প্রকৃত সাধক তার উপযুক্ত মুরীদকেই সাজ্জাদানশীল করেন


📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ)
✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ)
দ্বিতীয় মজলিস

প্রকৃত সাধক তার উপযুক্ত মুরীদকেই সাজ্জাদানশীল করেন
শুক্রবার ৮ই শাবান ৭০৭ হিজরী। হজরত খাজার চরণ চুম্বন করে ভাগ্যবান হলাম। মলিহ নামে আমার এক গোলাম ছিলো। আমি তাঁকে কৃতজ্ঞতার নজরানা হিসেবে হযরত খাজা যিকরুল্লাহ বিল খায়েরের সম্মুখে এনে আযাদ করলাম। হযরত খাজা অনেক দোয়া খায়ের করলেন। মুক্ত গোলাম এ সময় হযরত খাজার কদম বুসি করলো এবং তাঁর নিকট বায়াত গ্রহণ করলো। ওয়াল হামদু লিল্লাহ আলা জালিক।

হযরত খাজা বললেন সলুকের এ পথে কৌলীন্যের কোন বিশেষ মূল্য ও দাসত্বের (গোলামী) জন্য কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। যে ব্যক্তি মুহাব্বাতের জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে তার কর্ম সমাধা হবে।

গজনীতে এক বুজুর্গ ছিলেন। তার জীরক নামের এক গোলাম ছিলো। সে এ পথে সিদ্দিকের দরজা হাসিল করেছিলো। যখন বুজুর্গের ইন্তেকালের সময় ঘনিয়ে এলো তখন তার মুরীদগণ তার নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার ইন্তেকালের পর আপনার গদীনশীন হবে কে? উত্তরে তিনি তার জীরক নামের গোলামটির কথা বললেন যে জীরক আমার স্থলাভিষিক্ত হবে। সেই বুজুর্গের তিনজন পুত্র সন্তান ছিলো, যারা বয়প্রাপ্ত, চালাক, চতুর ও ধূর্ত ছিলো। জীরক এদের ব্যাপারে ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলো। তাই সে বললো আপনার সাহেবজাদারা আমাকে আপনার স্থলে বসতে দিবে না বরং তারা আমার প্রতি অত্যাচার করবে। বুজুর্গ বললেন, "তুমি কোন ভয় করোনা, এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকো। যদি আমার সন্তানগণ তোমার কোন ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাহলে আমি তাদের মাথা অবনমিত করাবো তোমার নিকট। কিছু দিনের মধ্যেই সে বুজুর্গের ইন্তেকাল হলো এবং জীরক তার স্থলাভিষিক্ত হলো। কিন্তু সেই বুজুর্গের সন্তানগণ তাকে শান্তিতে থাকতে দিলোনা। তারা তার সঙ্গে শত্রুতা আরম্ভ করলো এবং বলতে লাগলো তোর এমন সাহস যে আমাদেরই গোলাম (ক্রীতদাস) হয়ে আমাদের উপর কর্তৃত্ব করবি! আমার পিতার গদীতে বসবি? এ ঝগড়া নিত্য দিনের ঝগড়ায় পরিণত হলে জীরকের নিকট অসহ্য হয়ে উঠলো। জীরক বুজুর্গের মাজারে যেয়ে অভিযোগ জানিয়ে বললো আমি আপনার আদেশ পালন করে আপনার গদীতে বসেছি কিন্তু আপনার সাহেবজাদারা (সন্তানগণ) আমাকে বিতাড়িত করবে। আমি অসহায়, আপনি আমায় সাহায্য করুন। অতিযোগ জানিয়ে ফিরে আসতেই সে খবর পেলো কাফেররা গজনী আক্রমণ করেছে এবং বাদশাহ তা প্রতিরোধ করার জন্য সব স্থান হতে যুবকদেরকে নির্বাচন করে নিয়ে যাচ্ছে। ইত্যবসরে বুজুর্গের তিন ছেলেকেই সে যুদ্ধের জন্য যেতে হলো এবং যুদ্ধে সব ছেলেই শহীদ হলো। এভাবেই বুজুর্গ তার ওয়াদা রক্ষা করলেন। জীরক কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আজীবন দু'রাকাত নফল নামাজ পীরের জন্য পড়ে গেছেন।
-ওয়াল হামদু লিল্লাহ আলা জালিক

পরবর্তী পর্ব
সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ ব্যাক্তিত্বও থাকে

Comments

Popular posts from this blog

কারামত - (আনা সাগরের পানি ছোট্ট পাত্রে চলে আসার রহস্য)

মে’'রাজ (পর্ব- ১)