মে’'রাজ (পর্ব- ১)
মেরাজের সুচনা লগ্ন :
মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত সফরকে 'ইসরা' বলে। সুরা বনি ইসরাইলের প্রথম আয়াতে এই বর্ণনা থাকার কারণে এই সুরাকে সুরা ইসরা বলা হয়। এবং সেখান থেকে উর্ধলোকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত যে সফর হয়েছে, তার নাম মে'রাজ । সিদরাতুল মুনতাহার পরবর্তী সফর ই’রাজ। ইসরা সুরা বনিইসরাঈলের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। আর মে'রাজ ও ই’রাজ সূরা নাজমে উল্লেখ রয়েছে এবং অনেক হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। মি’রাজ ছিল মুলত মকানিল সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত। সিদরাতুল মুনতাহার পরবর্তী সফর হচ্ছে ই’রাজ। এই তিন সফরের দর্শনার্থী ছিল ভিন্ন ভিন্ন। যথা ইসরা সাক্ষী হল তৎকালীন মুসলিম, মুমিন,কাফের সবাই। কিন্তু মিরাজের কোন মানবকুল সাক্ষী ছিলনা তার সাক্ষী ছিলেন ফেরেশতা মন্ডলী কিন্তু সিদরাতুল মুনতাহার পরে সাক্ষী বলতে তৃতীয় পক্ষ কেউ ছিলনা। যার রহস্য একমাত্র আল্লাহ্ ও রসুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-ই জ্ঞাত।
সময়-কাল–
রসুলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) মহান আল্লাহ্ তা'আলার হুকুমে তাওহীদের দাওয়াত শুরু করার পর অর্থাৎ নবুয়ত প্রকাশের পর বলাবাহুল্য তিনি সৃষ্টির শুরু থেকেই নবী ছিলেন। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিকভাবে পৃথিবী পৃষ্টে শুভাগমনের চল্লিশ বছর পরে নবুওয়তের প্রকাশ করতে আল্লাহ তা’আলার হুকুম হয়েছিল। যদিও কপটবিশ্বাসীরা বলে থাকে চল্লিশ বছর পর নবুঅত প্রাপ্তি হয়েছেন। যাক সেদিকে যাচ্ছিনা মূল কথা হল সেই চল্লিশ বছর অতিবাহিত হবার পর তখন আরো ১১ বছরের ছেয়ে আরো কিছুদিন অতীত হয়ে গিয়েছিল।এ বিষয়ে বিভিন্ন আলেম ওলামাদের বিভিন্ন মত থাকলেও প্রমানিত আছে যে, মিরাজ হিজরতের কিছুকাল পূর্বেই সংঘঠিত হয়েছিল।
হযরত উম্মুল মুমিনিন খাদিজাতুল কুবরা (রঃ) ও রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ছায়া (নিরাপত্তা) দানকারী প্রানপ্রিয় চাচা হযরত আবুতালেব (রঃ) ইন্তেকালের পর তিনি মক্কার কাফেরদের অত্যচারে অতিস্ট হয়ে তায়েফের উদ্দেশ্যে গমন করেছিলেন। তায়েফ সফরে গিয়ে সেখানে হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। তখন কাফিরদের সীমাহীন অত্যাচার ও নির্যাতনে মুসলমানরা যখন অসহায় হয়ে পড়ে, তাঁর পথ রুখে দেবার জন্য মক্কার কাফেররা সব রকমের চেষ্টা করে দেখছিল। তখন সকল প্রকার বাধা বিপত্তির দেয়াল টপকে তাঁর আওয়াজ আরবের সমস্ত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিল। আরবের এমন কোন গোত্র ছিল না যার দু’চারজন লোক তাঁর দাওয়াতে প্রভাবিত হয়নি। মক্কাতেই আন্তরিকতা সম্পন্ন লোকদের এমন একটি ছোট্ট দল তৈরী হয়ে গিয়েছিল যারা এ সত্যের দাওয়াতের সাফল্যের জন্য প্রত্যেকটি বিপদ ও বাধা বিপত্তির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। মদীনায় শক্তিশালী আওস ও কাযরাজ গোত্র দু’টির বিপুল সংখ্যক লোক নবীজির (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার সমর্থকে পরিণত হয়েছিল যখন তাঁর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা থেকে মদীনায় স্থানান্তরিত হয়ে বিক্ষিপ্ত মুসলমানদেরকে এক জায়গায় একত্র করে ইসলামের মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার সময় ঘনিয়ে এসেছিল এবং অতিশীঘ্রই তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এ সুযোগ লাভ করতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই অবস্থায় মহান রব্বুল আলামিন উনারই প্রিয় হাবীব (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-উনাকে তাঁহার কুদরতের নিদর্শন সরাসরি অবলোকনের সূচনা করলেন। যা সত্যিই একটি অতি আশ্চর্য ঘঠনা। পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা বাণী ইসরাঈলের শুরুতেই তার বর্ণনা আছে। যা পরবর্তী পর্বে আলোচনা হবে।
***************

Comments
Post a Comment