ইসলামের বাস্তব কাহিনী (১০) রোকানা পলোয়ান



📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর
কাহিনী নং- ১০

রোকানা পলোয়ান—
বনী হাশেম গোত্রে রোকানা নামে এক মুশরিক পলোয়ান ছিল। সে খুব শক্তিশালী ও সাহসী ছিল। ওকে কেউ পরাভূত করতে পারেনি। সে ইজম নামে এক জংগলে থাকতো, ওখানে ছাগল চড়াতো এবং খুবই সম্পদশালী ছিল। একদিন হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) একাকী সেই জংগল দিয়ে যাচ্ছিল। রোকানা তাঁকে দেখে সামনে এসে বললো, হে মুহাম্মদ! তুমিতো সেই ব্যক্তি, যে আমাদের দেবতা লাত ও উজ্জার কুৎসা রটনা ও ঘৃনা কর এবং স্বীয় এক খোদার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা কর। তোমার প্রতি যদি আমার সহানুভূতি না থাকতো, তাহলে আজ আমি তোমাকে মেরে ফেলতাম। যাক আমার সাথে কুস্তি লড়তে এসো, তুমি তোমার খোদাকে ডাক আর আমি আমার লাত ও উজ্জাকে ডাকতেছি। দেখি, তোমার খোদার কাছে কত শক্তি আছে। হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) ফরমালেন, তুমি যদি সত্যি কুস্তি লড়তে চাও, তাহেল চল, আমি প্রস্তুত আছি। রোকানা এ জবাব শুনে প্রথমে হতভম্ব হয়ে গেল। পরে ভীষণ অহংকারের সাথে কুস্তি লড়ার জন্য দাঁড়িয়ে গেল।

হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) প্রথম ধাক্কায় ওকে ফেলে দিলেন এবং ওর বুকের উপর বসে গেলেন। রোকানা জীবনে এই প্রথমবার ধরাশায়ী হয়ে বড় লজ্জিত ও আশ্চর্যান্বিত হয়ে গেল। সে বললো, হে মুহাম্মদ! আমার বুক থেকে উঠে যাও। আমার লাত ও উজ্জা আমার দিকে খেয়াল করেনি। আর একবার কুস্তি লড়ার সুযোগ দাও। হুযূর ওর বুক থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেলেন। রোকানাও দ্বিতীযবার কুস্তির জন্য দাঁড়ালো। এবারও রোকানাকে চোখের পলকে ফেলে দিলেন। রোকানা বললো, হে মুহাম্মদ! মনে হয় আজ আমার লাত ও উজ্জা আমার উপর নারাজ। তোমার খোদা তোমাকে সাহায্য করতেছে। যাক চল, আর একবার লড়ে দেখি। এবার লাত ও উজ্জা নিশ্চয় আমাকে সাহায্য করবে। হুযূর তৃতীয় বারও কুস্তি লড়ায় জন্য রাজি হয়ে গেলেন এবং তৃতীয় বারও ওকে পরাভূত করলেন। এবার রোকানা বড় লজ্জিত হলো এবং বললো, হে মুহাম্মদ! আমার ছাগলগুলোর মধ্যে থেকে যতটি চাও নিয়ে যাও। হুযূর ফরমালেন রোকানা আমার তোমার সম্পদের প্রয়োজন নেই। তবে মুসলমান হয়ে যাও, যাতে জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পার। সে বললো, হে মুহাম্মদ! মুসলমানতো হয়ে যেতে পারি কিন্ত মনে সঙ্কোচবোধ হচ্ছে মদীনা ও এর পাশ্ববর্তী এলাকার মহিলারা ও শিশুরা বলবে যে এত বড় পলোয়ান পরাজিত হলো এবং মুসলামান হয়ে গেল। তোমার সম্পদ নিয়ে তুমি থাক, এ বলে হুযূর ফিরে চলে আসলেন। এদিকে হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রাদি আল্লাহু আনহুমা) তাঁর তালাশে বের হলেন এবং হুযূর ইজমের জংগলের দিকে তশরীফ নিয়ে যাওয়ার কথা শুনে খুবই চিন্তিত ছিলেন। কেননা ওদিকে রোকানা পলোয়ান থাকে, হয়তো হুযূরকে কষ্ট দিতে পারে। যাক হুযূরকে ফিরে আসতে দেখে উভয়ে হুযূরের খেদমতে হাজির হলেন এবং আরয করলেন, ইয়া রসুলল্লাহ! আপনি ওদিকে কেন গেলেন, আপনি কি জানেন না যে ওদিকে ইসলামের পরম শত্রু রোকানা থাকে? হুযূর এটা শুনে মুচকি হেসে বললেন, যখন আমার আল্লাহ সব সময় আমার সাথে আছে, তখন রোকানাকে ভয় করার কি আছে? রোকানার বাহাদুরীর কাহিনী শুন-এ বলে তিনি সমস্ত কাহিনী শুনালেন। হযরত ছিদ্দিকে আকবর ও ওমর ফারুক এ ঘটনা শুনে খুবই খুশী হলেন এবং আরয করলেন, হুয়ূর সে এমন পলোয়ান ছিল যে আজ পর্যন্ত ওকে কেউ ফেলতে পারেনি। ওকে ফেলাটা একমাত্র আল্লাহর রসূলের কাজ। (আবু দাউদ ২০ পৃঃ ২ জিঃ)।

সবক : আমাদের হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি  ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক ফযীলত ও কামালিয়াতের ভাণ্ডার। দুনিয়ার কোন শক্তি হুযুরের সামনে অটল থাকতে পারে না। বিরোধীতাকারীরাও হুযূরের ফযীলত ও কামালিয়াত সম্পর্কে জ্ঞাত কিন্তু দুনিয়াবী লজ্জার কারণে স্বীকার করে না।
----------------------------

Comments

Popular posts from this blog

কারামত - (আনা সাগরের পানি ছোট্ট পাত্রে চলে আসার রহস্য)

প্রকৃত সাধক তার উপযুক্ত মুরীদকেই সাজ্জাদানশীল করেন

মে’'রাজ (পর্ব- ১)