মৃত ব্যক্তির চিৎকার
কবরের আযাব (পর্ব – ৬)
মৃত ব্যক্তির চিৎকার—
📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻আবুল লাইস সমরকন্দি (রহঃ)
রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রত্যেক মৃত ব্যক্তিই চিৎকার করে। তাহার চিৎকার মানুষ ব্যতীত সমস্ত প্রাণীই শুনিতে পায়। যদি সেই চিৎকার মানুষ শুনিত তাহা হইলে অজ্ঞান হইয়া পড়িত। যদি ঐ ব্যক্তি নেককার হয়, তাহা হইলে সে স্বীয় বাহকগণকে বলে আমাকে যেখানে নেওয়ার তাড়াতাড়ি নিয়া যাও তোমরা যদি সে স্থান দেখিতে পাইতে তাহা হইলে তোমরা নিজেরাই আরো তাড়াতাড়ি লইয়া যাইতে। মৃতব্যক্তি যদি বদকার হয় তাহা হইলে সে বাহকগণকে বলে, তাড়তাড়ি করিওনা। তোমরা যদি এ স্থান দেখিতে পাইতে তাহা হইলে সেখানে আমাকে অবশ্যই লইয়া যাইতেনা। দাফনের পর কৃষ্ণবর্ণ নীল নয়ন যুগল বিশিষ্ট দুই ফিরিশতা উপস্থিত হয়। মৃতব্যক্তি যদি নেককার হয় নামায তাহার মাথার দিক হইতে তাহাদেরকে বাধা প্রদান করিয়া বলে যে, এই দিকে আসিওনা। কবরের ভয়েই তো সে রাতের বেলায় নামাযে লিপ্ত থাকিত। মাতাপিতার সেবা পায়ের দিক হইতে বাধা দিবে, সদকা ডান দিক হইতে বাধা দিবে, আর রোযা বাম হইতে বাধা দিবে। পার্থিব জীবন তো সামান্য কয়েক দিন মাত্র। আজ জীবিত এবং সুস্থাবস্থায় কবর এবং হাশরের জন্য কিছু কামাই করার সুযোগ আছে। কেননা মৃত্যুর পর কবরে গিয়া মানুষ কোন আমল করিতে পারিবেনা। (মৃত্যুর পর) একবার কালেমা শাহাদাত পড়িতে চাইবে, কিন্তু অনুমতি পাইবেনা। পার্থিব জীবন (আসল) পুঁজির ন্যায়। উহার বর্তমানে মানুষ সব কিছুই করিতে পারে। যেমনি ভাবে পুঁজি শেষ হইয়া গেলে ব্যবসা করা দুস্কর হইয়া পড়ে, তদ্রুপ জীবন নিঃশেষ হইয়া যাওয়ার পর সকল প্রকার আমল করা অসম্ভব হইয়া যায়। (এই জন্যই) আজ পরিশ্রম করিয়া কিছু অর্জন করার সময়। অথচ (আজ) মানুষ গাফেল হইয়া আছে। কিন্তু এমন একদিন আসিবে, যেদিন মানুস সমস্ত আমলই করিতে চাহিবে, কিন্তু তখন সময় থাকিবে না।
সুতরাং শিক্ষা গ্রহণ কর, হে প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা!
---------------

Comments
Post a Comment