ত্যাগ ও তিতিক্ষা
📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ)
✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ)
৬ষ্ঠ মজলিস-১
ত্যাগ ও তিতিক্ষা
শুক্রবার ৫ই শওয়াল ৭০৭ হিজরী। কদমবুসির ঐশ্বর্য লাভ করলাম। ত্যাগ ও তিতিক্ষা সম্বন্ধে আলোচনা চলছিলো। এ সম্বন্ধে তিনি প্রচণ্ড আত্মযুদ্ধরত এক ত্যাগী দরবেশের ঘটনা বর্ণনা করলেন। দরবেশ বেশীর ভাগ সময় অনাহারে থাকায় তার পেট পিঠের সঙ্গে লেগে গিয়েছিলো। তাকে দেখলে মনে হতো এক কংকালবৎ অবয়বের মধ্য হতে নূর (ঐশী আলোক) ঠিকরে বেরুচ্ছে। রাস্তা দিয়ে চলার সময় একদিন তাঁর সঙ্গে আমার বন্ধু টিপুর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। তিনি তাঁকে কিছু অর্থ প্রদান করতে চাইলে তিনি বললেন, "হে খাজা আজ আমি ভরপেট কাঠাল খেয়েছি। আজকের রুজীর জন্য যে শক্তির প্রয়োজন তা অর্জিত হয়েছে। অতএব মাফ করুন। আজ আর আমার কোন প্রয়োজন নেই। তাঁর এ দৃঢ়তাপূর্ণ বক্তব্যের মধ্যে আমার বন্ধু দেখতে পেলেন তাঁর মনের দৃঢ়তা, ধৈর্য, শক্তিমত্তা ও স্থিরতা এবং আল্লাহ তায়ালার প্রতি তাওয়াক্কুলের উচ্চতা।
এরপর হযরত খাজা যিকরুল্লাহ বিল খায়ের অন্য একটি ঘটনা বর্ণনা করলেন। এক বুজুর্গ ছিলেন তাঁর নাম ছিলো শায়খ আলী। একদিন তিনি পা লম্বা করে বসে তাঁর নিজের খিরকা (জামা) সিলাই করছিলেন। এমন সময় সে শহরের খলিফা তাঁর নিকট আগমন করলো। তার সাথে ছিলো তার এক অনুচর। তাদের আগমান বুজুর্গের মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলো না। তিনি যেভাবে ছিলেন সে ভাবেই বসে রইলেন। খলিফার সঙ্গের লোকটি তাঁকে খলিফার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্য অনুরোধ জানালো। কিন্তু তার কথায় তিনি কর্ণপাতও করলেন না। তিনি তাঁর কর্ম করে যেতে লাগলো। খলিফার সঙ্গের লোকটি তাঁকে শেষবারের মতো পা গুটিয়ে বসতে বললো। কিন্তু এর পরও তাঁর মধ্যে কোন ভাবান্তর লক্ষ্য করা গেলোনা। অবশেষে খলিফা রাগান্বিত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। বুজুর্গ তাঁর দুই হাত প্রসারিত করে দু'জনের হাত ধরে বললেন। আমি আমার হাত উত্তোলন করেছি কিন্তু পা প্রসারিত করেই রেখেছি অর্থাৎ বর্তমানে আপনার নিকট হতে কিছু চাওয়া পাওয়ার বাসনা রাখিনা এবং ভবিষ্যতেও আপনার নিকট আমার কোন প্রয়োজন হবে না। অতএব পা যেমন আছে তেমনই থাক।
পরবর্তী পর্ব
আধ্যত্ব পথের পথিকদের দুনিয়ার লোভ-লালসা ত্যাগই প্রথম শর্ত
Comments
Post a Comment