মে’'রাজ (পর্ব- ৩)

রসূলুল্লাহ (সঃ) এর মে'রাজ (পর্ব- ৩)


ইসরা'র ঘঠনাবলী-
সেই দিন ছিল ২৬শে রজব দিনগত হল ২৭ তারিখের রাত্রি, নবীজি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) নামাজ শেষে শুয়ে পড়লেন, (যেহেতু তখন নামাজ ফরয ছিলনা সম্ভবত তাহায্যুত নামাত হতে পারে) জাগ্রতও নন আবার নিদ্রিতও নন তন্দ্রাবস্থায় দেখতে পেলেন জিব্রীল (আঃ) তশরীফ আনলেন (হাজির হলেন) এবং রসুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে মেরাজের আহবান করলেন। অতঃপর নিকটবর্তী জমজম কূপের সন্নিকটে নিয়ে আসলেন তথায় বক্ষবিদীর্ণ করলেন এবং হৃৎপিণ্ড বা কুল্বটাকে বের করলেন। অতঃপর একটি স্বর্ণপাত্র উপস্থিত করা হল, যা পরিপক্ব সত্যিকার জ্ঞানবর্ধক বস্তুতে পরিপূর্ণ ছিল। আবার প্রতিস্থাপন করে যাত্রার প্রস্তুতি শুরু করলেন। অতঃপর একটি খচ্চর হতে একটু ছোট, গাধা হতে একটু বড় শ্বেত বর্ণের বাহন উপস্থিত করা হল তার নাম “বোরাক” (এখানে শুধু পরিমাপ বুঝাবার জন্য খচ্চর ও গাধার নাম উল্লেখ করা হল) যার প্রতি পদক্ষেপ দৃষ্টির শেষ সীমায়। (পূর্ববর্তী নবীগণের বেলায়ও এজাতীয় বোরাক ব্যাবহারে উল্লেখ পাওয়া যায়) 
[হিন্দু ধর্মেও এই বোরাকের ব্যাপারে উল্লেখ আছে। যদিও তারা ইসলামকে অস্বীকার করে থাকে। তাদের ধর্ম মতে 'কৃষ্ণ' নামের সত্বা হল অষ্টম অবতার (ধর্মপ্রচারক) যদিও তারা তাঁকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয়। তার কারণ হল তাদের ধর্মমতে শেষ অবতার (কল্কি) যে হবে তার এমন ঘোড়া সদৃশ বাহন থাকবে যার দুটি পাখা থাকবে। আরো কিছু নিদর্শন থাকলেও উল্লখ করার প্রয়োজন নেই। এখানে শুধু বোরাকের পরিচয়ের জন্য উল্লেখ করলাম।]
সেই বোরাকে চড়ে তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বাইতুল মোকাদ্দেস পর্যন্ত গমন করেন। সঙ্গে  ছিলেন জিবরীল (আঃ)। তথায় যাত্রাপথে আল্লাহর  বিভিন্ন নিদর্শনাবলী দর্শন করেন।হাদিসের বিভিন্ন রিওয়াতে এসেছে রাসূল (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ) বলেন, বোরাকে ভ্রমণের সময় জিবরাইল আলাইহিস্সালাম এক জায়গায় রাসূল (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে পরিচয় করিয়ে দেন, "এটা তায়্যেবা (অর্থাৎ মদিনা), এটাই হচ্ছে হিজরতের জায়গা" রসুল (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে দুই রাকআত নামাজ আদায় করেন। তারপর আরেক জায়গায় পরিচয় করিয়ে দেন এবং বলেন 'এটা হচ্ছে তুরে সাইনা অর্থাৎ এখানেই আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আলাইহিস্সালামের সাথে কথা বলেন'।অতঃপর তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) সেখানেও দুই রাকআত নামাজ আদায় করেন। অতঃপর আরেক স্থানে যাত্রা বিরতি করেন এবং বলেন এটা হচ্ছে ‘বায়তে লাহাম’ অর্থাৎ এখানেই হযরত ঈসা আলাইহিস্সালাম জন্ম গ্রহণ করেন। সেখানেও নবিজী (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করেন। এখানে উল্লেখ করা জরুরী সকল কিছু জিব্রাঈল (আঃ)-এর পরামর্শ মতেই হয়েছিল।
[এখানে শিক্ষণীয় যে বরকতময় স্থান সমুহে যাত্রা বিরতি ও কিছু ইবাদত করা নবিজী (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার সুন্নত মুবারকের অন্তর্ভূক্ত।]
