কিয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্য
কিয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্য
📚তাম্বীহুল গাফেলীন ✍🏻আবুল লাইস সমরকন্দি (রহঃ)
হযরত ইসরাফীল (আঃ) মুখে শিঙ্গা লইয়া অপেক্ষায় রহিয়াছেন যে, কোন্ সময় আল্লাহ পাকের নির্দেশ হইবে, আর তিনি উহাতে ফুঁক দিবেন। ফুঁক দেওয়ার সাথে সাথেই সমগ্র পৃথিবী উলট পালট হইয়া যাইবে। সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে এক বর্ণনাতীত অবস্থার সৃষ্টি হইবে। অতঃপর দ্বিতীয়বার ফুঁক দিবেন। তখন সমগ্র পৃথিবী নিশ্চিহ্ন হইয়া যাইবে। কিছু সংখ্যক ফিরিশ্তা ব্যতীত কোন সৃষ্টিই অবশিষ্ট থাকিবে না।
আল্লাহ তা’আলা আযরাইল (আঃ) কে জিজ্ঞাসা করিবেন, আর কি কি অবশিষ্ট আছে? তিনি উত্তর দিবেন জিব্রাইল (আঃ), মিকাইল (আঃ) ইসরাফীল (আঃ) এবং আরশ বহনকারী ফিরিশতাগণ এবং আমি, তখন তাহাকে নির্দেশ দেওয়া হইবে, তাহাদের রুহগুলিও বাহির করিয়া লও। অতঃপর তাহাদের রুহ গুলিও বাহির করা হইবে। তখন মাখলুকের মধ্যে আযরাইল (আঃ) ছাড়া কেহই থাকিবে না। আল্লাহ পাক বলিবেন, হে মালাকুল মাওত! এখন আর কে অবশিষ্ট আছে? উত্তর দিবেন- এখন আপনি ব্যতিত শুধুমাত্র আমিই অবশিষ্ট আছি। নির্দেশ দেওয়া হইবে, হে মালাকুল মাওত! আমাকে ছাড়া সকলকেই ধ্বংস হইতে হইবে। অতএব, তুমিও মরিয়া যাও। অতঃপর বেহেশত এবং দোযখের মধ্যবর্তী স্থানে আযরাইল (আঃ) নিজ হাতে স্বীয় রুহ বাহির করিবেন। (রুহ বাহির করার সময়) এমন এক চিৎকার দিবেন যে, যদি তখন কোন মাখলুক বিদ্যমান থাকিত, তাহা হইলে তাহার চিৎকারের বিকট শব্দে সে মরিয়া যাইত।
তখন তিনি বলিবেন- যদি জানিতাম যে, মৃত্যুর সময় এত কষ্ট হয়, তাহা হইলে মুমিনদের রুহ বাহির করার সময় আর একটু সহজ করিতাম। এখন আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত আর কেহই অবশিষ্ট নাই। এমতাবস্থায় আল্লাহ পাক ঘোষণা করিবেনঃ বাদশাগণ কোথায়? শাহজাদারা কোথায়? অত্যাচারীরা কোথায়? এবং তাহাদের সন্তানরা কোথায়? (বল) আজ হুকুমত কাহার হাতে? সমগ্র পৃথিবী তো ধ্বংস হইয়া গিয়াছে। এখন এই প্রশ্নের জবাব কে দিবে? সেই জন্যই আল্লাহ পাক নিজেই জবাব দিবেন যে, আজকে সম্পূর্ণ ক্ষমতা আমার হাতে। আমি অদ্বিতীয় এবং সর্ব শক্তিমান। তারপর আকাশ হইতে বীর্যের ন্যায় বৃষ্টি বর্ষিত হইবে এবং উদ্ভিদের ন্যায় মানুষের শরীর ভূগর্ভ থেকে বাহির হইতে থাকিবে ।
অতঃপর ইসরাফীল (আঃ) কে পুনরায় জীবিত করা হইবে। অনুরূপভাবে জিবরাইল (আঃ) এবং মিকাইল (আঃ) কেও জীবিত করা হইবে। অতঃপর ইসরাফীল (আঃ) তৃতীয়বার সিঙ্গায় ফুঁক দিবেন এবং উহার দ্বারা সমস্ত মাখলুক পূণঃজীবন লাভ করিবে। (সর্ব প্রথম হযরত রাসুলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) জাগ্রত হইবেন সমস্ত মানুষ উলঙ্গ থাকিবে এবং এক বিশাল প্রান্তরে একত্রিত হইবে।'