মে’'রাজ (পর্ব- ৪)
পবিত্র কোরআনুল করিম উনার মধ্যে মসজিদ আল্-হারাম থেকে মসজিদ আল-আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত পরিভ্রমণকে ইসরা নামে অভিহিত করা হয়েছে। যা পূর্বেই আলোচিত হয়েছে। বাইতুল মোকাদ্দিসে সমস্ত আম্বিয়া (আলাইহিস্সালাম) উনাদের সাথে জামাত সহকারে নামাজ আদায়ের পরে রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তিনি মেরাজের যাত্রা শুরু করেন। মসজিদে আকসা থেকে মিরাজে যাবার জন্য উপস্থাপন করা হল এক বিশেষ ধরনের সিরি। বস্তুত এই সিরির নামই মে'রাজ। তা কিরকম সিড়ি তার কোন উপমা নেই। হতেপারে তা এমন সিড়ি যেখানে আরোহন করতেই গন্তব্য হাজির। এরকম হলেও বিস্ময়ের কিছু নেই। কারণ বিস্মিত না হবার জন্য আল্লাহ্ তা'আলা মানবীয় শক্তিতে এর উপমা রেখে দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ বলেন- "কিতাবের জ্ঞান যার ছিল সে বললঃ আপনি চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি ওটা (রাণী বিলকিসের সিংহাসন) আপনাকে এনে দিব। সুলাইমান যখন ওটা (সিংহাসন) সামনে রক্ষিত অবস্থায় দেখল তখন সে বললঃ এটা আমার রবের অনুগ্রহ যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, আমি কৃতজ্ঞ না অকৃতজ্ঞ; যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তা করে তার নিজের কল্যাণের জন্য।" (সূরাঃ আন-নামাল আয়াত - ৪০)
এই হল কিতাবের এলমধারী লোকের কেরামত। আর যিনি সকল কিতাবের জ্ঞানের ভান্ডার তাঁর পলকে যথাস্থানে গমনে ঈমানদারের জন্য সাধারণ। এ কারণে যে তারা আল্লাহর অসীম কুদরতে বিশ্বাসী।
আল্লাহ্ তা'আলার নভোমণ্ডলের অপরূপ দৃশ্য দেখে তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বিমোহিত হন। প্রতিটি আসমানে বিশিষ্ট নবী (আঃ) উনাদের সঙ্গে রসুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার সালাম ও কুশলাদি বিনিময় হয়। মহান আল্লাহ্ রহমানুর রহিম তাঁহার প্রিয় হাবীব (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে মেরাজের অভ্যর্থনার জন্য তাঁহার একান্ত অনুগত্য বান্দা (বন্দনাকারী) ও মর্যাদাময় নবী রসুল (আঃ) উনাদের আর্জি কবুল করে অভিবাদনের সুযোগ করে দিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় রসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রথম আসমানে সমুন্নত হলেন তখন ১৪ কৌটি চার লক্ষ ফেরেশতা দলে দলে নবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রথম আসমানে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। তাদের প্রত্যেক ১২ হাজারের জন্য একজন করে উপনেতা ছিল। যাদের নেতৃত্বে ছিলেন 'ইসমাইল' নামের ফেরেশতা। সবাই খুশী উদযাপন করেছিলেন শুধু মাত্র ব্যাতিক্রম ছিলেন এক জন ফেরেশতা। তার নাম ‘মালিক’ তিনি না হাসলেও সালাত ও সালাম ঠিকই করেছেন। তিনি কোনদিন হাসেন নাই এবং হাসবেনওনা। নবীজির দর্শনে যার হাসি প্রকাশ পায়নি সে আর কখন হাসবে? এটা আল্লাহরই ফয়সালা। তিনি যাহান্নামের দায়িত্বে নিয়োজিত। আল্লাহর ফেরেশতার সংখ্যা কত আল্লাহই জানেন। ফেরেশতাদের অভ্যর্থনা পর্বের পর শুরু হল বিশিষ্ট নবী রসূলদের অভ্যর্থনা পর্ব।
-------------

Comments
Post a Comment