মে’'রাজ (পর্ব- ২)
ইসরা
পবিত্র কুরআনুল করিমের সূরা বণী ইসরাঈলের প্রথম আয়াতে এ প্রসঙ্গে এরশাদ হইয়াছে- "সুব্হা-নাল্লাজি~ আসরা-বি আ’বদিহি-লাইলাম্-মিনাল মাসজিদিল হারা-মি ইলাল মাসজিদিল আক্বসাল্লাজি বা-রাকনা- হাওলাহু- লিনুরিয়াহু- মিন আ-য়া-তিনা-। ইন্নাহু- হুয়াস্ সামি-য়ূ’ল বাছি-র।" (সুরা বনীঈস্রাইল আয়াত ১)
অর্থাত :- "পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা (আল্লাহ) তিনি, যিনি স্বীয় বান্দা (বন্দনাকারী/ইবাদত গুজার) অর্থাত হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-উনাকে রাত্রি বেলা ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদ আল্ হারাম (মক্কা মুকাররামাহ) থেকে মসজিদে আকসা (বাইতুল মুকাদ্দাস) পর্যন্ত, যার চার দিকে আমি (আল্লাহ) পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি, যাতে আমি তাঁকে (রাসূল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে) কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল'। এখানে একটি কথা উল্লেখ না করলে আমার উদ্দেশ্য আধুরা রয়ে যাবে মনে করি, তা এই যে কপট বিশ্বাসীরা এখানে আব্দুহু বলে ‘দাশ’ শব্দ ব্যাবহার করে থাকে। যা এখানে উদ্দেশ্য ছিলনা। রসুলুল্লাহর শানে 'দাশ' শব্দটি শোভনীয় নয়। এত বড় আয়োজন দাশের জন্য হয়েছে তা গ্রহনযোগ্য হতে পারেনা। মুনাফেকরা নবীর শান-মান নিচু করার মানসে দাশ শব্দটি উচ্চারণ করে থাকে। যার পিছনে তাদের উদ্দ্যেশ আমাদের মত মানুষ বলে মেরাজের দর্শন অস্বীকার করতে ও করাইতে পারে। যেহেতু আমাদের মত চোখ কখনো আল্লাহ্ দর্শনে সক্ষম হবেনা। যেমন আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন - "কোন মানব-দৃষ্টি তাঁকে (আল্লাহ্কে) দেখতে পারেনা, অথচ তিনি (আল্লাহ্) সকল কিছুই দেখতে পান" (সূরাঃ আল-আন'আম আয়াত : ১০৩)
উপরের আয়াতটিকে দলিল বানিয়ে তারা আল্লাহর সাথে নবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর দর্শন অস্বীকার করে থাকে। ইহা পরোক্ষভাবে মেরাজ অস্বীকার করার একটা খুঁত বাহির করার প্রয়াস মাত্র। আল্লাহর সৃষ্টিতে যত কিছু আছে সবই ‘আবদ’ তার মধ্যে স্থর ভিন্ন ভিন্ন। এখানে নবী, হাবীব, রসুল কিছু উল্লেখ নাকরে ‘আব্দ’ বলাতে মানুষের মধ্যে ব্যাখ্যার ব্যাবধান পরিলক্ষিত হয়। যার কারণে সহজে বুঝা যায় নবীর মর্যাদা কার কাছে কতটুকু। কে নবীর সন্মানের গুরুত্ব দেয় আর কে দেয়না। এখানেই মুনাফেক ও মুমিনের পরিচয় ফুটে উঠে। কে নবীর সাথে আদব রক্ষা করে আর কে বেয়াদবি করে। কারণ আদবের স্থান থেকে অপসারিত করতে পারলেই ঈমানের ঙ্খলন হবে। কারণ ঈমানের ভিত্তি আমলে নয় আদবের সাথে সংস্পৃক্ত। যেমন মরদুদ শয়তান সাত হাজার বছর আল্লাহর এমন এবাদত করেছিল যার কারণে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ফেরেশতাদের কাতারে নিয়ে দাড় করিয়ে