রসূলুল্লাহ (সঃ) এর মে'রাজ (পর্ব- ৭)



রসূলুল্লাহ (সঃ) এর মে'রাজ (পর্ব- ৭)

‘মকানিল সিদরাতুল মুনতাহা’—

মকানের অর্থ হল স্থান, 'সিদরা' হল একটি বৃক্ষের নাম, 'মুনতাহা' হল সীমানা। এপর্বের যাকিছু উল্লেখ করা হবে তা সেই স্থানের আশপাশেরই ঘঠনা। যা সপ্তম আকাশে তথা আরশে আযিমের নিন্মের দিকের। যাতে সাথে ছিলেন জিব্রীল (আ.)।

অতঃপর রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তিনি জান্নাত ও জাহান্নাম পরিদর্শন করেন। যার অবস্থান ছিল সিদরাতুল মুনতাহা বৃক্ষের সন্নিকটে। তথায়  তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) দেখলেন জান্নাতের মধ্যে  আল্লাহর অগনিত নেয়ামত যা আমার এই ক্ষুদ্র কলামে প্রকাশ করা বা লিখা সম্ভব নয়। তারপরও কয়েকটি লিখার সুযোগ নিলাম। 'হুর' যাহা কল্পনাতীত সুন্দরী রমনি, বিশুদ্ধ পানী যা কখনো দুষিত হওয়ার নয়, স্বাদ পরিবর্তন না হওয়া মধু, নেশাহীন সুস্বাদু সরাব (পানীয়), পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মধুর নহর, ডালিম ফল, ইত্যাদি। এখানে শুধু কয়েকটি নাম উল্লেখ করলাম। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাঁর সৎ বান্দাদের জন্য ঐ সব নেয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছেন যা দুনিয়ার কোনো চক্ষু দর্শন করে নাই; কোনো কর্ণ শ্রবন করে নাই; এমন কোনো অন্তরে কল্পনাও জাগে নাই। 


বিশাল এলাকা নিয়ে সেই জান্নাত তাহা শুধু মুত্তাকীদের জন্য বরাদ্ধ রেখেছেন। যেমন পবিত্র কোরআনুল করিমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, -  "আর তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতের দিকে, যার পরিধি আসমানসমূহ ও যমীনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।" [সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৩]


অতঃপর জাহান্নামের দিকে দেখলেন সেখানে ছিল আল্লাহ তা’আলার ক্রোধ, তাঁর শাস্তি এবং তাঁর অসন্তুষ্টি। হাদীস শরীফের বর্ণনা মতে যদি তাতে পাথর ও লোহা নিক্ষেপ করা হয় তবে ওগুলিকেও খেয়ে ফেলবে। ওখানে আরো অনেক রকমের অপরাধের শাস্তির নিদর্শন। যাহা যাহান্নামের বর্ণনায় পাওয়া যায়। তাই এখানে উল্লেখ করলামনা।

সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পরকালের সকল কিছুর সমাহার ও সীমানা। রসুলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বাইতুল মা'মুরে নামাজ আদায় করে; জীব্রাঈল (আ.)-কে সাথে নিয়ে আল্লাহর সৃষ্টির বিভিন্ন নিদর্শন পরিদর্শন করেন। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন- "যেন আমি তাঁকে (রসূলকে) আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি"। (সুরা আল্ ইসরা আয়াত : ১)

অতঃপর তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এমন স্থানে গিয়ে পৌছেন যার নাম 'মকানিল সিদরাতুল মুনৃতাহা' । সিদরাতুল মুনতাহার নিচে সমতল যা পুরাটা সর্ণের নির্মিত। যেখানে সিদরাতুল মুনতাহা নামক বৃক্ষ (সীমান্তের বদরী বৃক্ষ) দেখেন৷ সেটির পাতাগুলো হাতির কানের মত এবং ফলগুলো হিজর (একটি এলাকা) অঞ্চলের কলসীর মত৷ (অনেক বড় বুঝাতে হাতির কান ও কলসী উল্লেখ করা হল) এখানে একটি কথা উল্লেখ করতে পারি, আল্লাহর সৃষ্টির আমল সমুহ সেই 'সিদরাতুল মকানিল মুনতাহা' পর্যন্ত পৌছানোর শেষ সীমা। 


মানুষের আমল সমুহ ফেরেশতারা সেখানে পর্যন্ত নিয়ে যান। আর সেখান থেকেই আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয়। সেখান থেকে উর্ধে সৃষ্টির কোন কিছুই অতিক্রম করার হুকুম নেই। এমনকি আল্লাহর আরশ পর্যন্ত নিন্মাংশ সেই সীমানার নীচে। যেমন আরশের পার্শে ‘ছলছবিল’ নামের একটি পানির নহর (জলাশয়) আছে সেটাতে জীবরিল (আ.) প্রতিদিন গোসল করেন। তাই বলতে পারি আরশের নিম্নভাগ সপ্তম আকাশের উপরে সিদরাতুল মুনতাহার নিচে। তাই আলেম ওলামারা  সর্বোচ্চ মকান বুঝাতে  আরশ পর্যন্ত বলে থাকেন। এটা ভুল বলা যাবেনা, মানুষকে উচ্চ মকান বুঝাবার জন্য বলে থাকেন। তা ছারা উপরেরভাগ কতটুকু উচ্চে তা আল্লাহ্ ছাড়া কারো জানার কথা নয়। অন্য রিওয়ায়েতে আছে আরশের পাদদেশে সিদরাতুল মুনতাহা। তাহলে ধরে নিতে পারি আরশ হচ্ছে সিদরাতুল মুনতাহা থেকে শুরু করে উপরের দিকে। যার বিস্তৃতি আল্লাহ্ তা’ল্লাহ্ তা’আলা ছাড়া কোন ফেরেশতাও জানেনা। আদম (আঃ) আরশে আযিমে রসুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার নাম মুবারক দেখেছিলেন তাতে বুঝা গেল আরশ একেবারে সিদরাতুল মুনতাহার পরবর্তীও নয়।

আর মনে রাখতে হবে আরশ যদি সিদরাতুল মুনতাহার উপরে হয় সেখানে ফেরেশতার উপস্থিতি হয়ে যায়। কারণ হাদিসে তা বহনকারী চার ফেরেশতার উল্লেখ আছে। এবং ছলছবিল নামক নহরে (হ্রদে) জিবরীল (আঃ)-এর গোসল করার কথা উল্লেখ আছে। 


পরবর্তী পর্ব

চতুর্থ অভ্যর্থনা সয়ং আল্লাহ্ ও ফেরেশতা কতৃক 

-------

Comments

Popular posts from this blog

কারামত - (আনা সাগরের পানি ছোট্ট পাত্রে চলে আসার রহস্য)

প্রকৃত সাধক তার উপযুক্ত মুরীদকেই সাজ্জাদানশীল করেন

মে’'রাজ (পর্ব- ১)