আল্লাহ তা’আলা মাখলুকের প্রতি মোটেই দৃষ্টিপাত করিবেন না এবং তাহাদের কোন ফয়সালাও দিবেন না। সমস্ত মাখলুক কাঁদিতে কাঁদিতে ক্লান্ত হইয়া পড়িবে। এমন কি চোখের পানি শেষ হইয়া যাইবে। (অবশেষে) অশ্রুর পরিবর্তে চক্ষু দিয়া রক্ত ঝরিবে। আর এত বেশী পরিমাণে ঘাম বাহির হইবে যে, কাহারো কাহারো মুখ পর্যন্ত যাইয়া পৌছিবে। এমতাবস্থায় হিসাব নিকাশ শুরু করাইবার সুপারিশের জন্য সমস্ত মানুষ আম্বিয়া (আঃ) গণের নিকট যাইবে। কিন্তু সকলেই অস্বীকার করিবেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট যাইবে।
অতঃপর হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) সুপারিশ করিবেন; তারপর হিসাব নিকাশ শুরু হইবে। ফিরিশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াইয়া থাকিবেন। ঘোষণা করা হইবে- প্রত্যেকের আমল নিজ নিজ আমলনামায় লিপিবদ্ধ রহিয়াছে (সেখানে দেখিয়া লও)। যে ব্যক্তি (স্বীয় আমলনামায়) ভাল আমল লিপিবন্ধ দেখিবে, সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করিবে। যাহার আমলনামায় বদ আমল লিপিবদ্ধ দেখিবে, সে নিজেই নিজেকে ভর্ৎসনা করিবে। মানুষ ব্যতীত অন্য সব প্রাণীকে পরস্পর থেকে বিনিময় উসুল করাইয়া ধ্বংস করিয়া দেওয়া হইবে। (তারপর) মানুষ এবং জ্বিনদের হিসাব শুরু হইবে। অত্যাচারী হইতে অত্যাচারিত ব্যক্তির বিনিময় আদায় করা হইবে। আর সেখানকার জরিমানা টাকা পয়সার দ্বারা গ্রহণ করা হইবে না বরং অত্যাচারীর নেক আমল সমূহ অত্যচারিত ব্যক্তিকে বিনিময় হিসাবে দিয়া দেওয়া হইবে। অত্যচারীর নেকী শেষ হইয়া যাওয়ার পরেও যদি অত্যচারীতের কোন প্রাপ্য অবশিষ্ট থাকে, তাহা হইলে তাহার মাথার উপর অত্যাচারীত ব্যক্তির গোনাহ সমূহ চাপাইয়া দেওয়া হইবে। এমনকি কিছু বড় বড় নেককারদের নিকট একটি মাত্র নেকীও অবশিষ্ট থাকিবেনা। (শেষ পর্যন্ত) অত্যাচারীকে জাহান্নামে আর অত্যাচারীত ব্যক্তিকে জান্নাতে দেওয়া হইবে। সে দিবস এত কঠিন হইবে যে, আল্লাহর নিকটবর্তী ফিরিশতাগণ, আম্বিয়া (আঃ) গণ এবং শহীদগণ নিজ নিজ মুক্তির ব্যাপারেও আশংকা বোধ করিতে থাকিবেন। বয়স, যৌবন, সম্পদ ও ইলম প্রত্যেক বিষয়েই প্রশ্ন করা হইবে। (সেদিন) মানুষ মাত্র একটি নেকীর জন্য পিতা-পুত্র, জননী-স্ত্রী সকলের নিকট যাইবে, কিন্তু অসফলতা আর নৈরাশ্যের সাথে ফিরিয়া আসিবে।
হযরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু এর বর্ণনা- একবার হযরত জিবরাইল (আঃ) হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমীপে এমন এক আকৃতি লইয়া উপস্থিত হইলেন যে, দেখে তাঁহার মুখমন্ডল বিকৃত হইয়া গিয়াছিল। ইহার পূর্বে কখনো তিনি এইরূপ আকৃতিতে আসেন নাই। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করিলেন : হে জিবরাইল (আঃ)! ব্যাপার কি? আজ আপনার মুখমন্ডল বিকৃত কেন? জিবরাইল (আঃ) উত্তর দিলেন যে, আজ দোযখের এমন এক অবস্থা দেখিয়া আসিয়াছি, যে ব্যক্তি উহা বিশ্বাস করিবে দোযখ থেকে নিজেকে মুক্ত না করা পর্যন্ত সে ক্ষান্ত হইতে পারেনা।
হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিলেন, হে জিবরাইল! আমাদেরকে কিছু শোনাও। জিবরাইল (আঃ) বলিলেন, খুব ভাল কথা। তবে শুনুন-আল্লাহ তায়ালা দোযখ সৃষ্টি করিয়া উহাকে এক হাযার বৎসর দগ্ধ করিয়াছেন। ফলে উহা লাল বর্ণ ধারণ করে। অতঃপর আরও হাযার বৎসর দগ্ধ করেন এবং উহা সাদা বর্ণ ধারণ করে, পুনরায় হাযার বৎসর দগ্ধ করার পর উহা কাল বর্ণ ধারণ করে। তাই এখন উহা ঘোর কাল এবং অন্ধকার। আর উহার অগ্নি স্ফুলিংগ কখনো স্থির হয় না। আল্লাহর শপথ করিয়া বলিতেছি, যদি দোজখের শুঁচের মাথা পরিমাণ স্থানও দুনিয়ার দিকে খুলিয়া দেওয়া হয়, তাহা হইলে সমস্ত পৃথিবী জ্বলিয়া পুড়িয়া ছাই হইয়া যাইবে। আর যদি কোন দোযখীর কাপড় আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানে ঝুলাইয়া দেওয়া হয়, তাহা হইলে উহার দুর্গন্ধ ও জ্বালা যন্ত্রণায় সমগ্র পৃথিবীবাসী মৃত্যুর দুয়ারে উপনীত হইবে ।
কোরআন পাকে যে (জিঞ্জির সমূহ) এর উল্লেখ রহিয়াছে, যদি তাহা হইতে একটি জিঞ্জিরকেও কোন পাহাড়ে রাখা হয়, তাহা হইলে সে পাহাড় গলিয়া পাতালে পৌঁছিবে। যদি পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে কাহাকেও দোযখের আযাব দেওয়া হয়, তাহা হইলে উহার দুর্বিসহ যন্ত্রণায় পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থানরত মানুষও ছটফট করিতে থাকিবে। উহার যন্ত্রণা অতি দুর্বিসহ এবং উহার গভীরতাও অসীম। লোহা দোযখের অলংকার। আর ফুটন্ত পুঁজ তথাকার পানীয়। অগ্নিবস্ত্র তাহাদের ভূষণ। উহার দরজা সাতটি, প্রত্যেক দরজা দিয়া নির্ধারিত নারীপুরুষই প্রবেশ করিবে। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করিলেনঃ সেইগুলি কি আমাদের ঘরের দরজার মত? জিবরাইল (আঃ) উত্তর দিলেন, না বরং উহা স্তর বিশিষ্ট হইবে। আর সম্পূর্ণ খোলা থাকিবে।
দুই দরজার মধ্যবর্তী দুরত্ব সত্তর বৎসরের পথ হইবে। প্রতিটি দরজা অপর দরজা অপেক্ষা সত্তর গুণ বেশী উত্তপ্ত হইবে। আল্লাহর শত্রু (নাফরমান) দেরকে দোযখের দরজার দিকে তাড়াইয়া লইয়া যাওয়া হইবে। যখন তাহারা দরজার পার্শ্বে উপনীত হইবে তখন তাহাদের সামনে জিঞ্জির উপস্থাপিত করা হইবে। মুখ দিয়া জিঞ্জির প্রবিষ্ট করাইয়া মলদ্বার দিয়া বাহির করিয়া আনা হইবে। অনুরূপ ভাবে হাত পা বাঁধিয়া দেওয়া হইবে। প্রত্যেকের সাথে নিজ নিজ শয়তানও থাকিবে। ফিরিশতাগণ তাহাদেরকে উপুড় করিয়া হাঁতুড়ী দ্বারা পিটাইতে পিটাইতে দোযখে নিক্ষেপ করিবে। যদি কখনো যন্ত্রণার তাড়নায় নিষ্কৃতি লাভের ইচ্ছা করে, পূনরায় ধাক্কা দিয়া সেখানেই ফিরাইয়া দেওয়া হইবে।
রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করিলেনঃ ঐ সমস্ত দরজায় কোন্ শ্রেণীর লোক থাকিবে? জিবরাইল (আঃ) উত্তর দিলেন যে, সর্বনিম্ন দরজায় মুনাফিক, আল্লাহদ্রোহী, ফেরাউনের অনুসারীরা থাকিবে। সে দরজাটির নাম হইল, হাভিয়া। জাহীম, নামক দ্বিতীয় দরজায় মুশরিকরা থাকিবে। তৃতীয় দরজায় থাকিবে নক্ষত্রপুজক-উহার নাম সাকার লাখা নামক চতুর্থ দরজায় ইবলিস এবং তাহার অনুসারীরা থাকিবে। পঞ্চম দরজায় ইহুদীরা থাকিবে আর উহার নাম হইল হোতামাহ। সায়ীর নামক ষষ্ঠ দরজায় খৃষ্টানরা থাকিবে। তারপর জিবরাইল (আঃ) চুপ হইয়া গেলেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ চুপ হইয়া গেলেন কেন? সপ্তম দরজায় কাহারা থাকিবে? বলুন! জিবরাইল (আঃ) অত্যন্ত কষ্টের সাথে লজ্জিত ভাবে বলিলেন- সেখানে আপনার ঐ সকল উম্মত থাকিবে যাহারা কবিরা গোনাহ করিয়াছে এবং তওবা ব্যতীত মারা গিয়াছে। এই কথাশোনা মাত্রই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ধৈর্য ধারণ করিতেপারিলেন না, বেহুঁশ হইয়া পড়িলেন।
ঐ সত্তার জন্য আমার পিতামাতা উৎসর্গ হউক। জিবারাইল (আঃ) হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাথা মোবারক স্বীয় ক্রোড়ে উঠাইয়া নিলেন। হুযুর(সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিলেনঃ হে জিবরাইল! আমি অত্যন্ত অস্তিরএবং চিন্তিত হইয়া পড়িয়াছি যে, আমার উম্মতকেও জাহন্নামে নিক্ষেপ করা হইবে? জিবরাইল(আঃ) উত্তর দিলেন, জি হ্যাঁ। কবিরা গোনাহ করিয়া তওবা ব্যতীত মৃত ব্যক্তিকে দোযখেনিক্ষেপ করা হইবে। ইহা শুনিয়া হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)কাঁদিতে লাগিলেন এবং হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে কাঁদিতেদেখিয়া জিবরাইল (আঃ)ও কাঁদিতে লাগিলেন। অতঃপর হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ঘরে চলিয়া গেলেন এবং মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাত ছাড়িয়াদিলেন। শুধু নামাযের জন্য বাহিরে আসিতেন এবং কাহারও সাথে কোন কথা না বলিয়া(সরাসরি) ঘরে চলিয়া যাইতেন। তখন তাহার অবস্থা ছিল এই যে, তিনি ক্রন্দন রত অবস্থায়নামাজ শুরু করিতেন এবং ক্রন্দনরত অবস্থায়ই নামায শেষ করিতেন।
তৃতীয় দিন হযরত আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু হুযুরের ঘরের দরজার সম্মুখে দন্ডায়মানহইয়া সালাম পেশ করিলেন এবং প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করিলেন, কিন্তু ভিতর হইতেকোন উত্তর আসিল না। তাই তিনিও কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিয়া গেলেন। অনুরূপ ব্যবহারহযরত ওমর রাদিআল্লাহু আনহু-এর সাথেও করিলেন। তিনিও কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিয়াগেলেন। ঠিক এমতাবস্থায় হযরত সালমান ফারসী রাদিআল্লাহু আনহু আসিলেন, কিন্তুতিনিও কোন উত্তর পাইলেন