দিল। কিন্তু আল্লা্হর নবীর সাথে বেয়াদবি করার কারণে তার সকল ইবাদতই বিফলে গেল। যদি শুধু আল্লাহর হুকুম অবমাননার জন্য হত আল্লাহ তাকে তওবার সুযোগ দিতেন। যেমন হযরত আদম আলাইহিস্সালাম ওতো (শয়তানের ধোকায়) আল্লা্র হুকুমের কথা ভুলে নিষিদ্ধ ফল ভক্ষন করেছিলেন কিন্তু আল্লাহ তা ক্ষমাকরে দিয়েছেন। ইবলিশ এত এবাদতগুজার হবার পরেও ক্ষমা পেলনা শুধু নবীর সাথে বেয়াদি আর তার অহংকারের কারণে।
আল্লাহ রব্বুল আলামীনের সকল গুনবাচক নামের মধ্যে 'ছোবহান' নামটি সবচেয়ে মর্যাদাময়। ইসরা ও মেরাজ এমন ঘঠনা যার সমমর্যাদা আর কিছুই হতে পারেনা, তাই এই ঘঠনা বর্ননায় আল্লাহ রব্বুল ইজ্জত তাঁহার সবচেয়ে মর্যাদাময় নামটি উচ্চারণ করেছেন। সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু ছারা সকল কিছু নিষ্ক্রিয় (অচল) করে এই ইসরা ও মেরাজ সংঘটিত করেছিলেন। যার প্রমান বিভিন্ন ঘঠনার মাধ্যমে আমরা জানতে পাই। যেমন,-মাসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত যেতে তখন এক মাসের বেশি সময় প্রয়োজন হত। কিন্তু আল্লাহ তাঁর হাবীব (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-উনাকে মাসাধিক কালের পথ মূহুর্তের মধ্যে অতিক্রম করিয়ে পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থানরত সকল বিশ্বাসী অবিশ্বাসীকে তাঁর কুদরাতের এক অনন্য প্রমাণ দেখালেন। তা প্রমান হিসাবে আমরা নিরিক্ষন বা পর্যালোচনা করতে পারি সেই যুগের কাফেরদের প্রশ্ন ও রসুল (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-উনার জবাব থেকে। যা পরবর্তীতে মিরাজ থেকে ফিরে আসার পর পবিত্র মক্কায় অবস্থানরত সকল কাফির-মুশরিকদের প্রশ্নের উত্তরে মসজিদে আকসা সহ চতুর্পার্শের সকল নিদর্শন বর্ণনা করেছিলেন। যা শেষের দিকে আলোচনা হবে।আল্লাহ তাআলা তার মুমিন, কাফির, মুশরিক, বিশ্বাসকারী, অস্বীকারকারী অর্থাত অনুগত্য ও অঅনুগত্য সকল বান্দার কথা শুনেন এবং দেখেন। প্রত্যেককে তিনি তার আমল বা কাজ অনুযায়ী বিনিময় দেন, যার সে হকদার, দুনিয়াতেও এবং আখিরাতেও।
সেই যুগের কাফির মুশরিকরা মেরাজ মেনে নিতে পারেনি মানবেওবা কি করে তারাতো কাফের। মে'রাজ তৎকালে মুসলিমদের জন্য একটি অগ্ণিপরীক্ষা স্বরূপ ছিল। মেরাজের কারণে আল্লাহ্ তা'আলার উপর ইমান আনার পরও অনেকে মবীজির উপর অনাস্তা এনে ধর্ম ত্যাগী হয়ে মুর্তাদ হয়েছিল। আবার কিছু আল্লাহর উপর ইমান আনার পর মেরাজের ব্যাপারে সন্দেহ পোষন করেছিল তারা মুনাফেক হল। তারাই সৌভাগ্যবান যার সন্দেহহীন ভাবে নবীজির উপর ইমান এনে মেনে নিল, তারাই মুমিন। বর্তমান যুগে মেরাজের ঘঠনার কারণে কেউ মুর্তাদ না হলেও বাকি তিন প্রকার আকীদা পোষনকারী বিরাজমান। মেরাজের ঘঠনা হয়ত অনেকেই জানেন তাই আমি বিস্তারিত লিখবনা শুধু সংক্ষিপ্ত আকারে লিখতে চেষ্টা করব।
--------------

Comments
Post a Comment