ইসলামের বাস্তব কাহিনী (২) ইমাম জাফর ছাদেক (রাদি.) ও এক নাস্তিক নাবিক
হযরত ইমাম জাফর ছাদেক (রাদিআল্লাহু আনহু) ও এক নাস্তিক নাবিক--
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর
কাহিনী নং-২
এক নাস্তিক নাবিকের সাথে হযরত ইমাম জাফর ছাদেক (রাদিআল্লাহু আনহু) এর বিতর্ক হয়েছিল। সে নাবিক বলতো যে আল্লাহ বলতে কিছু নেই (মাজাল্লা)! হযরত ইমাম জাফর ছাদেক (রাদিআল্লাহু আনহু) ওকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনিতো জাহাজ চালক, সমুদ্রে কি কখনো তুফানের সম্মুখীন হয়েছিলেন?
সে বললো, হ্যাঁ, আমার স্পষ্ট স্মরণ আছে যে একবার আমার জাহাজ সমুদ্রের ভয়ানক তুফানে পতিত হয়েছিল।
হযরত জাফর ছাদেক জিজ্ঞেস করলেন, – এরপর কি হয়েছিল?
সে বললো, আমার জাহাজ ডুবে গিয়েছিল এবং জাহাজের সমস্ত যাত্রী ডুবে মারা গিয়েছিল।
তিনি (রাদিআল্লাহ আনহু) জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কিভাবে বেঁচে গেলেন?
সে বললো, আমার হাতের কাছে জাহাজের একটি তক্তা ভেসে এসেছিল। আমি সেটার সাহায্যে সাঁতরিয়ে কূলের প্রায় কাছাকাছি এসে গিয়েছিলাম। কিন্তু পানির স্রোতে সেই তক্তাটা হাতছাড়া হয়ে যায়। তখন নিজেই চেষ্টা করতে লাগলাম, হাত পা নড়াছড়া করে কোন মতে কিনারে এসে পৌঁছলাম।
হযরত জাফর ছাদেক ফরমালেন, এবার আমার কথা শুনেনঃ
যখন আপনি জাহাজে ছিলেন, তখন আপনার জাহাজের উপর উপর এ বিশ্বাস ও আস্থা ছিল যে, এ জাহাজ আপনাকে কূলে পৌঁছাবে। যখন সেটা ডুবে গেল তখন আপনার আস্থা ও ভরসা তক্তার উপর ছিল, যা হঠৎ আপনার হাতে লেগেছিল। কিন্তু যখন সেটাও আপনার হাতছাড়া হয়ে গেল, তখন সেই অসহায় অবস্থায় আপনার কি এ রকম আশাও ছিল যে, কেউ বাঁচাতে চাইলে আমি বাঁচতে পারি?
সে বললো এ আশাতো নিশ্চয় ছিল।
হযরত জাফর ছাদেক ফরমালেন, কার কাছে এ আশা ছিল? কে বাঁচাতে পারে?
এ প্রশ্নে সেই নাস্তিক নিশ্চুপ হয়ে গেল।
তিনি ফরমালেন, ভালমতে স্মরণ রাখুন, সেই অসহায় অবস্থায় আপনি যে সত্ত্বার কাছে আশাবাদী ছিলেন, সেই হলো খোদা, সেই তোমাকে বাঁচিয়েছে।
নাবিক এ কথা শুনে মোহমুক্ত হলো এবং ইসলাম গ্রহণ করলো। (তফসীরে কবীর ২২১ পৃঃ ১ জিঃ)
সবক: খোদা একজন নিশ্চয় আছে। বিপদের সময় অনায়াসে খোদার দিকে খেয়াল যায়। খোদার অস্তিত্বের স্বীকার স্বভাবগত বিষয়।

Comments
Post a Comment