ইসলামের বাস্তব কাহিনী (৯) তন্ত্র মন্ত্র দ্বারা চিকিৎসাকারী
📚ইসলামের বাস্তব কাহিনী ✍🏻আবুন-নুর মুহাম্মদ বশীর
কাহিনী নং-৯
কাহিনী নং- ৯
তন্ত্র মন্ত্র দ্বারা চিকিৎসাকারী—
ইয়ুশানূয়া গোত্রের জামাদ নামক এক ব্যক্তি তন্ত্র মন্ত্র দ্বারা মানুষের উপর জ্বীন-ভূত ইত্যাদির আছরের চিকিৎসা করতো। একবার সে মক্কা মুয়াজ্জামায় গিয়েছিল। তখন কতেক লোককে এটা বলতে শুনলো যে মুহাম্মদের উপর জ্বীনের আছর হয়েছে বা পাগল হয়ে গেছে (মায়াজাল্লা)। জামাদ বললো, আমি তন্ত্র মন্ত্র দ্বারা এ রকম রোগের চিকিৎসা করে থাকি। আমাকে দেখাও, সে এখন কোথায়? ওরা ওকে হুযুরের কাছে নিয়ে গেল। জামাদ যখন হুযুরের কাছে গিয়ে বসলো, তখন হুযুর ফরমালেন, জামাদ, তোমার তন্ত্র মন্ত্র পরে শুনাও, প্রথমে আমার কথা শুন, অতপর তিনি তাঁর পবিত্র মুখে এ খুৎবাটি পড়তে শুরু করলেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তাঁরই প্রশংসা করছি। তাঁরই সাহায্য কামনা করছি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তাঁর উপর ঈমান এনেছি এবং তাঁর উপর ভরসা করেছি। আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি নফসের কুমন্ত্রনা থেকে এবং মন্দ আমল থেকে। আল্লাহ যাকে হিদায়েত করে তাকে কেউ গুমরাহ করতে পারে না আর যাকে গুমরাহ করে, তাকে কেউ হিদায়েত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই আরও সাক্ষী দিচ্ছি মুহাম্মদ তাঁরই বান্দাও রসূল।
জামাদ এ খুৎবা শুনে বিভোর হয়ে গেল এবং আরয করতে লাগলো, হুযুর! পুনরায় আর একবার পড়ুন। হুযুর পুনরায় সেই খুৎবা পাঠ করলেন। এবার জামদ (যে জ্বীনের আছর তাড়াতে এসেছিল, তার উপর থেকে কুফরীর আছর কিভাবে দূরীভূত হলো, দেখুন) আর স্থির থাকতে পারলো না। বলে উঠলো, খোদার কসম, আমি অনেক যাদুকর জ্যোতিষী ও কবিদের কথা শুনেছি। কিন্তু আপনার থেকে যা শুনেছি, এটাতো অর্থের দিক দিকে এক বিশাল সমুদ্র। আপনার পবিত্র হাত বাড়িয়ে দিন, আমি আপনার হাতে বায়াত হচ্ছি। এ বলে সে মুসলমান হয়ে গেল এবং যারা ওকে হুযূরের চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছিল, তারা আশ্চর্য ও নিরাশ হয়ে ফিরে গেল (মুসলিম ৩২০পৃঃ ১ম জিঃ)।
সবক: আমাদের হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর পবিত্র মুখে এমন তাছির ছিল যে, বড় বড় পাষাণ হৃদয়ও গলে মোম হয়ে যেত। আমাদের হুযুরকে যারা যাদুকর ও পাগল বলতো, বাস্তবে ওরাই পাগল ছিল। অনুরূপ আজও যারা হুযুরের জ্ঞান ও ক্ষমতা এবং নূরের অস্বীকার করে, তারাও মূলতঃ নিজেরাই মূর্খ, কুটিল মনা ও মলিন চেহারাধারী।
---------------------

Comments
Post a Comment