ওদিকে বাইতুল মাকদিসে মসজিদে আল্ আকসায় সকল নবী ও রসূল (আঃ)-গণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান, ব্যতিক্রম শুধু মুসা আলাইহিস্সালাম। তিনি আপন কবর মুবারকে (হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থের বর্ণনা মতে (সালাত) নামাজরত অবস্থায় ছিলেন)।
**[এখানে লক্ষ্যণীয় যে,- যেই সময় সকল নবী রসুলগণ মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বাইয়াত তথা অনুগত্যের সিকৃতির অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু কেন মূসা আলাইহিস্সালাম সেখানে হাজির না হয়ে নিজের কবর মুবারকে ছিলেন? উত্তর হিসাবে খুঝে পাই, আল্লাহর বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে, সকল নবী ও রসুলদের পক্ষ থেকে আল্লাহর নির্বাচিত মেহমান যিনি এত মহা ও মহান আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু সেই মানবরূপি সত্বা সৃষ্টির শিরমনি নবী মুহম্মদ মুস্তফা, মুজতবা (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে অভিবাদন জানানোর জন্য স্বীয় কবর মুবারকে ছিলেন। ইহা নিশ্চয় আল্লাহ্ তা'আলার পরিকল্পিত যে, ঐ পথেই রসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম গমন করবেন।এতে কোন সন্দেহ নেই। এখানে আরো লক্ষ্যণীয় যে, যাকে অবিভাদন জানানোর জন্য তিনি (মূসা আলাইহিস্সালাম) অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর (মেহমানের) শুভাগমনে কিভাবে নামাজ অবস্থায় ব্যস্ত থাকতে পারেন? কারণ সেই সময় তাঁহার (মূসা আঃ এর) কবরে অবস্থান শুধু রসূল (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি অবিভাদন জানানোই উদ্দেশ্যে। তাই এখানে অনুমান করা যায় তিনি নামাজ রত অবস্থায় নন, রসূল (সাল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনে সালাত ও সালামের মাধ্যমে 'ইসরা"-য় বরন করে নেন। তারপর রাসূল (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে আল্ আকসা-তে পৌছেন। যেখানে সকল নবী ও রাসূল আলাইহিস্সালাম গণ একত্রিত হন। [মন্তব্যটির কোন দলিলিক প্রমান না থাকলেও আল্লামা ডঃ মুহম্মদ তাহের-আল্ কাদরী উনার মন্তব্য থেকে নেয়া হল অনুরুপ]।
বায়তুল মুকাদ্দাস হচ্ছে সকল নবী ও রাসূলআলাইহিস্সালাম দের প্রাণ কেন্দ্র। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) হচ্ছেন ইমামুল মুরসালিন অর্থাৎ সকল নবী ও রাসুলদের ইমাম :আল্লাহ তাআলা তাঁকে সকল নবী ও রাসূলদের ইমামের বাস্তব স্বীকৃতি দিলেন পবিত্র ভূমি মুসলমানদের প্রথম কেবলা বাইতুল মুকাদ্দাসের মসজিদে আকসায় সকল নবী ও রাসূলদেরকে মুক্তাদি বানিয়ে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে নামাযের ইমাম বানিয়ে নামায সম্পন্নের মাধ্যমেই ইমামুল মুরসালিন ওয়ান নাবিয়্যিন মনোনীত করেছেন।
সেই মসজিদে আকসা থেকেই রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম )-উনার মেরাজের যাত্রা শুরু করেছিলেন।
---------

Comments

Popular posts from this blog

কারামত - (আনা সাগরের পানি ছোট্ট পাত্রে চলে আসার রহস্য)

প্রকৃত সাধক তার উপযুক্ত মুরীদকেই সাজ্জাদানশীল করেন

মে’'রাজ (পর্ব- ১)