আমরা সে জাতি (১৬) উমার ইবনে ইয়াসিরের নামায

 

📚আমরা সেই সে জাতি - ‍১৫ 

উমার ইবনে ইয়াসিরের নামায—
নবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কোন এক যুদ্ধ থেকে ফিরছিলেন। এক পাহাড়ী এলাকায় এসে সন্ধ্যা হলো। পাহাড়ের এই উপত্যকায় রাত্রি কাটাবেন বলে তিনি মনস্থকরলেন। তিনি পাহাড় থেকে কিঞ্চিত দূরে সমতল উপত্যকায় তাঁবু খাটাতে নির্দেশ দিলেন।
রাত্রিবাসের সব ব্যবস্থা সম্পন্ন হলে তিনি সাহাবাদের জিজ্ঞেস করলেন, "কাফিলা ও সৈন্যদলের পাহারায় আজ কাদের রাখা যাবে?” অমনি একজন মুহাজির ও একজন আনসার উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, "এ দায়িত্ব আজকের রাতের জন্য আমাদের দিন।” 
মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তৎক্ষণাৎ সন্তুষ্টচিত্তে তাদের আবেদন মঞ্জুর করলেন। তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন, "পাহাড়ের ঐ এলাকা দিয়ে শত্রু আসবার ভয় আছে, ঐ খানে গিয়ে তোমরা দুজন পাহারা দাও।”

মুহাজিরের নাম ছিল আবদুল্লাহ ইবন বাশার আর আনসার ব্যক্তির নাম ছিল উমার ইবন ইয়াসির। মহানবীর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ মুতাবিক তাঁরাদুজন পাহাড়ের নির্দিষ্ট জায়গায় চলে গেলেন। অতঃপর আনসার মুহাজির ব্যক্তিকে বললেন, "আমরা দু'জন এক সংগে না জেগে বরং পালা করে পাহারা দিই। রাতকে দু'ভাগ করে একাংশে তুমি জাগবে, অপর অংশে জাগব আমি। এতে করে দু'জনের একসঙ্গে ঘুমিয়েপড়ার ভয় থাকবে না।”
এই চুক্তি অনুসারে রাতের প্রথম অংশের জন্য মুহাজির আব্দুল্লাহ ইবন বাশার ঘুমালেন। আর পাহারায় বসলেন আনসার উমার ইবন ইয়াসির।
পাশে আব্দুল্লাহ ঘুমোচ্ছেন। ইয়াসির বসে ছিলেন পাহারায়। শুধু শুধু বসে বসে আর কাহাতক সময় কাটানো যায়। অলসভাবে সময় কাটাতে ভাল লাগছিল না তাঁর। কাজেই অযু করে নামাযে দাঁড়ালেন। এমন সময় পাহাড়ের ওপাশ থেকে আসা শত্রুদের একজনের নজরে পড়েগেলেন তিনি। এক ব্যক্তিকে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আর কেউ আছে কিনা তা পরখ করার জন্য আনসারকে লক্ষ্য করে সে তীর ছুড়লো। পরপর দু'টি তীর গিয়ে তাঁর পাশে পড়ল। কিন্তু আনসার অচল অটল ভ্রুক্ষেপহীন। তৃতীয় তীর গিয়ে ইয়াসিরের পায়ে বিদ্ধহলো। ইয়াসির তবু অচঞ্চল। এই ভাবে পরপর কয়েকটি তীর এসে তাঁর গায়ে বিঁধল। ইয়াসির তীরগুলো গা থেকে খুলে ফেলে রুকু-সিজদা সহ নামায শেষ করলেন। নামায শেষ করে ইয়াসির আব্দুল্লাহকে ডেকে তুললেন। আবদুল্লাহ তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ালেন। দূরে পাহাড়েরএ পাশে দাঁড়ানো শত্রু একজনের স্থলে দুজনকে দেখে মনে করল, নিশ্চয় আরও লোক পাহারায় আছে। এই ভেবে আর সামনে বাড়তে সাহস পেলো না। পালিয়ে গেল। 
আবদুল্লাহ জেগে উঠে ইয়াসিরের রক্তাক্ত দেহের দিকে তাকিয়ে বললেন, "কেন তুমি আমাকে আগেই জাগাওনি?”
আনসার উমার ইবন ইয়াসির বললেন, "আমি নামাযে সূরা কাহাফ পড়ছিলাম। সূরাটা শেষনা করে রুকু দিতে মন চাইছিল না। কিন্তু ভাবলাম, তীর খেয়ে যদি মরে যাই, তাহলে মহানবীর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আদিষ্ট পাহারার দায়িত্ব, পালন করা হবে না।তাই তাড়াতাড়ি রুকু সিজদা করে নামায শেষ করেছি। এ ভয় যদি না থাকত তাহলে মরে গেলেও সূরাটি খতম না করে আমি রুকুতে যেতাম না।”
---------

Comments

Popular posts from this blog

কারামত - (আনা সাগরের পানি ছোট্ট পাত্রে চলে আসার রহস্য)

প্রকৃত সাধক তার উপযুক্ত মুরীদকেই সাজ্জাদানশীল করেন

মে’'রাজ (পর্ব- ১)