পড়বেন। যদি মাসে না পারেন, তবে বছরে একবার পড়বেন। যদি এটাও না পারেন, তবে সারা জীবনে একবার হলেও এই নামায পড়বেন। তাহলে এই নামাজের গুরুত্ব বুঝতে আর কিছু বাকি রইলনা। তাই আসুন আমরা যার যতটুকু সম্ভব এই নামাজ আদায়ের চেষ্টা করি। এই নামাজে কারো কোন দ্বীমত নেই। শুধু আদায়ের ক্ষেত্রে দুই দুই রাকাত এবং অকত্রে চার রাকআতের মতপার্থক্য আছে। সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়মঃ চার রাকাত। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর, যে কোন সূরা পড়তে পারেন। তবে এই নামাযে বিশেষত্ব এই যে, প্র...

সবেকদরের রাতের আমল

Image
  শবেকদরের বিশেষ দোয়া। --------------- ‎ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧَّﻚَ ﻋَﻔُﻮٌ ﺗُﺤِﺐُّ ﺍﻟﻌَﻔْﻮَ ﻓَﺎﻋْﻒُ ﻋَﻨّﻲ “ আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নী।" অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা ভালবাসেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। [তিরমিযি ৩৫১৩, ইবনে মাজাহ ৩৮৫০] আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, একদা আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আপনি বলুন : যদি আমি (ভাগ্যক্রমে) শবে কদর জেনে নিই, তাহলে তাতে কোন (দোয়া) পড়ব? তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, এই দোয়া, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নী।” অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা ভালবাসেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন। [তিরমিযি ৩৫১৩, ইবন মাজাহ ৩৮৫০] কদরের রাত্রে আমরা যা করতে পারি। কিছু কিছু স্মরণ করে দেওয়ার চেষ্টা করছি। (১) তারাবীর ২০ রাকাত তো নিয়মিত ভাবে আছেই। (২) আমরা কেয়ামুল কদর বা কদর রাতের নিয়তে নামাজ পরতে পারি।নুন্যতম ১২ রাকাত। (২) সালাতুল তসবী আদায় করতে পারি।নুন্যতম ৪ রাকাত।(নিচে লিংক দেয়া হবে) এবং...