ইসলামের বাস্তব কাহিনী (১৭) এক মরুযাত্রী কাফেলা
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর
কাহিনী নং- ১৭
কাহিনী নং - ১৭
এক মরুযাত্রী কাফেলা—
আরবের মরুভূমির মধ্যে দিয়ে এক বিরাট কাফেলা যাচ্ছিল, হঠাৎ ওদের পানি শেষ হয়ে যায়। সেই কাফেলায় বড়, ছোট, বৃদ্ধ, যুবক মহিলা সবাই ছিল। তৃষ্ণার তাড়নায় সবের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছিল। অনেক দূর পর্যন্ত পানির কোন নাম নিশানা ছিল না। ওদের কাছে এক ফোঁটা পানিও অবশিষ্ট ছিল না। এ অবস্থা দেখে মুত্যু ওদের সামনে নৃত্য করতে লাগলো। কিন্তু ওদের প্রতি বিশেষ রহমত হলো।
হঠাৎ উভয় জাহানের সাহায্যকারী মুহাম্মদ মুস্তাফা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ওদের সাহায্যার্থে তথায় পৌঁছে গেলেন। হুযূরকে দেখে সবার দেহে প্রাণ ফিরে আসলো। সবাই হুযুরের চারিদিকে সমবেত হয়ে গেল। হুযূর ওদেরকে সান্তনা দিলেন এবং ফরমালেন, সামনে যে টিলা আছে, এর পিছন দিয়ে এক কাল রং এর হাবশী গোলাম উষ্ট্রীর উপর আরোহন করে যাচ্ছে। ওর কাছে পানির একটি মোশক আছে। ওকে উষ্ট্রীসহ আমার কাছে নিয়ে এসো। নির্দেশ মত কয়েকজন টিলার ওপারে গিয়ে দেখলো যে বাস্তবিকই উষ্ট্রীই উপর আরোহন করে এক হাবশী যাচ্ছে। ওরা সেই হাবশীকে হুযুরের কাছে নিয়ে আসলো, হুযূর ওর কাছ থেকে মোশকটা নিয়ে সেটার উপর তাঁর রহমতের হাতটা বুলায়ে ওটার মুখ খুলে দিলেন এবং ফরমাালেন, এখন তোমরা যে রকম তৃষ্ণান্ত হওনা কেন, এসো পানি পান করে নিজেদের তৃষ্ণা নিবারণ কর। কাফেলার সবাই সেই মোশক থেকে প্রবাহিত রহমতের ঝর্ণা থেকে পানি পান করতে শুরু করলেন এবং সবাই নিজ নিজ পাত্রও ভরে নিতে লাগলেন। এভাবে সবাই তৃপ্ত হলেন এবং সবাই পাত্রও ভরে নিলেন। হুযূরের এ মুজিজা দেখে সেই হাবশী গোলাম ভীষণ আশ্চর্য হলে গেল এবং হুযুরের হাত মোবারকে চুমু দিতে লাগলো। হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নুরানী হাত ওর মুখের উপর বুলায়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে সেই হাবশীর কাল রং উজ্জ্বল সাদা রং এ রূপান্তরিত হয়ে গেল। অতঃপর সেই হবশী কলেমা পড়ে নিজের অন্তরকেও আলোকিত করে নিল।
মুসলামান হয়ে সে যখন স্বীয় মুনিবের কাছে ফিরে গেল, তখন মুনিব জিজ্ঞেস করলো তুমি কে? সে বললো, আপনার গোলাম। মুনিব বললো, তুমি, মিথ্যা বলছ, আমার গোলামের গায়ের রং তো কালো। সে বললো, আপনার কথা ঠিক। কিন্তু আমি সেই নূরের উৎস বরকতময় সত্ত্বা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে দেখা করে তাঁর উপর ঈমান এনে এসেছি। যিনি সমগ্র সৃষ্টিকূল আলোকিত করেদিয়েছেন। সমস্ত কাহিনী শুনে, মুনিবও মুসলমান হয়ে গেল। (মছনবী শরীফ)।
সবক: আমাদের হুযূর আল্লাহর অনুমতিতে উভয় জাহানের কল্যাণকারী এবং মছিবতের সময় সাহায্যকারী। এরপরও যদি কেউ এ রকম বলে যে, হুযূর কারো সাহায্য করতে পারেন না এবং কারো ফরিয়াদ শুনেন না, তাহলে সে মস্তবড় জাহিল ও অজ্ঞ।
--------------------------

Comments
Post a Comment