না। ফলে বিচলিত হইয়া পড়িলেন। কখনো বসেন আবারদাড়ান। যদি চলিয়া যান, তাহা হইলে তৎক্ষণাৎই ফিরিয়া আসেন। আর এই অস্থিরতালইয়া হযরত ফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহাকে পুরা ঘটনা বলিয়া দিলেন। শোনা মাত্রই হযরতফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহাও অস্থির হইয়া পড়িলেন এবং চাদর দ্বারা স্বীয় দেহ আবৃতকরিয়া সরাসরি হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘরের দিকে রওয়ানাহইলেন। তথায় উপস্থিত হইয়া দরজার সামনে দাড়াইয়া সালাম প্রদানের পর বলিলেন-আমিফাতেমা। তখন সিজদায় পড়িয়া হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের মুক্তির জন্যকাঁদিতেছিলেন। (আওয়াজ শুনার পর) হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) মাথা মোবারক উত্তোলন পূর্বক বলিলেনঃ আমার চোখের প্রশান্তি ফাতেমা! তোমার অবস্থাকি? উম্মুল মুমিনীনদের কাহাকেও বলিলেন-দরজা খুলিয়া দাও। হযরত ফাতেমারাদিআল্লাহু আনহা ঘরে প্রবেশ করিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহিওয়াসাল্লাম)-এর অবস্থা দেখিয়া কাঁদিতে কাঁদিতে ভাঙ্গিয়া পড়িলেন। তিনি দেখিলেন যে, হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবস্থার পরিবর্তন হইয়াছে, গায়েররং হলুদ বর্ণ ধারণ করিয়াছে, মুখশ্রীর সজীবতা বিলিন হইয়া গিয়াছে। হযরত ফাতেমা (রাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আপনারএত চিন্তা কিসের? কিসের চিন্তায় আপনাকে শোকাহত করিয়াছে? যাহার ফলে আপনার এইঅবস্থা?
হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর দিলেন যে, হে ফাতেমা! আমারনিকট জিবরাইল (আঃ) আসিয়াছিলেন। তিনি আমাকে দোযখের অবস্থা সম্পর্কে অবহিতকরিলেন এবং বলিলেন দোযখের সর্বশেষ স্তরে আমার গোনাহগার উম্মত থাকিবে। ইহারচিন্তা আমাকে এহেন অবস্থায় উপনীত করিয়াছে। হযরত ফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহাজিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহাদেরকে কিভাবে প্রবিষ্ট করানো হইবে? হুযুর(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর দিলেনঃ ফিরিশতাগণ তাহাদেরকেদোযখের দিকে টানিয়া লইয়া যাইবে। কিন্তু তাহাদের মুখমণ্ডল কাল হইবেনা নয়নযুগল নীলহইবেনা, বাকশক্তি রুদ্ধ হইবেনা, তাহাদের সাথে শয়তানও থাকিবেনা এবং তাহাদেরকেজিঞ্জির দ্বারাও বাঁধা হইবে না। হযরত ফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহা জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়ারাসুলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)! ফিরিশতারা কিভাবে টানিয়ালইয়া যাইবে? হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর দিলেনঃ পুরুষদেরদাড়ি ধরিয়া? এবং মহিলাদের বেনী ধরিয়া টানিয়া লইয়া যাইবে। নারী-পুরুষ ওআবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলেই অপমান এবং অপদস্থতার কারণে চিৎকার করিতে থাকিবে।