ইসলামের বাস্তব কাহিনী (২৮) জান্নাতের উষ্ট্রী
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর
কাহিনী নং- ২৮
জান্নাতের উষ্ট্রী—
হযরত মওলা আলী (রাদি আল্লাহু আনহু) কোন একদিন বাহির থেকে ঘরে আসলে, হযরত ফাতিমা (রাদি আল্লাহু আনহু) বললেন, আমি এ সূতাগুলো কেটেছি। আপনি এগুলো বাজারে নিয়ে বিক্রি করে আটা কিনে আনুন, যেন হাসান-হোসাইনকে রুটি বানিয়ে খাওয়াতে পারি। হযরত আলী (রাদিআল্লাহু আনহু) সূতা বাজারে নিয়ে গেলেন এবং ছয় টাকায় বিক্রি করলেন। অতঃপর সেই টাকা দিয়ে কিছু ক্রয় করার মনস্থ করলেন। ইত্যবসরে এক ভিক্ষুক হাঁক দিল, (যে আল্লাহকে উত্তম কর্জ প্রদান করে) হযরত আলী (রাদি আল্লাহু আনহু) সেই টাকা সেই ভিক্ষুককে দিয়ে দিলেন। এর কিছুক্ষণ পর এক বেদুইন আসলো, ওর কাছে এক বড় মোটা তাজা উষ্ট্রী ছিল। সে বললো, হে আলী, এ উষ্ট্রীটি ক্রয় করবেন। হযরত আলী (র.) বললেন, আমার কাছে টাকা পয়সা নেই। বেদুইন বললো বাকীতে নিয়ে নাও-এ বলে উষ্ট্রীর রশি ওনার হাতে দিয়ে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর অপর আর একজন বেদুইন উপস্থিত হয়ে বললো, হে আলী, এ উষ্ট্রী বিক্রি করবেন? হযরত আলী বললেন, নিয়ে নাও। নগদ তিনশ নিন-এ বলে তিনশ দিয়ে বেদুইন উষ্ট্রীটি নিয়ে চলে গেল। এরপর হযরত আলী (রাদিআল্লাহু আনহু) প্রথম বেদুইনকে তালাশ করলেন কিন্তু পাওয়া গেলনা। অগত্যা ঘরে ফিরে আসলেন। ঘরে এসে দেখে যে হযরত ফাতিমা (রাদিআল্লাহু আনহা) এর পাশে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বসে আছেন। হযরত আলীকে দেখে মুচকি হেসে বললেন, আলী, উষ্ট্রীর কাহিনী তুমি নিজে শুনাবে, নাকি আমি শুনাবো? হযরত আলী আরয করলেন, হুযূর, আপনিই শুনান।
হুযূর ফরমালেন, প্রথম বেদুইন ছিল জিব্রাইল এবং দ্বিতীয় বেদুইন ছিল ইস্রাফিল এবং উষ্ট্রীটি ছিল জান্নাতের, যেটার উপর জান্নাতে ফাতিমা (রাদিআল্লাহু আনহা) আরোহন করবেন। আল্লাহর কাছে তোমার দান সেই ছয় টাকা যা ভিক্ষুককে দিয়েছ, খুবই পছন্দ হয়েছে এবং আল্লাহ তাআলা তোমাকে দুনিয়াতে উষ্ট্রীর ক্রয় বিক্রয়ের বাহানায় এর প্রতিদান দিয়েছেন। (জামেউল মুজিজাত ৪ পৃঃ)
সবক : আল্লাহ ওয়ালা নিজে উপবাস রয়ে অভাবীদেরকে খাওয়ান। এ কাহিনী থেকে এটাও বুঝা গেল যে আমাদের হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) অদৃশ্য জ্ঞানী, তাঁর কাছে কোন কিছু লুকায়িত নেই।
--------------------------

Comments
Post a Comment