প্রতিদিন এক হাজার বার কোরআন খতম করার রহস্য



📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ)
✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ)
পঞ্চম মজলিস- ১

প্রতিদিন এক হাজার বার কোরআন খতম করার রহস্য
শুক্রবার ১৩ই রমজানুল মোবারক ৭০৭ হিজরী। এ দিন আমার পৌছতে দেরী হওয়ায় হযরত খাজা জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার এ বিলম্বের কারণ কি?" আমি কদমবুসি করে বললাম, আমি হাফেজ মওলানা জহিরুদ্দিনের ইমামতিতে তারাবির নামাজ পড়ি। ইমাম সাহেব প্রত্যেক রাতে ৩ সিপারা কোরান তারাবীর নামাজে পাঠ করেন। আমি ভেবেছি ১০ দিন সময় পেলে তারাবীর নামাজে এক খতম কোরান পড়ার ছওয়াব লাভ করতে পারতাম। হযরত খাজা আমার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে আমাকে অনুমতি দান করলেন। তিনি এ সম্বন্ধে একটি ঘটনার উল্লেখ করে বললেন, "একদিন মজলিসে হযরত খাজা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, এখানে এমন কেউ কি আছে যে দু'রাকাত নামাজের মধ্যে সম্পূর্ণ রাত অতিবাহিত করতে পারে এবং এক রাকাতের মধ্যে সম্পূর্ণ কোরান খতম করতে পারে।" তাঁর কথায় কেউ সাড়া দিলো না। অগত্যা তিনি নিজেই নামাজে দন্ডায়মান হলেন এবং প্রথম রাকাতের মধ্যেই সম্পূর্ণ কোরান খতম করলেন। দ্বিতীয় রাকাত সূরা ইখলাস দিয়ে সমাপ্ত করলেন। হযরত যাকারিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রায়ই বলতেন আমি যা কিছু হাসিল করেছি তা নামাজের মধ্যেই করেছি।" হযরত খাজা বললেন, "আমি মাশায়েখ বা পীরগণের নফসের জিহাদী জীবন ও অন্যান্য বন্দেগীর কার্যক্রম অতিক্রম করেছি কিন্তু সূর্যাস্ত হতে সূর্যোদয়ের মধ্যে কখনও কোরান খতম করতে পারিনি। আমি চেষ্টা করেছি কিন্তু সফল হতে পারিনি। এরপর তিনি একটি বিস্ময়কর ঘটনা বর্ণনা করলেন। হযরত খাজা বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত খাজা হামিদুদ্দিন নাগোরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তখন খানাকাবা তওয়াফ (পরিক্রমণ) করছিলেন, এমন সময় তারা এক মর্দে-গায়েব অর্থাৎ অদৃশ্য মানবের উপস্থিতি আঁচ করতে পারলেন। তখন তাঁরা সেই অদৃশ্য মানবের পায়ের ছাপ অনুভব করে পা ফেলছিলেন। তখন সেই মর্দে গায়েব বললেন, আমার জাহেরী অনুসরণ করে কি লাভ হবে। পারলে আমার কর্মময় জীবনকে বা বাতেনকে অনুসরণ কর।"

তাঁরা বললেন, আপনার কর্মময় জীবনের দিকটার কথা আমরা জানতে পারি কি? অদৃশ্য বুজুর্গ বললেন, আমার কর্মময় জীবনের একটি দিক হচ্ছে প্রতিদিন এক হাজার বার কোরআন খতম করা।" তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলেন, "এটা হয়তো কোন কারামতের ব্যাপারে হবে।" তিনি তাদের কথা বুঝতে পেরে বললেন, তোমাদের অনুমান ঠিক নয়। তোমরা যেমনভাবে একটি অক্ষরের সঙ্গে অপর একটি অক্ষর যোগ করে একটি শব্দ গঠন কর এবং একটি শব্দের পর অন্য একটি শব্দ যোগ করে একটি বাক্য গঠন কর আমিও সেভাবেই পাঠ করে প্রতিদিন এক হাজার বার কোরান খতম করি।" মজলিসের লোক এ ঘটনা শ্রবণ করে অবাক হয়ে গেলো। হযরত যিকরুল্লাহ বিল খায়েরের এক বিশেষ মুরীদ আজুদ্দিন আলী শাহ বললেন এটা কোন মানবীয় শক্তি দ্বারা সম্ভব হতে পারেনা। হযরত খাজা বললেন, মানুষ যখন কোন বিস্ময়কর ব্যাপার অনুধাবন করতে অসমর্থ হয় তখন তাকে কারামত বলে আখ্যায়িত করে এবং বিষয়টির রহস্য অবগত না হওয়ায় সেটা অন্য নাম বা রূপ ধারণ করে। এখানেও বিষয়টির রহস্য অন্যত্র লুক্কায়িত আছে যা প্রকাশ পেলে প্রচলিত চিন্তা ধারার উপর আঘাত আসবে।

পরবর্তী পর্ব
কারামত

Comments

Popular posts from this blog

কারামত - (আনা সাগরের পানি ছোট্ট পাত্রে চলে আসার রহস্য)

প্রকৃত সাধক তার উপযুক্ত মুরীদকেই সাজ্জাদানশীল করেন

মে’'রাজ (পর্ব- ১)