আর এমতাবস্থায় যখন তাহারা দোযখ পর্যন্ত পৌঁছিবে, তখন দোজখের দারোগাফিরিশতাদেরকে জিজ্ঞাসা করিবেনঃ তাহারা কে? তাহাদের অবস্থা তো আশ্চর্যজনক।তাহাদের মুখমণ্ডল তো কৃষ্ণবর্ণ নয় আর চোখও নীল নয়, এবং বাকশক্তিও রুদ্ধ নয়।তাহাদের সাথে শয়তানও নাই এবং শিকল দ্বারা তাহাদের গ্রীবাদেশ বাঁধাও হয় নাই।ফিরিশতাগণ উত্তর দিবেন-আমরা কিছুই জানিনা। আমরা শুধু নির্দেশানুযায়ী আপনারনিকটে পৌঁছাইয়া দিলাম।
তখন দোযখের দারোগা তাহাদেরকে বলিবেন হে দুর্ভাগারা। তোমরাই বল যে তোমরা কে? (এক বর্ণনা মতে তাহারা রাস্তায় হায় মুহাম্মদ! হায় মুহাম্ম! বলিয়া চিৎকার করিতে থাকিবে।কিন্তু দোযখের দারোগাকে দেখা মাত্রই হুজুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর নাম ভুলিয়া যাইবে তাহারা জবাব দিবে আমরা ঐ জাতি যাহাদের উপর কুরআনঅবতীর্ণ হইয়াছে, রমজানের রোযা ফরয হইয়াছে। দারোগা বলিবেন কুরআন তো শুধু হুজুর(সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর অবতীর্ণ হইয়াছে। হুযুর (সাল্লাল্লাহুআলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নাম শোনা মাত্রই তাহারা বলিয়া উঠিবে আমরাহযরত (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মত। দারোগা বলিবেন- কুরআন পাকে কি তোমাদেরকে আল্লাহর নাফরমানী থেকে বিরত থাকিতে বলা হয় নাই? তাহারা দোজখের দরজায় অগ্নি দেখিয়া দারোগার নিকট আবেদন জানাইবে যে, আমাদেরকেকাঁদিবার সুযোগ দিন কাঁদিতে কাঁদিতে তাহাদের নয়নের অশ্রু নিঃশেষ হইয়া যাইবে।অবশেষে চোখ থেকে রক্ত ঝরিতে থাকিবে। দারোগা বলিবেন, আফসোস! যদি দুনিয়াতেএইরূপ কাঁদিতে তাহা হইলে আজকে কাঁদিতে হইত না। দারোগার নির্দেশে তাহাদিগকেদোযখে নিক্ষেপ করা হইবে।
তখন সবাই বলিয়া চিৎকার করিবে, আর ইহা শোনামাত্র অগ্নি ফিরিয়া যাইবে। দারোগাঅগ্নির কাছে ফিরিয়া যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করিলে অগ্নি বলিবে যে, আমি তাহাদেরকেকিভাবে জ্বালাইব, তাহাদের মুখে রহিয়াছে কালেমায়ে তাওহীদ। কয়েকবার এইরূপ ঘটিবে।
অবশেষে দারোগা বলিবে তাহাদেরকে জ্বালানোই আল্লাহর নির্দেশ। তখন অগ্নি তাহাদেরকেজড়াইয়া ধরিবে। কাহারও পা পর্যন্ত কাহারও হাঁটু পর্যন্ত, কাহারও কোমর পর্যন্ত আবার কাহারওগলা পর্যন্ত অগ্নিতে নিমজ্জিত থাকিবে। অগ্নি যখন তাহাদের চেহারা পর্যন্ত পৌঁছিবে দারোগাবলিবেন- তাহাদের মুখ এবং অন্তর জ্বালাইওনা। কেননা তাহারা দুনিয়াতে নামাযে সিজদাহকরিয়াছিল এবং রমযানে রোযা রাখিয়াছিল। অতঃপর যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছাকরিবেন, তাহারা দোযখেই স্বীয় পাপের শাস্তি ভোগ করিবে। আর তাহারা বার বার আল্লাহকেডাকিতে থাকিবে। অবশেষে একদিন আল্লাহ পাক জিবরাইল (আঃ)-কে বলিবেন, উম্মতেমুহাম্মদিয়ার খবর লও। দেখ, তাহাদের কি অবস্থা? তখন তিনি দৌড়াইয়া দোযখের দারোগারনিকট পৌছিবেন। আর দারোগা দোযখের মধ্যবর্তী স্থানে আগুনের মঞ্চে উপবিষ্ট থাকিবেন।