ইন্তেকালের পরেই প্রকৃত সূফীর বিকাশ ঘঠে
📚ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ (নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজালিশ)
✍🏻খাজা আমীর উলা স্নজরী (রহঃ)
প্রথম মজলিস- ২
ইন্তেকালের পরেই প্রকৃত সূফীর বিকাশ ঘঠে-
এরপর বললেন, আল্লাহপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ সব সময়েই নিজেকে গোপন রাখে কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাঁর মহিমাকে প্রকাশ করে দেয়। খাজা আবুল হাসান নূরী নূরুল্লাহ মারকাদাহু মোনাজাতে বলতেন, “হে আল্লাহ আপনি এ শহরবাসীর দৃষ্টি হতে আমাকে গোপন রাখুন।" আল্লাহ তাঁর দোয়ার উত্তরে বলতেন, "হে আবুল হাসান সত্যকে কেউ গোপন করতে পারেনা এবং সত্য কখনও গোপন থাকতে পারে না।"
হযরত খাজা এরপর বললেন, খাজা হামিদুদ্দিন সওয়ালী তখন খোতনাগুরে বাস করতেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, কিছু শায়খ আছেন যাদের মৃত্যুর পর সাধারণ মানুষ তাদেরকে ভুলে যায়, তাদের কথা স্মরণ করে না, আর কিছু শায়খ আছেন যাদের দেহত্যাগ বা মৃত্যুর পর তারা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠে, তাদের কারামতের কথা জন সমাজে বহুল ভাবে প্রচারিত হতে থাকে, তাদের রওজার পাশে দুঃখী মানুষদের ভীড় বাড়তে থাকে, এর কারণ কি?
উত্তরে তিনি বললেন, 'সারা দুনিয়াতে যারা নিজের উপযুক্ততা যাচাই না করেই নিজেকে বহুলভাবে প্রচার করার চেষ্টায় মত্ত থাকে তাদের কবর হতে কেউ কোন দিন কোন ফয়েজ ও বরকত পায় না, যার জন্য জনসমাজ হতে তাদের নাম মুছে যায়। আর যারা শক্তিধর হয়েও জীবিতাবস্থায় নিজেকে সব সময় গোপন রাখার চেষ্টা করতেন তাঁদের দেহত্যাগের পর তাঁরা উজ্জ্বল হতে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠে তাঁদের রওজা মানুষের জন্য হয়ে উঠে বরকতময়। তাদের ফয়েজ ও বরকতে মানুষ লাভ করে কল্যাণ ও স্বস্তি।
পরবর্তী পর্ব
বি-আদবের পরিণতি

Comments
Post a Comment