আমরা সে জাতি (১২) আবদুল্লাহ ও সা'দের অভিলাষ

 

📚আমরা সেই সে জাতি - ‍১২ 

আবদুল্লাহ ও সা'দের অভিলাষ —
উহুদের যুদ্ধ ক্ষেত্র। যুদ্ধের আগের দিন সন্ধ্যা। হযরত আবদুল্লাহ ইবন জাহাশ গিয়ে সা'দইবন রাবীকে বলল, "চল আমরা একত্রে দোয়া করি। আমি দোয়া করব, তুমি 'আমীন' বলবে। আবার তুমি দোয়া করবে, আমি 'আমীন' বলব।”

প্রথমেই প্রার্থনা করলেন হযরত সা'দ। তিনি দু'টি হাত উর্ধে তুলে বললেন, "হে আল্লাহ, আগামী কালের যুদ্ধে এক ভীষণ যোদ্ধা আমাকে জুটিয়ে দিন তাকে যেন যুদ্ধে পরাজিত করে আমি গাজী হতে পারি আর তার পরিত্যক্ত মাল-সম্ভার আমি লাভ করি।” সা'দের এ প্রার্থনায় আবদুল্লাহ ইবন জাহাশ 'আমীন' বললেন। 
তারপর জাহাশের পালা। জাহাশ দু'টিহাত তুলে মহা প্রভুর দরবারে সানুনয় প্রার্থনা জানালেন, "হে আল্লাহ, আগামী কাল যুদ্ধে আমাকে অতি বড় এক শত্রুর মুখোমুখি করুন। আমি যেন সর্বশক্তি দিয়ে তার মুকাবিলা করি এবং অবশেষে যেন শাহাদাতের অমৃত স্বাদ লাভ করতে পারি। শত্রুরা যেন আমার নাক-কান কেটে নেয়। পরে কিয়ামাতের দিন আমি যখন আপনার সমীপে উপস্থিত হবো, তখন আপনি জিজ্ঞেস করবেন, 'আব্দুল্লাহ, তোমার নাক-কান কেন কাটা গেছে?' তখন আমি উত্তর দেবো, 'হে আল্লাহ, আপনার এবং আপনার রাসূলের রাস্তায় কাটা গেছে। তখন আপনি বলবেন, "হ্যাঁ, সত্যিই আমার রাস্তায় কাটা গেছে।” আবদুল্লাহর প্রার্থনা শেষে সা'দ'আমীন' বললেন।

পরের দিন উহুদের ঘোরতর যুদ্ধে তাঁদের প্রার্থনা অনুসারেই ঘটনা ঘটল। সা'দ গাজী হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে এলেন। কিন্তু হযরত আবদুল্লাহ ইবন জাহাশ তাঁর প্রার্থনা মুতাবিক শহীদ হলেন। সন্ধ্যার সময় যখন শহীদের লাশগুলোর সন্ধান করা হলো, তখন দেখা গেল, যুদ্ধক্ষেত্রের কেন্দ্রভূমিতে আবদুল্লাহ শহীদ হয়ে পড়ে আছেন। তাঁর নাক-কান কাটা। তাঁরহাতে তখনও তরবারি ধরা। কিন্তু শহীদের সে তরবারির অর্ধাংশ ভাঙা।
--------------------------

Comments

Popular posts from this blog

কারামত - (আনা সাগরের পানি ছোট্ট পাত্রে চলে আসার রহস্য)

প্রকৃত সাধক তার উপযুক্ত মুরীদকেই সাজ্জাদানশীল করেন

মে’'রাজ (পর্ব- ১)