হযরত জিবরাইল (আঃ) কে দেখা মাত্রই অভ্যর্থনার জন্য দাড়াইয়া যাইবেন এবং উপস্থিতিরকারণ জিজ্ঞাসা করিবেন। জিবরাইল (আঃ) উত্তর দিবেন যে, উম্মতে মুহাম্মদিয়ার খবরলাইতে আসিয়াছি। তাহাদের অবস্থা কি? দারোগা উত্তর দিবেন, খুবই খারাপ। অতি সংকীর্ণস্থানে পড়িয়া রহিয়াছে। অগ্নি তাহাদের শরীর জ্বালাইয়া দিয়াছে আর গোশত ভক্ষণ করিয়াফেলিয়াছে। শুধুমাত্র মুখমণ্ডল এবং অন্তর অবশিষ্ট রহিয়াছে। যেখানে ঈমানের নূরচমকাইতেছে। জিবরাইল (আঃ) কে দেখা মাত্রই তাহারা বুঝিতে পারিবে যে, তিনি আযাবেরফিরিশতা নহেন। তাহার উজ্জল
মুখশ্রীতে অনুগ্রহের অভিব্যক্তি। তাহারা জিজ্ঞাসা করিবে, তিনি কে? এমন সুন্দর মুখশ্রী পূর্বেকখনো তো দেখি নাই। তাহাদিগকে বলা হইবে- তিনি জিবরাইল (আঃ)। তিনি হুযুর-এরকাছে ওহী লইয়া যাইতেন। তাহারা হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এরনাম শোনামাত্রই চিৎকার করিতে থাকিবে। (এবং বলিবে) হে জিবরাইল! আমাদের মনিবহুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আমাদের সালাম দিবেন- এবং এই কথাও বলিবেন যে, আমাদের কৃত পাপ আমাদেরকে তাঁহার সংস্পর্শ হইতে দূরেসরাইয়া রাখিয়াছে এবং ধ্বংস করিয়া দিয়াছে।
জিবরাইল (আঃ) প্রত্যাবর্তন করিবেন এবং মহান অনুগ্রহশীল আল্লাহর দরবারে সম্পূর্ণঘটনা বর্ণনা করিবেন।
তখন আল্লাহ তা’আলা বলিবেন- হে জিবরাইল! তাহারা তোমাকে কিছু বলিয়াছে কি? জিবরাইল (আঃ) উত্তর দিবেন-জি, হ্যাঁ। হুযুর আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সালাম পৌঁছাইতে এবং নিজেদের অবস্থার বর্ণনা দিতে বলিয়াছে।
আল্লাহ পাক নির্দেশ দিবেন যাও। তাহাদের বার্তা পৌঁছাইয়া দাও । এই কথা শোনামাত্রইজিবরাইল (আঃ) হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমীপে উপস্থিতহইবেন। তখন হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) চার হাজার দরজা বিশিষ্টএকটি সাদা মুক্তার তৈরী অট্টালিকায় বিশ্রামরত থাকিবেন। প্রতিটি দরজার উভয় পার্শ্বস্বর্ণের তৈরী। অতঃপর জিবরাইল (আঃ) সালাম দিবেন এবং বলিবেন- আপনারগোনাহগার উম্মতদের নিকট হইতে আসিয়াছি। তাহারা আপনার প্রতি সালাম বলিয়াছেএবং তাহাদের ধ্বংসের খবরও আপনার নিকট পৌছাইতে বলিয়াছে। তাহারা অত্যন্ত অস্থিরতাএবং দুঃখ কষ্টে নিমজ্জিত আছে।
হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এই খবর শোনা মাত্রই আরশের নীচেআসিয়া সিজদায় পড়িয়া যাইবেন এবং অভূতপূর্ব শব্দাবলীর দ্বারা আল্লাহর এমন প্রশংসাকরিবেন যাহা হুযুরের পূর্বে আর কেউ কোন দিন করে নাই।
আল্লাহ পাকের পক্ষ হইতে নির্দেশ হইবে, মাথা উঠান! যাহা চাহিবার আছে চান ! অবশ্যইচাহিদা পূরণ করা হইবে। যদি কাহারো জন্য সুপারিশ করিতে চাহেন তাহা হইলে তাহাওকরুন, গ্রহণ করা হইবে।
আল্লাহর দরবারে রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আবেদনকরিবেন- হে মেহেরবান আল্লাহ ! আমার গোনাহগার উম্মতের উপর আপনার আযাবেরফয়সালা হইয়া গিয়াছে। আর তাহাদেরকে তাহাদের পাপের শাস্তি দেওয়াও হইয়াছে। এখনতাহাদের সম্পর্কে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন।
ঘোষণা দেওয়া হইবে যে, আমি আপনার সুপারিশ গ্রহণ করিলাম। এখন আপনি নিজেইসেথায় গমন করুন এবং যে ব্যক্তি “লা ইলাহ্ ইল্লল্লাহ্” পড়িয়াছে তাহাকে দোযখ হইতে বাহিরকরিয়া আনুন।
অতঃপর হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) দোযখের দিকে যাইবেন, দোযখের দারোগা হুযুরকে দেখামাত্রই সম্মানার্থে দাড়াইয়া যাইবেন। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাহাকে জিজ্ঞাসা করিবেন- আমার গোনাহগার উম্মতেরকি অবস্থা? তিনিও উত্তর দিবেন, খুব খারাপ। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) দোযখের দরজা খোলার আদেশ দিবেন। তাহারা হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখামাত্রই চিৎকার করিয়া বলিবে, “ইয়া রাসুলুল্লাহ”! (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) অগ্নি আমাদের চামড়া এবং কলিজাজ্বালাইয়া দিয়াছে।
অতঃপর হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) সকলকে বাহির করিয়ালইবেন। তাহাদের সকলকেই কয়লার ন্যায় কাল বর্ণ দেখা যাইবে। তখন হুযুর (সাল্লাল্লাহুআলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাহাদিগকে জান্নাতে দরজার পার্শ্বে অবস্থিত রিয়াননামক নদীতে নিয়া গোসল দিবেন। তাহাতে গোসল করিয়া তাহারা অতি সুশ্রী যুবকের ন্যায়বাহির হইয়া আসিবে। তাহাদের মুখশ্রী চাঁদের ন্যায় নূরানী হইবে। তাহাদের কপালে লেখাথাকিবে - তাহারা ঐ সকল জাহান্নামী, যাহাদেরকে পাক করুণাময় আল্লাহ তায়ালা মুক্তিপ্রদান করিয়াছেন। অতঃপর তাহাদিগকে বেহেশতে প্রবিষ্ট করানো হইবে। তখন অবশিষ্টদোযখীরা আফসোসের সাথে বলিবে, হায়! যদি মুসলমান হইতাম, তাহা হইলে আজতাহাদের ন্যায় আমাদেরকেও বাহির করা হইত।
বহু সংখ্যক কাফির (আফসোসের সাথে) এই আকাংক্ষা করিবে যদি তাহারাও মুসলমানহইত।
তারপর মৃত্যুকে বেহেশতবাসী এবং দোযখবাসীদের সম্মুখে একটি দুম্বা আকৃতিতে যবেহকরিয়া দেওয়া হইবে এবং এই উভয় দলকে বলা হইবে যে, এখন থেকে আর কাহারও মৃত্যুআসিবেনা, যে যেখানে আছে অনন্তকাল সেখানেই থাকিবে।
🙏🏻হে মুক্তিদাতা! মহান রব! আমাদেরকে দোযখ হইতে মুক্তি দান করুন। আমিন॥
পরবর্তী পর্ব
বেহেস্ত এবং বেহেশতবাসী
----------

Comments
Post a Comment